আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ব্যবসায় নৈতিকতা অধ্যয়নের গুরুত্ব। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৯ এর অন্তর্গত।
ব্যবসায় নৈতিকতা অধ্যয়নের গুরুত্ব

নৈতিকতা হলো এমন বিষয়, যা মানুষকে যৌক্তিক আচরণ করতে শেখায়। অর্থাৎ, কোনো ক্ষেত্রে কর্তব্য পালনে কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ, কোনটি যৌক্তিক বা অযৌক্তিক তা বিচার বিশ্লেষণ করতে শিক্ষা দেয়। ব্যবসায় নৈতিকতা পাঠ করে মানুষ জানতে পারে যে, ব্যবসায়ে বিদ্যমান বিভিন্ন পক্ষের প্রতি কীভাবে যৌক্তিক আচরণ প্রদর্শন করা যায়।
ব্যবসায়ে নৈতিকতা বিষয়টি গত কয়েক দশক ধরে উন্নতি লাভ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবসায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতি এমন আচরণ করা যাতে সরকারসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অন্যান্য সকল পক্ষ উপকৃত হয়। তাছাড়া ব্যবসায় নৈতিকতা অধ্যয়নের মাধ্যমে ব্যক্তি নৈতিকভাবে সচেতন হয়; মূল্যবোধ জাগ্রত হয় এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বিচার ও যৌক্তিকতা প্রকাশ পায়।
সুতরাং ব্যবসায় নৈতিকতা অধ্যয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
১. নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, বিচার ও সচেতনতা ব্যতীত মানুষ জন্তুর সমান। ব্যবসায় নৈতিকতা মানুষের আচরণকে সংযত করে।
২. ছাত্রদের মধ্যে যারা উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি হয়, তারা এ বিষয় অধ্যয়ন করে বিধায় সহজে অন্যকে কষ্ট দেয় না; বরং তারা ন্যূনতম হলেও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকে সেবা প্রদান করে থাকে। তারা নৈতিকতার শক্তিকে বড় শক্তি মনে করে ।
৩. অত্র বিষয় অধ্যয়নের ফলে উভয়পক্ষ লেনদেনে উভয়পক্ষের স্বার্থের প্রতি খেয়াল রাখে ।
8. সরকার ও নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ (Regulatory Authority) তাদের দায়িত্ব পালনে সচেতন থাকে ।
৫. ব্যবসায় নৈতিকতা অধ্যয়ন করলে এমন সমাজ গঠন করা সম্ভব যেখানে সকলেই ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকে এবং কেউ কারো উন্নয়নে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে না।
পরিশেষে বলা যায় যে, ব্যবসায় নৈতিকতা পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, এর জ্ঞান মানুষকে যৌক্তিক আচরণ শেখায় এবং মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা জাগ্রত করতে পারে ।

