আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় আইনের প্রধান উপাদানসমূহ । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৪ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
আইনের প্রধান উপাদানসমূহ

আইনের প্রধান উপাদানসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
(ক) সমপরিশোধ আইন:
চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য থেকে শ্রমিকদেরকে রক্ষা করার জন্য সমপরিশোধ আইন পাশ করা হয় মার্কিন কংগ্রেসে। ১৯৬৩ সালে এ আইনটি পাশ করা হয়। যে সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে দক্ষতা, প্রচেষ্টা ও দায়িত্ব প্রভৃতির দরকার হয় এবং একই কার্য পরিবেশে কাজ করতে হয়, সে সকল ক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য পরিহার করা হয়েছে এ আইনে।
তবে এ আইনে চারটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে, যেমন-
(i) যেখানে চাকরির জ্যেষ্ঠতা বিচারে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, সেখানে পুরুষ জ্যেষ্ঠ হলে পারিশ্রমিক বেশি পাবে।
(ii) কার্যসম্পাদনের মান অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়া হলে, তা আইনসম্মত হবে। অর্থাৎ কোনো পুরুষ যদি মহিলার তুলনায় গুণগত কার্যসম্পাদন করে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক মজুরি বেশি পাবে।
(iii) উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনায় পারিশ্রমিকের পার্থক্য হতে পারে। এটিকে Piece-rate system বলা হয়। অর্থাৎ পুরুষ মহিলার চেয়ে বেশি উৎপাদন করলে, পারিশ্রমিক বেশি পাবে ।
(iv) সর্বোপরি কার্যক্ষেত্রের উপাদানের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কার্যক্ষেত্রের পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরুষ বা মহিলা যে কেউ পারিশ্রমিক বেশি পেতে পারে। এটি মালিক কর্তৃক নির্ধারিত হবে। এটিকে বলা হয় “Factors other than Sex” ।
(খ) নাগরিক অধিকার আইন-১৯৬৪:
১৯৬৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে নাগরিক অধিকার আইন-১৯৬৪ পাস করা হয়। এ আইনে কতগুলো সেকশন রয়েছে সেগুলোকে টাইটেল (title) বলা হয়। যেমন- টাইটেল-VII হলো চাকরিসংক্রান্ত। এটি চাকরিদাতা, পলিসিমেকার, আইন ও জুডিশিয়ারির সদস্যদের নিকট “Title-VII” নামে পরিচিত।
এ আইনে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, জাতীয়তাভেদে চাকরিতে বৈষম্য করা নিষেধ করা হয়েছে। চাকরির অবস্থান বলতে বুঝানো হয়েছে- কর্মী নিয়োগ, ছাঁটাই, পদোন্নতি, বদলি, পারিশ্রমিক, বেতন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভর্তি প্রভৃতি। এ সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য করা যাবে না। এ আইনটি সকল প্রাইভেট ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য। এমনকি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি প্রযোজ্য। এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা পরিবীক্ষণ করার জন্য গঠন করা হয় The equal employment opportunity commission (EEOC) |
(গ) চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের বৈষম্য আইন-১৯৬৭:
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৭ সালে চাকরিতে বয়ঃসীমা উঠিয়ে দিয়ে আইন পাস করা হয় যা ‘Age Discrimination in Employment Act of 1967′-নামে অভিহিত। এখানে বলা হয়েছে যে, কোনো কর্মীর বয়স ৪০ বা তদোর্ধ্ব হলেই চাকরি পাবে না, তা নয়।
এটি এ আইনে রহিত করা হয় এবং অবসরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়ঃসীমাও উঠিয়ে দেওয়া হয় । তবে কিছু কিছু পেশায় অবসর সীমা অনুমোদন দেওয়া হয়; যেমন: জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে যারা কাজ করে। তাদের ক্ষেত্রে অবসর সীমা প্রযোজ্য।
এ আইনটি ১৯৯০ সালে সংশোধন করা হয় “Older workers protection Actral Minda Act” এখানে বলা হয় যে, মালিকপক্ষ ইচ্ছা করলেই বয়স্ক কর্মীদেরকে ছাটাই করতে পারবে না এবং বৃদ্ধ বয়সে কোন সুবিধা Go to Settings to act প্রদানের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ কোনো waiver বা সুবিধা নেওয়ার জন্য কর্মীদের নিকট হতে সই নিতে পারবে না। EEOC এটি পরিবীক্ষণ করে থাকে।
(ঘ) পুনর্বাসন আইন-১৯৭৩:
এ আইন দ্বারা প্রতিবন্ধী (Handicap) কর্মীদের প্রতি বৈষম্য নিরোধ করা হয়। তবে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ এর আওতার বাইরে রয়ে গেছে। প্রতিবন্ধী কারা সে সম্পর্কে বলা হয়েছে-
(i) যে ব্যক্তির অঙ্গহানি সীমিত বা সাম্প্রতিক সমস্যা অথবা মানসিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিক জীবনের কাজ-কর্ম সীমিত হয়ে পড়েছে।
(ii) যে ব্যক্তির অঙ্গহানির ইতিহাস বা রেকর্ড আছে।
(iii) যে ব্যক্তি অঙ্গহীন বা প্রতিবন্ধী হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এ আইনে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কানো রকম বৈষম্যের সুরক্ষা ব্যতীত যদি অন্য কোনো যোগ্যতা দিয়ে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে তা হলে মালিকপক্ষকে যৌক্তিকভাবে সে সুযোগ করে দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, যৌক্তিকতা নির্ভর করবে পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর।
(ঙ) গর্ভবতী বৈষম্য আইন-১৯৭৮:
এই আইনের মাধ্যমে মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে যে, গর্ভবতী মহিলাদের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না এবং গর্ভকালীন সময়ে ছুটি মঞ্জুর করতে হবে, অন্য যে কোনো চিকিৎসাকালীন অবস্থার মতোই। এতে আরো বলা হয়েছে যে, গর্ভবতী মেয়েরা কাজে যোগদান করলে তাদেরকে পুনরায় বহাল করার প্রয়োজন নেই এবং চাকরিদাতারা ছুটি গণনা করতে পারবে না। মালিকগণ তাদেরকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না ।
(চ) নাগরিক অধিকার আইন-১৯৯১:
মার্কিন কংগ্রেসে “Title VII”- এর অধীনে ব্যক্তির অধিকার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন আইনটি হলো Civil Rights Act of 1991। এতে চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, যেমন-
(i) ফেডারেল সরকারের কর্মীদের “Title VII”- সংরক্ষনের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
(ii) এতে কর্মীরা ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির জন্য সংঘটিত ক্ষতি যেমন- বেতন, সুবিধাদি ও এটর্নিদের ফিস ইত্যাদি ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা করতে পারবে।
(iii) অবৈধ বৈষম্য সম্পর্কে উপস্থাপিত দাবিসমূহ যে মিথ্যা তা মালিকদেরকে কোর্টের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।
(iv) বিদেশগামী কর্মীদেরকে সুরক্ষা দিতে হবে যদি না প্রমাণিত হয় যে, সংশ্লিষ্ট কর্মী কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত।
(ছ) পরিবার ও চিকিৎসা ছুটি আইন-১৯৯২:
পরিবার ও চিকিৎসা ছুটি আইন-১৯৯২ অনুসারে মালিক তার কর্মীদেরকে সন্তান জন্মদান, সন্তান ধারণ, শিশুর অসুস্থতা, পরিবারের অন্য কারো অসুস্থতা কিংবা কর্মীর নিজের অসুস্থতা প্রভৃতি কারণে বছরে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত বিনা বেতনে ছুটি মঞ্জুর করবেন।
এটি সেই সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য যেখানে কমপক্ষে ৫০ জন কর্মী কাজ করে। আর সেই সকল কর্মী এ সংরক্ষণ সুবিধা পাবেন যারা সপ্তাহে কমপক্ষে ১২ ঘন্টা কাজ করার সুযোগ লাভ করে এক বছরে অথবা বছরে মোট ১২৫০ ঘন্টা আর উচ্চ বেতনধারী কর্মীগণ FMLA এর সুবিধা পাবেন না ।

ছুটি চলাকালীন সময়ে মালিককে দলগত স্বাস্থ্যবিমা চালিয়ে যেতে হবে এবং কর্মীরা অবশ্যই ছুটি শেষে পূর্বের পদে যোগদানের সুযোগ পাবে। এ ছাড়াও কোনো মালিক এর চেয়ে বেশি কিছু দিতে চাইলে তা দিতে পারবে। যেমন- আরো লম্বাছুটি, সবেতন ছুটি অথবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা; যেমন: ছুটি শেষ হয়ে গেলেও বাড়িতে বসে কাজ অফিস এর করা ইত্যাদি ।
