সি এস আর উন্নয়ন কৌশল

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় সি এস আর উন্নয়ন কৌশল। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১২ এর অন্তর্গত।

সি এস আর উন্নয়ন কৌশল

 

সি এস আর উন্নয়ন কৌশল

 

সিএসআর একাডেমির যোগ্যতা কাঠামোয় সিএসআর কৌশল উন্নয়নের ভিত্তি প্রদান করা হয়েছে। সেখানে ৬টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে যা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে :

১। সমাজকে অনুধাবন (Understanding Society) :

এটি অনুধাবন করতে হবে যে, কীভাবে ব্যবসায় বড় পরিসরে কাজ করে এবং এটিও জানতে হবে যে, ব্যবসায় সমাজের অন্তর্ভুক্ত থাকলে সামাজিক ও পরিবেশগত কী প্রভাব পড়ে।

২। সক্ষমতা উন্নয়ন (Building Capacity) :

ব্যবসায়ের সাথে জড়িত অন্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে যেন তারা ব্যবসায় পরিচালনায় সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: সরবরাহকারী জানে যে, কোন পরিবেশে কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে এবং কর্মীরা তাদের প্রতিদিনের কাজে সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলো প্রয়োগ করতে পারে।

৩। ব্যবসায়কে স্বাভাবিক প্রশ্ন (Questioning Business – As – Usual) :

ব্যক্তিরা ব্যবসায়কে প্রতিনিয়ত তাদের অধিক টেকসই ভবিষ্যতের জন্য প্রশ্ন করতে পারে এবং জীবনমান উন্নয়ন ও পরিবেশের জন্য কাজ করতে পারে।

8। স্বার্থভোগীদের সম্পর্ক (Stake holders Relations) :

এটি অনুধাবন করতে হবে যে, প্রকৃত স্বার্থভোগী কারা এবং কী ঝুঁকি ও সুযোগ উপস্থাপন করে। কাজের ক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা ও মতামত গ্রহণ করতে হবে ।

৫৷ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি (Strategic View) :

এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, ব্যবসায়ে সামাজিক ও পরিবেশগত দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করা হয়েছে। কারণ এগুলো ব্যবসায় কার্যসম্পাদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। Go to Settings to acti

৬। বৈচিত্র্যতা আনয়ন (Harnessing Diversity) :

সমাজের সকলেই এক রকম নয়। তারা বিভিন্ন ধরনের। তাই এক্ষেত্রে ন্যায়ানুগ ও স্বচ্ছভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে বুঝতে হবে তাদের প্রতি ব্যবসায়ের শ্রদ্ধা রয়েছে। উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্য ও নীতির আলোকে সিএসআর কৌশল উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হলে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখা প্রয়োজন:

  • ব্যবসায় ও সামাজিক পরিবেশ সম্পর্কে অনুধাবন করতে হবে যেখানে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে।
  • ব্যবসায় ও মানব সম্পদ কৌশল সম্পর্কে এবং কীভাবে সিএসআর কৌশল সংযুক্ত করা যায় তা জানতে হবে।
  • প্রকৃত স্বার্থভোগী কারা (উচ্চ ব্যবস্থাপকসহ) এবং সিএসআর এর প্রতি তাদের প্রত্যাশা কি তা অনুসন্ধান
  • করতে হবে। যে সকল ক্ষেত্রে সিএসআর কার্যক্রম চলতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ের আলোকে এর যৌক্তিকতা কী তা চিহ্নিত করতে হবে এবং স্বার্থভোগীদের এর গুরুত্ব মুল্যায়ন করতে হবে।
  • প্রতিষ্ঠান ও এর স্বার্থভোগীদের প্রতি সিএসআর কর্মসূচির গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা পরিমাপের উপর ভিত্তি করে কৌশলের অগ্রাধিকার বা গুরুত্ব নির্ধারণ করতে হবে।
  • কৌশল প্রণয়ন করতে হবে এবং উচ্চ পর্যায় ব্যবস্থাপনা ও স্বার্থভোগীদের নিকট কেস আকারে প্রেরণ।
  • উচ্চপর্যায় ব্যবস্থাপনা ও স্বার্থভোগীদের নিকট থেকে সিএসআর এর অনুমোদনপ্রাপ্তি।
  • বিস্তারিত ও নিয়মিতভাবে তথ্য প্রেরণ করতে হবে যে, কৌশল কেন এবং কাদের জন্য।
  • সিএসআর কৌশল বাস্তবায়নের জন্য যে দক্ষতার প্রয়োজন, তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • সিএসআর কর্মসূচির কার্যকারিতা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করতে হবে।

 

সি এস আর উন্নয়ন কৌশল

Leave a Comment