আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় উৎসাহদায়ক পারিতোষিক। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।
উৎসাহদায়ক পারিতোষিক

যে কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কর্মীদের কাজের বিনিময়ে যে অর্থ ও সুবিধা প্রদান করা হয় তা হলো পারিশ্রমিক। আর তাদেরকে আরও দক্ষ করার জন্য, কাজের প্রতি আরও উৎসাহিত করে তাদের দ্বারা লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে অতিরিক্ত বোনাস দেওয়া হয়, তাকে উৎসাহক পারিশ্রমিক বলে। এই উৎসাহক পারিশ্রমিকের ফলে কর্মীরা কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়। শ্রমিকরা এর ফলে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
তাছাড়া এই পারিশ্রমিক প্রদানের মুখ্য কারণই হলো প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বৃদ্ধি করে অধিক হারে মুনাফা অর্জন করা। আবার মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান এমন আছে, যারা চায় শ্রমিকদের কম পারিশ্রমিক দিয়ে অধিক উৎপাদন বাড়াতে।
এতে প্রতিষ্ঠানে ঝগড়া-বিবাদ, কাজে অলসতা ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। আর তাই এসব বিষয় এড়ানোর জন্য উৎসাহক পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পারিশ্রমিক যেমন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়, তেমনি কর্মীদের কাজের আগ্রহ বাড়ায় ।
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা
একই সঙ্গে একটি অধ্যয়নের বিষয় ও ব্যবস্থাপনা কৌশল যা একটি প্রতিষ্ঠানের অভীষ্ঠ লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আভ্যন্তরীক মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করে। কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট করা, আগ্রহীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের খুঁজে বের করা ও নিয়োগ প্রদান, কর্মীদের অনুপ্রাণিত করা ও তাদের সাথে প্রতিষ্ঠানের সু-সম্পর্ক বজায় রাখা,
তাদের কর্মজীবনে উত্তরোত্তর উন্নয়নের পথ সৃষ্টি করা এবং প্রয়োজনে তাদের ছাঁটাই করাসহ প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ সম্পর্কিত সব ধরনের কাজই প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাজ। কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা যার মধ্যে প্রধান চারটি হলো বিক্রয় ও রাজস্বআয় বৃদ্ধি, মুনাফা অর্জন ও বর্ধন, মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উন্নততর করণ।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে কাজ করার সময় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সেই দেশের শ্রম আইন ও কর্মসংস্থান আইন মেনে চলতে হয়। প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যিনি থাকেন তাকে সচরাচর মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক বলা হয়।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সারা বিশ্বে শিল্প বিপ্লব শুরু হলে তুমুল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের দিয়ে অবৈধভাবে কাজ করিয়ে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এবং এর ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে থাকে। মূলত এই শ্রমিক অসন্তোষের ফলেই মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ধারণার জন্ম হয়।
তৎকালীন সময়ে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজ ছিল শ্রমিকদের কর্ম-ঘণ্টার হিসাব রাখা এবং তাদের যথোপযুক্ত পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়োজনের তাগিদে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রথাগত পারসোনেল ম্যানেজমেণ্ট থেকে পৃথক।

