কর্মীদের অধিকার, কর্পোরেট অপরাধ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কর্মীদের অধিকার, কর্পোরেট অপরাধ । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৯ এর অন্তর্গত।

কর্মীদের অধিকার, কর্পোরেট অপরাধ

 

ব্যবস্থাপকদের জন্য নৈতিকতার দিকনির্দেশনা

 

কর্মীদের অধিকার

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ করা ব্যবস্থাপনা মালিকদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সংবিধানে ও কোম্পানি আইনে এ ধরনের নৈতিক দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। কর্মীরা যে সকল ক্ষেত্রে অধিকার ভোগ করার অধিকার রাখে সেগুলো নিম্নরূপ:

১. ব্যক্তি স্বাধীনতা: প্রতিটি কর্মীই কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার রাখে। তার কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তার কাজ পরিবীক্ষণ করতে হলে তাকে বিরক্ত না করে তা করতে দিতে হবে। তবেই তা নৈতিকতার মধ্যে পড়ে।

২. ন্যায় আচরণ: কেউ যেন পক্ষপাতমূলক আচরণের শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সকলের প্রতি সমান আচরণ করা নৈতিকতার মধ্যে পড়ে।
৩. নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কার্যপরিবেশ: প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মী যেন নিরাপদে আসা-যাওয়া করতে পারে এবং কর্মস্থলে নিরাপদে কাজ করতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে নারী কর্মীগণ যেন কোনোরকমে যৌন হয়রানির মধ্যে না পড়ে, সেদিকে দৃষ্টি রাখা ব্যবস্থাপকদের নৈতিক দায়িত্ব ।

৪ . বৈরি পরিবেশ: কর্মীগণ যেন কার্যক্ষেত্রে কোনোরকমে বৈরি পরিস্থিতির মধ্যে না পড়ে সে দিকটা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. দরকষাকষি: শ্রমিকসংঘ গঠন করা শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার। এর মাধ্যমে তারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মালিক পক্ষের নিকট তুলে ধরে ও দরকষাকষির মাধ্যমে তা আদায় করে । সুতরাং তাদেরকে এ অধিকার দিতে হবে।

৬. যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ: প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিশেষ করে তাদের চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জানার অধিকার রাখে। আবার, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় তাদের মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে তারা সন্তুষ্ট হয় এবং প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করে কাজ করে ।

৭.কারখানা বন্ধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নোটিশ প্রদান: কোনো কারণে কারখানা বা কারখানার কোনো অংশ বন্ধ করতে হলে তা কর্মীদেরকে যথাযথভাবে জানাতে হবে। আবার, কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে নিয়মানুযায়ী অবহিত করা ব্যবস্থাপকদের নৈতিক দায়িত্ব।

৮. যথাযথ প্রক্রিয়া: কর্মসংক্রান্ত যে কোনো কাজ করতে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করতে হবে। কর্মীদের কোনো ব্যাপারে অভিযোগ থাকলে তা শুনতে হবে। অতঃপর ন্যায়ানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায় যে, কর্মীদের উপর্যুক্ত অধিকারসমূহ সংরক্ষণ করা মালিক ও ব্যবস্থাপকদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই অন্তত নৈতিকতার স্বার্থে এ সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।

কর্পোরেট অপরাধ

অনৈতিক কার্যক্রম থেকে অপরাধের জন্ম। অনৈতিক কাজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও পর্যায়ে অপরাধকে উৎসাহিত করে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও অপরাধ সংগঠিত হয়। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্ষেত্রে নীতিহীন কর্মীদেরকে ব্যবহার করলে বা তাদেরকে কোন বিষয়ে ঠকালে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ বলে । প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:

১। কর্মীসংক্রান্ত অপরাধ;
২। প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অপরাধ; এবং
৩। সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ ।

১। কর্মীসংক্রান্ত অপরাধ :

(i) স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ;
(ii) অর্থ আত্মসাৎ;
(iii) কার্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা;
(iv) ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা ইত্যাদি।

২। প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অপরাধ:

(i) কম দামে পণ্য বিক্রি করা;
(ii) মূল্য নির্ধারণে অসততা অবলম্বন;
(iii) নিলাম ডাকা;

৩। সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ :

(i) পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটানো;
(ii) অর্থ পাচার করা ;
(iii) চাকরিতে বৈষম্য করা;
(iv) অনিরাপদ পণ্য ।

 

নৈতিকতার সংকটসমূহ

 

উপর্যুক্ত অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে।

Leave a Comment