কর্মী নির্বাচনের নীতি বা আদর্শসমূহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কর্মী নির্বাচনের নীতি বা আদর্শসমূহ

কর্মী নির্বাচনের নীতি বা আদর্শসমূহ

 

কর্মী নির্বাচনের নীতি বা আদর্শসমূহ

 

কর্মী নির্বাচনের নীতি বা আদর্শসমূহ

প্রতিষ্ঠানকে সফলভাবে পরিচালনার জন্য যোগতাসম্পন্ন মানব সম্পদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যোগত্যসম্পন্ন মানব সম্পদ নির্বাচেনর জন্য কতগুলো নীতি বা আদর্শ মেনে চলা আবশ্যক। মানব সম্পদ নির্বাচনের জন্য যেসব নীতি বা আদর্শসমূহ মেনে চলতে হবে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

মানব সম্পদ নির্বাচনের উপযুক্ত কমিটি গঠন (Formulation of selection committee ) :

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের যোগ্য নির্বাহীর সমন্বয়ে উপযুক্ত নির্বাচন কমিটি গঠন করা কর্মী নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি ।

‘প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে নতুন মানব সম্পদ নির্বাচন নীতি (Principle on selection from outside):

প্রতিষ্ঠানের নতুন মানব সম্পদ প্রয়োজন হলে অনেক সময় বাহ্যিক উৎস থেকে কর্মী নির্বাচন করা হয়। যে সব
কারণে বাহ্যিক উৎস থেকে নির্বাচন করা তা হলো:

  • প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে যোগ্য কর্মী না পাওয়া গেলে বা যোগ্যকর্মীর ঘাটতি থাকলে;
  • প্রতিষ্ঠান নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করলে;
  • প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো কর্মীর চাকরি ত্যাগের কারণে শূন্যপদ সৃষ্টি হলে;
  • প্রতিষ্ঠানে নতুন কারিগরিজ্ঞানসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন হলে ।

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মানব সম্পদ নির্বাচন নীতি (Principle on selection from internal source):

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নানা শূন্যপদ পূরণের জন্য এই নীতি অনুসরণ করা হয়। এই নীতির আওতায় প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ পূরণের জন্য কিছু কৌশল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিম্নে সেই কৌশলগুলো উল্লেখ করা হলো:

  • পদোন্নতি
  • পদাবনতি
  • মানব সম্পদ বা কর্মী ছাঁটাই
  • ইস্তফা
  • বরখাস্ত

 

প্রশিক্ষণবিষয়ক নীতি (Principle of training) :

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের উন্নয়নের জন্য এবং তাদের উৎকর্ষতা সাধনের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। কার্যক্ষেত্রে কর্মীদেও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষাদানের প্রক্রিয়াকে প্রশিক্ষণ বলে। কর্মীদের কাজের নৈপূণ্যতা বৃদ্ধি ও চিন্তা-চেতনায় উৎকর্ষতা সাধন করাই প্রশিক্ষণদানের মূল লক্ষ্য।

কর্মী নির্বাচনে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কেমন অথবা কী ধরনের তা বিবেচনা করে কর্মী নির্বাচন করা হয়ে থাকে।

উৎস নির্বাচন (Selection of sources):

কর্মী নির্বাচনের নীতিসমূহের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে উৎস নির্বাচন। দুইটি উৎস থেকে কর্মী নির্বাচনে করা হয়ে থাকে। যথা। (১) অভ্যন্তরীণ উৎস (২) বাহ্যিক উৎস। উৎসের ব্যয় এবং সময় বিবেচনা করে উৎস নির্বাচন করা উচিত।

পদোন্নতি (Promotion ) :

প্রতিষ্ঠানের পদোন্নতি পদ্ধতি কর্মী নির্বাচনের নীতি সমূহের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের অধিক দায়িত্ব ও কর্তব্যসম্পন্ন উচ্চতর পদে উন্নীত করাকে পদোন্নতি বলা হয়। প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতি ধরন কেমন তার ওপর ভিত্তি করে কর্মী নির্বাচন করা হয়ে থাকে ।

পদচ্যুতিবিষয়ক নীতি (Principle of discharging):

কর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পদচ্যুতিবিষয়ক নীতি বিবেচনায় নিতে হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অদক্ষতা, অশোভনীয় আচরণ, অপরাধ, মানব সম্পদ নিয়োগ নীতির পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যে বিভাগ বন্ধকরণ প্রভৃতি কারণে পদচ্যুতির মাধ্যমে মানব সম্পদ হ্রাস করা হয়ে থাকে ।

বিষয় নির্বাচন নীতি (Principle of subject selection) :

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে কর্মী নিয়োগের জন্য কী কী বিষয়ে পরীক্ষা বা দক্ষতা যাচাই করা হবে তা নির্ধারণ করা এবং তা ব্যবহার করা প্রয়োজন।

 

কর্মী নির্বাচনের নীতি বা আদর্শসমূহ

 

মনোযোগের নীতি (Principle of concentration) :

কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনদর্শন, চিন্তা-চেতনা, জ্ঞান, বুদ্ধি, আবেগ প্রভৃতি বিষয়গুলোর যাচাই করে কর্মী নির্বাচন করা প্রয়োজন ।

Leave a Comment