আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্য বিশ্লেষণের পদক্ষেপসমূহ
Table of Contents
কার্য বিশ্লেষণের পদক্ষেপসমূহ

কার্য বিশ্লেষণের পদক্ষেপসমূহ
কার্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাজ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়, কর্মীর সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে জানা যায় এবং কার্য সম্পাদনের পরিবেশের বর্ণনা পাওয়া যায়। কার্য বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যসমূহ যথাযথরূপে অর্জন করতে হলে কতকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। এ সব পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে গ্রহণ করলে কার্য বিশ্লেষণ নির্বিঘ্নে হতে পারে। নিম্নে ডি.জে. চেরিংটন বর্ণিত এরূপ কিছু পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
ভূমিকা তথ্য সংগ্রহ (Introductory data collection) :
কার্য বিশ্লেষণের প্রথম পদক্ষেপ হলো ভূমিকা তথ্য সংগ্রহ। প্রতিষ্ঠানের বয়স, প্রতিষ্ঠাকাল, সাংগঠনিক চার্ট, শ্রেণি নির্দিষ্টকরণ, কার্য-বর্ণনা প্রভৃতি সম্পর্কে ভূমিকা তথ্য সংগ্রহ করা হয় ।
সমগ্র প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি কাজের উপর্যুক্ততা পরীক্ষা করা ( Examine the appropriateness of whole organization and appropriate was of each job) :
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যার্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্য সম্পাদন করতে হয়। তাই উদ্দেশ্যার্জনের জন্য গৃহীত প্রতিটি কাজ কতটা উপর্যুক্ত তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্যই কার্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত করেই প্রতিটি কাজ সাজাতে হবে।
প্রতিনিধিত্বমূলক পদ নির্বাচন (Seclection of job to be analyzed) :
একটি প্রতিষ্ঠানে অনেকগুলো পদ থাকে। কিন্তু সবগুলো প্রতিনিধিত্বমূলক হয় না। তাই প্রতিনিধিত্বমূলক পদ বাছাই করতে হয়।
কার্য বিশ্লেষণ তথ্য সংগ্রহ (Collection of data for analysis) :
কার্য বিশ্লেষণের তৃতীয় পদক্ষেপে কার্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় উপাত্ত ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কেননা সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই নির্ভুলভাবে কার্য বিশ্লেষণ করা যেতে পারে ।
কার্য-বর্ণনার উন্নয়ন (Developing job description) :
কার্য-বর্ণনার উন্নয়ন সাধন করা কার্য বিশ্লেষণের চতুর্থ পদক্ষেপ। কার্য-বর্ণনা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হলে কার্য বিশ্লেষণও যথাযথভাবে সম্পাদন করা সম্ভবপর হয় । পক্ষান্তরে কার্য-বর্ণনা ত্রুটিপূর্ণ হলে কার্য বিশ্লেষণও ত্রুটিপূর্ণ হয়ে থাকে।
কার্য নির্দিষ্টকরণ উন্নয়ন (Developing job specification) :
কার্য বিশ্লেষণের সর্বশেষ এবং পঞ্চম পদক্ষেপ হলো কার্য নির্দিষ্টকরণ। এ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা অর্থাৎ কার্য নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে পদের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলী সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। কাজেই কার্য নির্দিষ্টকরণ যত কার্যকরভাবে করা যায় কার্য বিশ্লেষণও তত সুষ্ঠু হতে পারে।

উপরে কার্য বিশ্লেষণের কতিপয় পদক্ষেপ আলোচনা করা হলো। তবে একথা ঠিক নয় যে, উল্লিখিত পদক্ষেপ ছাড়া আর কোনো পদক্ষেপ নেই এবং এ পদক্ষেপগুলোই কার্য বিশ্লেষণকে কার্যকর করতে পারে।
