আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় উচ্চ কার্যসম্পাদন কার্য সিস্টেম (HPWS) উন্নয়ন। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১১ এর অন্তর্গত।
উচ্চ কার্যসম্পাদন কার্য সিস্টেম (HPWS) উন্নয়ন

একটি উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য সিস্টেম উন্নয়নের পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ:
১। ব্যবসায় কৌশল বিশ্লেষণ (Analyze the Business Strategy) : উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য সিস্টেম উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় কৌশল বিশ্লেষণ করতে হবে। যেমন:
- ব্যবসায়টি কোথায় যেতে চায়?
- ব্যবসায়ের দুর্বল ও শক্তিশালী উপাদানগুলি কী?
- ব্যবসায়ের হুমকি ও সুযোগ কী আছে?
- ব্যবসায়ের বর্তমানে ও ভবিষ্যতে কী ধরনের লোকবল প্রয়োজন?
- কর্মীদের দ্বারা কতটুকু তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যাবে?
২। ব্যবসায়ের প্রত্যাশিত কার্যসম্পাদন সংস্কৃতি ও উদ্দেশ্য সংজ্ঞায়িত করতে হবে (Define the Desired Performance Culture of the Business and the Objectives of the Exercise): HPWS 4 বৈশিষ্ট্যের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে এবং ব্যবসায়ের অবস্থা ও সংস্কৃতির সম্মিলনে বৈশিষ্ট্যের একটি তালিকা করতে হবে এবং HPWS উন্নয়নের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিবরণ তৈরি করতে হবে।
৩। বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ (Analyze the Existing Arrangements) : প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে।
- বর্তমানে মানব সম্পদ চর্চা, মনোভাব ও আচরণের ক্ষেত্রে কী ঘটছে?
- কী ঘটনা ঘটা উচিত?
- মানুষ এ ব্যাপারে কী অনুভব করছে?
৪। অতীত ও বর্তমান অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বা শূন্যতা চিহ্নিত করতে হবে (Identify the Gaps between What is and what should be) : যে সকল পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে হবে যেখানে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
৫। পদ্ধতিসমূহের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে যা চালু বা উন্নয়ন করতে হবে (Draw up a List of Practices that Windo Need to be Introduced or Improved) : এ পর্যায়ে যা করতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে সংজ্ঞা প্রদান করতে হবে।
৬। পরিপূরক প্রতিষ্ঠা (Establish Complementarities) : কিছু পদ্ধতি চিহ্নিত করতে হবে যা গুচ্ছের মধ্যে সংযুক্ত করা যায় যেন প্রয়োজনে একে অপরকে সমর্থন করতে পারে বা পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
৭। বাস্তবতা পরিমাপ (Access Practicality) : গুচ্ছে যে সকল পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে বা আদর্শ পদ্ধতি বাস্তবানুগ হতে হবে । প্রতিনিয়ত তা পরীক্ষা করতে হবে ।
৮। অগ্রাধিকারকরণ (Prioritize) : বাস্তবতা পরিমাপের আলোকে নতুন বা উন্নত পদ্ধতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চালু করতে হবে। কারণ, বাস্তব ভিত্তিক পদ্ধতি খুবই প্রয়োজন। তাৎক্ষণিকভাবে বা ভবিষ্যৎ সময়ের জন্য কতটুকু করা যাবে, তার একটি সীমা নির্ধারণ করতে হবে। নিচের বিষয়গুলো পরিমাপের ভিত্তিতে অগ্রাধিকারকরণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
- পদ্ধতি কতটুকু মূল্য সংযোজন করবে;
- প্রয়োজনীয় সম্পদের সহজলভ্যতা;
- পদ্ধতি চালু করার ক্ষেত্রে সমস্যা ধারণা করতে হবে।
- গুচ্ছের অন্তর্ভুক্ত পদ্ধতির মধ্যে কতটুকু পারস্পরিক সমর্থন করতে পারবে ।
৯। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সংজ্ঞায়ন (Define Project Objectives) : প্রকল্পের উদ্দেশ্য বড় আকারে তুলে ধরতে হবে যে কী অর্জন করতে হবে, কেন এবং কীভাবে?
১০। কোম্পানি বা কোম্পানির অংশ ক্রয় (Get Buy in) : প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী এবং ব্যবস্থাপনার উচ্চতর সদস্যগণ কর্তৃক কোম্পানির অংশবিশেষ ক্রয় করাকে বুঝায়। শুধু তারাই নয়, অন্যান্য সুবিধাভোগীদের মধ্যেও এ সুযোগ দেওয়া উচিত। এটি প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকেই করা উচিত।
১১। বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (Plan in Implementation) : যেখানে কোন কিছু কঠিন, সেখানেই পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করতে হয়। যাই হোক, বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত:
- নেতৃত্ব কে নেবেন এটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপর্যায় থেকে আসতে হবে। তা না হলে কোনো কিছুই কাজ করবে না;
- প্রকল্প কে পরিচালনা করবে এবং কে এতে জড়িত;
- উন্নয়ন ও চালুকরণের সময়সূচি;
- সম্পদসমূহ;
- পরিবর্তন কর্মসূচি কীভাবে পরিচালনা করা হবে;
- প্রকল্পের সফলতার নিয়ামকসমূহ ।
১২। বাস্তবায়ন (Implementation) : অনেক সময় শতকরা ৮০ ভাগ সময় উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য সিস্টেম চালুকরণ ও পরিকল্পনায় এবং শতকরা ২০ ভাগ সময় ব্যয় করা হয় বাস্তবায়নে। এটির অন্যথা হওয়া প্রয়োজন ।
পরিশেষে বলা যায় যে, উপর্যুক্ত উপায়ে একটি ফলপ্রসূ উচ্চ-কার্যসম্পাদন কার্য সিস্টেম উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করা যায় ।

