আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত জ্ঞান ব্যবস্থাপনার বিবেচ্য বিষয়সমূহ। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৭ এর অন্তর্গত।
কৌশলগত জ্ঞান ব্যবস্থাপনার বিবেচ্য বিষয়সমূহ

জ্ঞান ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিচে বর্ণিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন :
১। পরিবর্তনের সুযোগ (The race of change) : কৌশল কীভাবে নিশ্চিত করবে যে, জ্ঞান ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনের সুযোগ রাখবে এবং চিহ্নিত করবে যে কী ধরনের জ্ঞান আয়ত্তে আনতে হবে বা স্থানান্তর করতে হবে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে জ্ঞান ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
২। জ্ঞান ব্যবস্থাপনা কৌশলের সাথে ব্যবসায় কৌশলের সম্পর্ক নির্ধারণ (Relating Knowledge Management Strategy to Business Strategy) : Hansen ও সহযোগীরা বলেন যে, এটি স্বতন্ত্র জ্ঞান নয় কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এটি কৌশলগত উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হয়, তা প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থায় একটি জটিল উপাদান।
তাঁরা উল্লেখ করেন যে, প্রতিযোগিতাপূর্ণ কৌশল অবশ্যই জ্ঞান ব্যবস্থাপনাকে চালনা করতে হবে এবং সেই ব্যবস্থাপনাকে অবশ্যই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যে, “কোম্পানির জ্ঞান কীভাবে ক্রেতাদের মূল্য সংযোজন করে।” Micklenberg বলেন যে, প্রতিষ্ঠান যতটুকু ব্যবসায়িক মূল্য সংগ্রহ করতে পারবে, ততটুকু নিয়েই ব্যবসায় শুরু করা উচিত। যদি মূল্য সৃষ্টি করতে না পারে, তা হলে সে ব্যবসায় করা ঠিক নয় ।
৩। প্রযুক্তি ও কর্মী ( Technology & People) : প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিষ্ঠানের অনেক কাজই সহজ ও সংক্ষিপ্ত করা যায়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের কাজকর্মে সংক্ষিপ্ততার নীতি গ্রহণ করা উচিত। তবে এ জন্য বৃহৎ ও সম্ভাবনাময় উৎপাদনশীল ব্যক্তিকীকরণ কৌশল গ্রহণ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে সমর্থনযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।
Hansen ও সহযোগীরাবলেন, সারসংক্ষিপ্তকরণ মডেলে ব্যবস্থাপকের পক্ষে এমন সিস্টেম বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন যা প্রাচীন গ্রন্থাগারের মত হবে যেখানে পর্যাপ্ত তথ্যভাণ্ডার থাকবে যা লোকজন প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। ব্যাক্তকাকরণ মডেলে এমন সিস্টেম থাকতে হবে যেখানে একজন দক্ষ লোক আরেক দক্ষ লোককে সহজেই খুঁজে পাবে।
Scarboough পরামর্শ দেন যে, প্রযুক্তিকে অধিক পরিমাণ যোগাযোগের উৎস হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং জ্ঞানকে খুব কমই মজুত করে রাখতে হবে। জ্ঞান ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির চেয়ে বেশি করে মানুষকে নিয়ে কাজ করবে। Davenport গবেষণায় দেখেছেন যে, ব্যবস্থাপকগণ তথ্যের দুই-তৃতীয়াংশ সামনাসামনি বা টেলিফোনে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পেয়ে থাকে।
সেখানে একটা সীমা নির্ধারণ করা আছে যে, কী পরিমাণ অপ্রকাশিত জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তাকারে প্রকাশ করা যাবে। প্রতিষ্ঠান যখন প্রকাশিত জ্ঞানের চেয়ে অপ্রকাশিত জ্ঞানের উপর অধিক বিশ্বাস স্থাপন করে তখন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি কৌশল উত্তম কাজ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি এ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। এটি পুনঃস্থাপন করা যায় না ৷
৪। প্রক্রিয়ার গুরুত্ব এবং সামাজিক মূলধন এবং সংস্কৃতি (The Significance of Process and Social Capital and Culture) : Blackler বলেন, পূর্ব থেকেই প্রযুক্তিকে আয়ত্তে আনার অর্থ হলো- সামাজিক, প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রতি একটু একটু করে মনোযোগ দেওয়া যার মাধ্যমে জ্ঞানকে বিভিন্ন উপায়ে একত্র ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত করা যায়।
মূল প্রক্রিয়াটি হলো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। এভাবে প্রতিষ্ঠানে সামজিক মূলধন গড়ে উঠে যোগাযোগ সম্পর্ক ও সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে কাজ করার জন্য মূল্যায়ন সম্পদ গড়ে তোলার কথা বলেছেন Nahapiet ও Ghoshal। জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক মূলধনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিশ্বাস। লোকজন বা কর্মীরা জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেবে না যদি তাদেরকে বিশ্বাস করা না হয়। জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিয়ম থাকতে পারে যে, যতদূর সম্ভব জ্ঞানকে নিজের বা নিজেদের মধ্যে ধরে রাখতে হবে কারণ ‘জ্ঞানই শক্তি (Knowledge is Power) বলে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। একটি উন্মুক্ত সংস্কৃতি মানুষকে তাঁর ধারণা ও জ্ঞানকে ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করে ।

