আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ কৌশলসমূহ কী । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৩ এর অন্তর্গত।
মানব সম্পদ কৌশলসমূহ কী

মানব-সম্পদ ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। মানব-সম্পদ কৌশল খুব সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠানকে বলে দেয় যে, প্রতিষ্ঠান মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা পলিসি ও তা কার্যে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কী ভাবছে, কী ভাবা উচিত এবং কীভাবে এগুলো ব্যবসায় কৌশলের সাথে সম্পর্কিত বা সমন্বিত হওয়া উচিত।
Dyer and Reves বলেন, “মানব-সম্পদ কৌশল হলো কতগুলো একই মানের মানব-সম্পদ প্রয়োগের বিধানাবলি।” Peter Boxall বলেন, “মানব-সম্পদ কৌশল প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ সুন্দরভাবে শুরু ও শেষ হওয়ার একটি কাঠামো প্রদান করে।” Richardson and Thompson বলেন, “একটি কৌশল তা মানব-সম্পদ কৌশলই হোক বা অন্য যে কোনো ব্যবস্থাপনা কৌশলই হোক, তার দুটি উপাদান অবশ্যই থাকতে হবে;
(i) কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে হবে (অর্থাৎ উদ্দেশ্যার্জনের পন্থা নির্দেশ করতে হবে।ও
(ii) সেখানে কার্য পরিকল্পনা থাকতে হবে।
এর কারণ হলো- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি বিভিন্ন ধরনের এবং তাদের কৌশলও ভিন্ন প্রকৃতির। তাই নির্দিষ্ট মানের কোনো কৌশলও ভিন্ন প্রকৃতির। নির্দিষ্ট মানের কোনো কৌশল বলে কিছু নেই। বিভিন্ন ধরনের মানব-সম্পদ কৌশল রয়েছে, যেমন- উচ্চকার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা, উচ্চ-অঙ্গীকার ব্যবস্থাপনা, মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক উন্নয়ন, কার্যসংশ্লিষ্টতা, জ্ঞান ব্যবস্থাপনা, মেধা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও উন্নয়ন প্রভৃতি।
এগুলো কীভাবে মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগানো যায় এবং কীভাবে এ সকল কৌশল গঠন করা যায়, ইত্যাদি বিষয়ে আলোচ্য ইউনিটে আলোচনা করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি বিভিন্ন ধরনের এবং তাদের কৌশলও বিভিন্ন প্রকৃতির। নির্দিষ্ট মানের কোনো কৌশলও ভিন্ন প্রকৃতির। তাই নির্দিষ্ট মানের কোনো কৌশল বলে কিছু নেই। মানব-সম্পদ কৌশলের উপর Armstrong ও Long এবং Armstrong ও Baron গবেষণা করেছেন এবং বহুভাবে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আবার কিছু কৌশল অতি বিশদ। তবে দুটি মৌলিক কৌশল চিহ্নিত করা যায়, যেমন:
(i) সার্বিক কৌশল, যথা- উচ্চ কার্যসম্পাদনের কাজ
(ii) সুনির্দিষ্ট কৌশল যা মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিকের সাথে সম্পর্কিত, যথা- শিক্ষা, উন্নয়ন ও পুরস্কার।

