আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় কৌশলের মধ্যে সংযোগ । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৫ এর অন্তর্গত।
মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় কৌশলের মধ্যে সংযোগ

প্রায়ই দাবি করা হয় যে, মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় কৌশলের মধ্যে খুব নিবিড় সংযোগ রয়েছে। কারণ মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা মানব সম্পদ ও ব্যবসায় কৌশল উভয়ের জন্যই দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এ সম্পর্কে নিচে তুলে ধরা হলো:
- উত্তম মানব সম্পদ চর্চা ও মানব মূলধন পরিমাপের ক্ষেত্রে কৌশলগত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সংযোগ সাধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালো তথ্যসমৃদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি সফলতা আনতে সাহায্য করে। (Scarborough & Elias – ২০০২)
- মূলধন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো- একটি শক্তিশালী মানব সম্পদ কৌশলের সাহায্যে ব্যবসায় কৌশল নির্ধারণ করা। (Manocha – ২০০৫)
- মানব মূলধন ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো- একটি চাকরি প্রস্তাব বা বিধি প্রতিষ্ঠা করা যা কর্মীদের কাজের সাথে কৌশল ও মুনাফাকে যুক্ত করবে। (Donkin-২০০৫)
এখন প্রশ্ন হলো এ সংযোগ কী এবং কীভাবে এটি করা যাবে। একটি আকর্ষণীয় বিবরণ দেওয়া হয় যে, মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা মানব সম্পদ কৌশল সম্পর্কে অবহিত যা মূলত ব্যবসায় কৌশলকে অবহিত করে। যদি ব্যবস্থাপকগণ সতর্ক না হয় তা হলে কিছুই করতে পারবে না। কারণ সকল ব্যবসায়িক কৌশলগত পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করে কর্মীরা কতটা সফলতার সাথে তা বাস্তবায়ন করতে পারছে তার ওপর ।
মানব সম্পদ হলো প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সম্পদ। তাই তাদেরকে সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপকদেরকে আরো সুনির্দিষ্ট হতে হবে তা না হলে প্রশিক্ষণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা, কার্যসম্পাদন সম্পর্কিত পরিশোধ প্রভৃতি প্রত্যাশাই থেকে যাবে বাস্তবে কোনো ফল দেবে না।
মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট হওয়ার প্রথম উপায় হলো- কার্যসম্পাদনে মানব সম্পদ চর্চার বা পদ্ধতির প্রভাব পরিমাপ করা এবং তারা যেভাবে কাজ করতে পছন্দ করে তার উন্নয়ন করা। এটির উপরই মানব মূলধন ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে।
সংযোগ সুনির্দিষ্ট হওয়ার দ্বিতীয় উপায় হলো- এটি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করে দেখতে হবে যে, ব্যবসায়-কৌশলে মানব সম্পদের সংশ্লিষ্টতা ও গুরুত্ব কতটুকু; বিপরীত দিকে, মানবসম্পদে ব্যবসায়-কৌশলের সংশ্লিষ্টতা ও গুরুত্ব কতটুকু। এটি করা যায় ব্যবসায়-কৌশলের উপাদান সমূহ, ব্যবসায় নিয়ামকসমূহ এবং মানবসম্পদে সমর্থনকারী কার্যাবলি বিশ্লেষণ করে।
মানব সম্পদ ও ব্যবসায়-কৌশলের মধ্যে সংযোগ সাধনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও কার্যকর তৃতীয় পন্থা হলো- মানব সম্পদের চর্চা ও প্রয়োগের সাথে ব্যবসায়ের ফলাফল সম্পর্কিত করা। এতে তারা কীভাবে কার্যসম্পাদন উন্নয়নে সবচেয়ে উত্তম ভূমিকা রাখতে পারে ।

