আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় “কৌশলের সংজ্ঞা” । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ২ এর অন্তর্গত।
কৌশলের সংজ্ঞা

কৌশলের ইংরেজী প্রতিশব্দ “Strategy” শব্দটি গ্রিক শব্দ স্ট্র্যাটিজস (Strategos) শব্দ হতে এসেছে যার বাংলা অর্থ হচ্ছে “রণ প্রশাসন” । সামরিক ক্ষেত্রে এটির ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। শাব্দিক অর্থে স্ট্র্যাটেজি হলো রণ প্রশাসনের সুকৌশল। বর্তমানে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে এ কৌশলের বহুল ব্যবহার শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যার্জনের জন্য দীর্ঘ- মেয়াদি পরিকল্পনাকে স্ট্র্যাটেজি হিসেবে গণ্য করা হয়।
অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। এ সকল প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান সমূহ মোকাবিলা করে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়াকে কৌশল বা স্ট্র্যাটেজি বলে ।
উদ্দেশ্যার্জনের জন্য প্রয়োজনবোধে পরিকল্পনার সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করাও কৌশলের আওতাভুক্ত। কৌশলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মূখ্য উদ্দেশ্যাবলি ও নীতিমালার সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান কী ধরনের কাজ করবে তার সঠিক চিত্র নিরূপণ করা এবং তার অভিব্যক্তি ঘটানো। নিম্নে কৌশলের কয়েকটি সংজ্ঞা দেওয়া হলো :
A. B. Chandler- এর মতে,
“কৌশল হলো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ, কর্মপন্থা গ্রহণ এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের বণ্টন করা।”
William F. Glueckএর মতে,
“কৌশল হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কতগুলো নিয়মকানুন যা সাংগঠনিক আচরণকে প্রভাবিত করে।”
G. R. Terryএর মতে,
“জনসাধারণ, প্রতিযোগীগণ, কর্মচারিবৃন্দ ও নির্বাহীবৃন্দের পরিকল্পনা প্রসূত প্রতিক্রিয়া পরিহার কল্পে ন্যূনতম অসুবিধায় পরিকল্পনার ব্যবহার এবং সুচিন্তিত রীতিকে কৌশল বলা হয়।”
R. N. Anthonyএর মতে,
“প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যাবলি নির্ধারণ, উদ্দেশ্যাবলি পরিবর্তন, উদ্দেশ্যাবলি বাস্তবায়নে ব্যবহৃত সম্পদ এবং এ সব সম্পদের আহরণ, ব্যবহার এবং বিক্রয়ে প্রভাবশালী নীতিসমূহ সম্বন্ধে সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রক্রিয়াকে কৌশল নামে অভিহিত করা যায় ।”
পরিশেষে বলা যায় যে, পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া দক্ষতার সাথে মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থাপনা যে কৌশল অবলম্বন করে, তাকে কৌশল বলে ।

