কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কৌশল প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাসমূহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশল প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাসমূহ। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ২ এর অন্তর্গত।

কৌশল প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাসমূহ

 

কৌশল প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাসমূহ

 

সম্ভাব্য প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা বা উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থাপকগণ বহুবিধ কৌশল গ্রহণ করে থাকেন। সর্বক্ষেত্রে নির্ধারিত কৌশল ফলপ্রদ হয় না। কৌশলের প্রয়োগে যে সমস্ত সীমাবদ্ধতা রয়েছে বা যে সমস্ত কারণে কৌশল সফল হয় না নিম্নে এদের উল্লেখ করা হলো:

 

১। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির পরিবর্তন:

যে সমস্ত বিষয়ের ভিত্তিতে কৌশল প্রণয়ন করা হয় তাদের যে কোনো এক বা একাধিক বিষয়ের পরিবর্তন হলে কৌশল কার্যকর হয় না ।

 

২। প্রতিকূল পরিবেশগত অবস্থা:

অভ্যন্তরীণ ও অনাভ্যন্তরীণ অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করা না হলে কৌশল কার্যকর হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বিবেচ্য কৌশল উপযুক্ত মনে হলেও তা কার্যকর নাও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সাংগঠনিক পরিবর্তন অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে
পরিবেশ অনুকূল না হলে পরিবর্তনের যে কোনো কৌশল কার্যকর করা যায় না ।

 

৩। প্রতি-আক্রমণাত্মক কৌশল:

প্রতিপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমপরিমাণ দক্ষ হলে কৌশল সফলকাম হয়না । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, একটি প্রতিষ্ঠান পণ্য বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য পণ্যমূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তার প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানও অনুরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে মূল্য পরিবর্তনের মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল সফলকাম হয় না ।

 

8। ভুল কৌশল নির্বাচন:

উপযুক্ত কৌশল বাছাই করা না হলে কৌশল কার্যকর হয় না। সঠিক সময়ে উপযুক্ত ক্ষেত্রের জন্য যুৎসই কৌশল বাছাই-এর অভাবে কৌশলের দ্বারা সুফল হওয়ার পরিবর্তে কুফল হওয়ার আশংকা অধিক থাকে । যুৎসই কৌশল নির্বাচনের সমস্যা কৌশল প্রয়োগে অন্তরায় হিসেবে দেখা দেয়।

 

৫৷ গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতা:

অনেক সময় গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে কৌশলের সফল প্রয়োগ সম্ভব হয় না ৷ কারণ প্রতিপক্ষ কৌশল সম্বন্ধে জ্ঞাত হলে তারা প্রতি-আক্রমণাত্মক বা সাবধানতামূলক কৌশল গ্রহণ করে। ফলে কৌশলের বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।

 

৬। অধিকতর ব্যবস্থাপনা নৈপুণ্যের অভাব:

প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান বা প্রতিকূল জটিল অবস্থা মোকাবিলায় ব্যবস্থাপককে অধিকতর নৈপুণ্যের অধিকারী হতে হয়। নিত্য নতুন অবস্থা মোকাবিলায় একজন ব্যবস্থাপকের উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রয়োজন। তুলনামূলকভাবে তার ব্যবস্থাপনা নৈপুণ্য অধিক না হলে তার পক্ষে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের কৌশলের মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না ।

 

৭। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ঘটনার প্রাক্কলনে ব্যর্থতা:

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ঘটনাবলীর যথাযথ প্রাক্কলনে ব্যর্থ হলে কৌশলের সফল প্রয়োগ হয় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, ভবিষ্যৎ ঘটনার যথাযথ প্রাক্কলনের ব্যর্থতা কৌশলের প্রয়োগে অন্তরায় সৃষ্টি করে।

 

৮। কৌশলের সঠিক ব্যাখ্যার অভাব:

কোনো কোনো কৌশলের সঠিক ব্যাখ্যা দান করা সম্ভব হয় না। কৌশলের প্রয়োগ অনেকাংশে মানব আচরণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় তার সীমাবদ্ধতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। একইভাবে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে কৌশলের সঠিক ব্যাখ্যা দান করা সম্ভব না হলে কৌশলের কার্যকাতিা হ্রাস পায় ।

 

উপসংহারে বলা যায় যে, কৌশল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত সীমাবদ্ধতাসমূহ বিদ্যমান। এগুলো সুষ্ঠুভাবে অতিক্রম করতে না পারলে কৌশলের সুফল পাওয়া যায় না ।

 

কৌশল প্রয়োগ বা বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতাসমূহ

Leave a Comment