একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিলম্বিত পারিতোষিক পরিকল্পনা নক্সাকরণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিলম্বিত পারিতোষিক পরিকল্পনা নক্সাকরণ। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।

একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিলম্বিত পারিতোষিক পরিকল্পনা নক্সাকরণ

 

একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিলম্বিত পারিতোষিক পরিকল্পনা নক্সাকরণ

 

একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিলম্বিত পারিশ্রমিক কর্মসূচি ব্যবহারের পূর্বে একটি প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন, তা হলো কোনো একজন ব্যক্তি তার আয় দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণ করতে চায়, এর কারণ হিসেবে বলা যায় যে, আয়কর থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একজন কর্মী তার আয় দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণ করতে আগ্রহী হয় ।

তাই কর্মীরা আয়কর সুবিধা পাওয়ার জন্যই দীর্ঘমেয়াদে বা ভবিষ্যতে আয় গ্রহণ করতে রাজি হয়। এটি অতীতে ঘটত। তবে বর্তমানে আয়কর হার কমে গেছে এবং কর্মীরা বর্তমান আয়কে গ্রহণ করে। এছাড়াও অর্থের সময় মূল্য বিবেচনা করেও তারা এটি গ্রহণ করে। কারণ ১০০ টাকা বছরের শুরুতে ১০০ টাকা থাকলেও বছর শেষে এর মূল্য কমে যায়। মুদ্রাস্ফীতি অর্থের মূল্যকে প্রভাবিত করে।

আবার ভোগের কথা চিন্তা করেও কর্মীরা বর্তমান আয়কে গ্রহণ করে। বর্তমান ভোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। ভবিষ্যতে ভোগ করতে পারবে কি না তা অনিশ্চিত । সুতরাং বলা যায়, উপর্যুক্ত কারণেই কর্মীগণ ভবিষ্যতের চেয়ে বা বিলম্বিত আয়ের চেয়ে বর্তমান আয়কে গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশে অবশ্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আয়ের দুটি পদ্ধতিই চালু আছে। কর্মীগণ গ্রাচুইটি হিসেবে বর্তমান প্রণোদনা গ্রহণ করলে আবার পেনশন আকারে তাদের ভবিষ্যতে অর্থ গ্রহণ করার বিধান রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এখানে দীর্ঘমেয়াদি বলতে দীর্ঘ সময় ধরে যে পরিকল্পনা চলতে থাকে তাকে বুঝায়। আর বিলম্বিত বলতে বুঝায়, যে সেবার জন্য শ্রমিক কর্মীগণ বিলম্বে বা দেরিতে অর্থ গ্রহণ করে। অর্থাৎ, শ্রমিক কর্মীগণ সেই সময়ের সেবার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করে, যার কার্য ইতিপূর্বেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। বিলম্বিত পরিকল্পনাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন:

i. যোগ্য বা গুণগত বিলম্বন,
ii. মূলধন জমাকরণ ও
iii. অন্যান্য বিলম্বিত এবং বিকল্প অবসর আয় ব্যবস্থা।

যাই হোক, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সাংগঠনিক প্রয়োজন ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। এজন্য পারিশ্রমিক সিস্টেমে কর্মীদের জন্য অবদান রাখার সুযোগ থাকতে হবে, যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য অর্জনে সাহায্য করে। পণ্য চিহ্নিত করা যা উৎপাদন করা হবে। পরবর্তীতে পদক্ষেপ হলো ভিত্তি সময়, ভিত্তি খরচ এবং ভিত্তি উৎপাদনশীলতা উপাদান প্রতিষ্ঠা করা ।

ভিত্তি সময় হলো এমন সময় যা উৎপাদনশীলতার মান প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা হয় ভিত্তি সময়ের উৎপাদন খরচ হলো এমন খরচ যা প্রতি ঘণ্টায় প্রত্যেক শ্রম ব্যয় নির্ধারণ করে এবং এভাবে সম্পূর্ণ পরিমাণ পণ্য উৎপাদনে কত শ্রমঘণ্টা ব্যয় করা হয় তা নির্ধারণ করে।

বিপিএফ (BPF) ভিত্তি উৎপাদনশীলতার উপাদান উৎপাদনে ব্যয়িত প্রকৃত শ্রমঘণ্টা ও উৎপাদনের মূল্যের মধ্যে সম্পর্ক ও পার্থক্য নির্দেশ করে। প্রয়োজনীয় ভিত্তি সময়ে কার্যসম্পাদনের মান নির্ধারণের পর কর্তৃপক্ষ বর্তমান উৎপাদন ও ভিত্তি সময়ের কার্যসম্পাদনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে থাকে। এতে কত শ্রমঘণ্টা বেঁচে যায় তা নির্ণয় করা হয়। এই থেকে যাওয়া শ্রমঘণ্টাই হলো উৎপাদনশীলতা লাভ বা gain, যা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক-কর্মীদের মধ্যে সমান ।
অর্থাৎ ৫০ ভাগ করে দেওয়া হয় ।

 

একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিলম্বিত পারিতোষিক পরিকল্পনা নক্সাকরণ

Leave a Comment