আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ব্যবসায় নৈতিকতার পরিধি। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৯ এর অন্তর্গত।
ব্যবসায় নৈতিকতার পরিধি

বলা হয় ব্যবসায়ই নৈতিকতা, নৈতিকতা ব্যবসায় নয়। ব্যবসায়ে নৈতিকতার সমস্যা প্রাচীনকাল থেকেই চলে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে শাসকবর্গ এটিকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। যাই হোক, ব্যবসায় নৈতিকতার বিষয়বস্তু নিম্নরূপ:
১. ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য ও ধারণা যেন ক্ষতিকর না হয় ।
২. যাদের জন্য পণ্য ও সেবা তৈরি করা হয়, উহা যেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের জন্য ক্ষতিকর না হয়।
৩. ব্যবসায়ের অবস্থান যেন প্রতিবেশীদের জন্য কষ্টকর না হয়। উদাহরণস্বরূপ: শব্দ দূষণ, দুর্গন্ধ, বর্জ্য নিষ্কাশন প্রভৃতি কারণে ব্যবসায় বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বসবাসকারী লোকদের সমস্যা না হয়।
8. তেল বা জ্বালানীর ব্যবহার, উপজাত দ্রব্য বা (by-product) বর্জ্য যেন প্রতিবেশীদের জন্য দুর্ঘটনার কারণ বা কষ্টদায়ক না হয় । আর্থিক ক্ষতি ও পরিবেশ দূষণ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।
৫. পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদেরকে যেন সঠিক তথ্য প্রদান করা হয়। বিজ্ঞাপন, সঠিক মোড়কীকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সঠিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. কোনো বৈষম্য ব্যতিরেকে কর্মী নিয়োগ করতে হবে। তাদেরকে পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক ও বেতন দিতে হবে, কার্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকর কার্যপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পদোন্নতির সুযোগ থাকতে হবে, অবসর সুবিধা প্রদান করতে হবে প্রভৃতি ।
৭. সমাজের কোনো ক্ষতির কারণ হওয়া যাবে না। নগরায়ণের ক্ষেত্রে জনগণের যেন কোনো সমস্যা না হয়, নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য রাস্তা, সামাজিক বনায়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহায়তা করতে হবে ।
৮. যথারীতি কর পরিশোধ, বিশ্বাসের সাথে জাতীয় অর্থনৈতিক, ব্যবসায় ও শিল্পসংক্রান্ত নীতিমালা মেনে চলতে হবে।
৯. আন্তর্জাতিক ব্যবসায়কে অবশ্যই দেশীয় আইনকানুন, অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি অবহেলা করা কিংবা এসব বিষয়ে নাক গলানো উচিত নয় ।
১০. শেয়ারহোল্ডারদেরকে নিয়মিত মুনাফার অংশ দিতে হবে।
১১. সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখতে হবে, যেন সমাজ ব্যবসায়ী ব্যবসায়কে দায়ী করতে না পারে ।
পরিশেষে বলা যায় যে, নৈতিকতা একটি বিশাল ব্যাপার। তাই ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। তথাপি উপর্যুক্ত ক্ষেত্ৰসমূহে নৈতিকতার বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

