নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৯ এর অন্তর্গত।

নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ

 

নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ

 

বর্তমানকালে সর্বত্রই ব্যবসায় নৈতিকতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের নিকট এটি অত্যন্ত আলোচিত বিষয়। কারণ তাদের দায়িত্ব হলো: এমন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নৈতিকতার বিষয়টি চিন্তা করা হয়। সুতরাং নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বুঝায়, যেন প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যসম্পাদনে নৈতিকতার ধারণা ব্যবহার করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের নিচের স্তর হতে শুরু করে উচ্চ স্তর পর্যন্ত সকলেই যখন স্ব-স্ব কার্যে নৈতিকতার ধারণাটি মনে রেখে কার্যসম্পাদন করে, তখন তাকে নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ বলে। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃক নৈতিকতাকে বিবেচনা করা হলে, তা-ই নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ।

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা :

human resource management) একই সঙ্গে একটি অধ্যয়নের বিষয় ও ব্যবস্থাপনা কৌশল যা একটি প্রতিষ্ঠানের অভীষ্ঠ লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আভ্যন্তরীক মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করে। কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট করা, আগ্রহীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের খুঁজে বের করা ও নিয়োগ প্রদান, কর্মীদের অনুপ্রাণিত করা ও তাদের সাথে প্রতিষ্ঠানের সু-সম্পর্ক বজায় রাখা,

 

তাদের কর্মজীবনে উত্তরোত্তর উন্নয়নের পথ সৃষ্টি করা এবং প্রয়োজনে তাদের ছাঁটাই করাসহ প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ সম্পর্কিত সব ধরনের কাজই প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাজ। কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা যার মধ্যে প্রধান চারটি হলো বিক্রয় ও রাজস্বআয় বৃদ্ধি, মুনাফা অর্জন ও বর্ধন,

মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উন্নততর করণ। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে কাজ করার সময় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে সেই দেশের শ্রম আইন ও কর্মসংস্থান আইন মেনে চলতে হয়। প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যিনি থাকেন তাকে সচরাচর মানব সম্পদ ব্যবস্থাপক বলা হয়।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সারা বিশ্বে শিল্প বিপ্লব শুরু হলে তুমুল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের দিয়ে অবৈধভাবে কাজ করিয়ে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এবং এর ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে থাকে।

মূলত এই শ্রমিক অসন্তোষের ফলেই মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ধারণার জন্ম হয়। তৎকালীন সময়ে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজ ছিল শ্রমিকদের কর্ম-ঘণ্টার হিসাব রাখা এবং তাদের যথোপযুক্ত পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়োজনের তাগিদে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রথাগত পারসোনেল ম্যানেজমেণ্ট থেকে পৃথক।

 

নৈতিকতার প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ

Leave a Comment