নৈতিকতা ও ব্যবসায় নৈতিকতার সংজ্ঞা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নৈতিকতা ও ব্যবসায় নৈতিকতার সংজ্ঞা । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৯ এর অন্তর্গত।

নৈতিকতা ও ব্যবসায় নৈতিকতার সংজ্ঞা

 

নৈতিকতা ও ব্যবসায় নৈতিকতার সংজ্ঞা

 

নৈতিকতা

নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ `Ethics’ যা গ্রিক শব্দ ‘ইথস’ (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘চরিত্র’ বা রীতিনীতি
(Character or Custom) । বর্তমানকালে এ ‘ইথস’ শব্দটি বিশেষ প্রবণতা, বিশেষ লোকের মনোভাব, চরিত্র, সংস্কৃতি
প্রভৃতি প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়। নৈতিকতা এমন কিছু জিনিস চিহ্নিত করে এবং মানুষের আচরণকে এমনভাবে চালিত করে, যা সমাজের প্রত্যাশিত ।

প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট। নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে। ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, “নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।” (The discipline dealing with what is good or bad with moral duty and obligation ) ।

Godiwalla & Faramarz – এর মতে, নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।” (As the process of distinguishing the right and good from the wrong and bad, and they imply a moral duty to persue the good and the right.)

বৃহদার্থে বলা যায় যে, নৈতিকতা এমন কিছু মৌলিক রীতিনীতি বা মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেয়, যেন প্রতিটি কাজ গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। Kreitner Eliason foundations of Management- এর মতে ভুল বনাম সঠিক এর সংশ্লিষ্টতার সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পর্যালোচনা করাই হলো নৈতিকতা। (Ethics is defined as the study of moral obligation.)

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে নৈতিকতার কতিপয় বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। যেমন:
(i) নৈতিকতা হলো ভুল ও সঠিক এর মধ্যে তুলনাকরণ;
(ii) এটি নৈতিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে;
(iii) এটি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে; এবং
(iv) এটি ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।

সুতরাং বলা যায় যে, নৈতিকতা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করত সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি নৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।

ব্যবসায় নৈতিকতার সংজ্ঞা

ব্যবসায় নৈতিকতা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সত্য ও বিচার-বিবেচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। ব্যবসায় নৈতিকতার বিভিন্ন দিক রয়েছে, যেমন: সমাজের প্রত্যাশা, স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ, সামাজিক দায়দায়িত্ব, ক্রেতার স্বাধীনতা এবং দেশ- বিদেশে ব্যবসায়িক আচরণ ইত্যাদি। কখনো কখনো ব্যবসায় নৈতিকতাকে ব্যবস্থাপনা নৈতিকতা, সাংগঠনিক নৈতিকতা বলেও আখ্যায়িত করা হয় ।

ব্যবসায় নৈতিকতা সাধারণ নৈতিকতার বিশেষায়িত শাখা, যা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে নৈতিকতার বিষয়গুলো বিবেচনা করতে সতর্ক করে দেয়। নৈতিকতা মানুষের চরিত্র নিয়ে গবেষণা করে। সাধারণভাবে নৈতিকতা বলতে বুঝায় ব্যক্তিকে সতর্ক করার সামাজিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা এবং এটি এমনভাবে করা হয়, যেন মানুষের আচরণকে ভালো কাজের দিকে পরিচালিত করা যায়।

এক্ষেত্রে ব্যবসায়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নৈতিকতার ব্যবহারকে ব্যবসায় নৈতিকতা বলে। ব্যবসায় নৈতিকতাকে ব্যবস্থাপনা নৈতিকতাও বলে। বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন:

১। T. M. Garrett-এর মতে, “ব্যবসায় নৈতিকতা প্রাথমিকভাবে ব্যবসায় লক্ষ্য ও কৌশলের সাথে বিশেষত মানুষের প্রত্যাশা পূরণের সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, ব্যবসায় নৈতিকতা বিশেষ দায়দায়িত্ব নিয়ে গবেষণা করে যা একজন ব্যক্তি বা নাগরিক গ্রহণ করে, যখন সে ব্যবসায় জগতের অংশীদার হয়।”

(Business ethics is concerened primarily with the relationship of business goods and techniques to specifically human ends. This means that business ethic studies the special obliagations with a man and a citizen acceppts when he becomes a part of the world of commerce.)

২। Weihrich & Koontz – বলেন, “ব্যবসায়-নৈতিকতা সত্য ও ন্যায় বিবেকের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর বিভিন্ন দিক রয়েছে। যেমন: সমাজের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন, জনসংযোগ সামাজিক দায়িত্ব, ভোক্তা স্বাধীনতা এবং দেশ-বিদেশে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ।”

(Business ethics is concerned with truth and justice and has a variety of aspects such as the expectation of society, fair competition, advertising public relations social responsibilities, consumer autonomy and corporate behaviour in the home country as well as abroad.)

৩। SJ Skinner and JM Ivacevich-এর মতে, “ব্যবসায়-নৈতিকতা হলো ব্যবসায় কার্যক্রম ও আচরণের শুদ্ধাশুদ্ধি মূল্যায়ন করা।” (Business ethics is the evaluation of business acivities and behavior as right or wrong.) উপরিউক্ত আলোচনা হতে ব্যবসায়-নৈতিকতার কতিপয় বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়, যেমন:

(i) ব্যবসায় নৈতিকতা হলো ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে মানুষের সততা ও নৈতিকতাকে প্রয়োগ করা;
(ii) এটি কতগুলি নীতির সমষ্টি যা ব্যবসায় পরিচালনায় সাহায্য করে; এবং
(iii) এটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কার্যক্রমের ভুল-শুদ্ধ মূল্যায়ন করে;
(iv) এটি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভালো আচরণের সাথে সংশ্লিষ্ট ।

 

নৈতিকতা ও ব্যবসায় নৈতিকতার সংজ্ঞা

 

সুতরাং বলা যায় যে, ব্যবসায় নৈতিকতা হলো একটি সিস্টেম; যেন ব্যবসায়ের কার্যক্রমে নৈতিক জ্ঞান ও নীতি প্রয়োগ করত: ভালো-মন্দ ও শুদ্ধ্যশুদ্ধি যাচাই করা যায়। এতে ব্যবসায় ও সমাজ উভয়ে উপকৃত হয়।

Leave a Comment