আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১০ এর অন্তর্গত।
কৌশলগত পরিকল্পনার উদ্দেশ্য

কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। নানাবিধ উদ্দেশ্যের আলোকে কৌশলগত পরিকল্পনার ভিত্তি রচিত হয়। কৌশলগত পরিকল্পনার উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. নীতি বাস্তবায়ন: প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য ও নীতি বাস্তবায়নে সাহায্য করার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
২. মুনাফা ও বিনিয়োগ: কী পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করে কত পরিমাণ মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে তা নির্ধারণ করা হয়।
৩. প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান: প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে একটা প্রতিষ্ঠান কী ধরনের অবস্থান গ্রহণ করবে বা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা নির্দিষ্ট করার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় ।
8. উৎপাদনের পরিমাণ: প্রতিষ্ঠানে উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের পণ্য কত পরিমাণ উৎপাদন করা হবে তা নির্ধারণ করাও কৌশলগত পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
৫. দীর্ঘকালীন প্রবৃদ্ধি: দীর্ঘকালীন বা স্থানীয় নীতির প্রেক্ষাপটে একটা প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধিমূলক সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
৬. বিনিয়োগ নির্ধারণ: প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে সম্প্রসারণের ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করে মূলধন জনিত বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ।
৭. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে কোন স্তরে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার উদ্দেশ্যে কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়োজিত থাকে ।
৮. সফলতা নির্ধারণ: প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে কতটুকু সুফল পাওয়া যাবে তা নির্ধারণের জন্যও কৌশলগত পরিকল্পনা গৃহীত হয় ।
৯. সম্পদের হিসাব: প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবহার ও উন্নয়নের সঠিক হিসাব এবং অনুমান নির্ধারণের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ৷
পরিশেষে বলা যায়, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো উদ্দেশ্যের সাথে কৌশলগত পরিকল্পনার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় । এ সব উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল হতে হয়।

