আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষা বা পরীক্ষার উদ্দেশ্য
Table of Contents
মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষা বা পরীক্ষার উদ্দেশ্য

মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষা বা পরীক্ষার উদ্দেশ্য
মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রার্থীর বুদ্ধিমত্ত্বা, ব্যক্তিত্ব, বিচারিক পরীক্ষা ইত্যাদি সঠিকভাবে যাচাই করে চাকরি প্রাপ্তির আগে তার মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ ও আচরণগত দিক পূর্বানুমান করা। Harrel এর মতে, “The general purpose of personnel test in industry is to improve the selection or placement of employees.” অর্থাৎ শিল্পে কর্মী পরীক্ষার সাধারণ উদ্দেশ্য হচ্ছে কর্মীর নির্বাচন ও স্থাপনের উন্নয়ন সাধন করা।
নিম্নে মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষার বিশেষ কতগুলো উদ্দেশ্য আলোচনা করা হলো:
মানসিকতা যাচাই (Mentality test):
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর মানসিকতা এবং মানসিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে পূর্বানুমান করা যায় । প্রার্থীর বুদ্ধিমত্ত্বা, আগ্রহ, প্রবণতা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি যাচাই করাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
সঠিক কর্মী নির্বাচন (Proper human resource selection) :
এই পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মীর মানসিক দক্ষতা, বৃদ্ধিমত্ত্বা, অভাববোধ, প্রেষণা ইত্যাদি সম্পর্কে আগাম ধারণা লাভ করা যায় যা সঠিক কর্মী নির্বাচন সহায়তা করে ।
প্রার্থীর মনোভাব সম্পর্কে জানা (To know the attitude of candidate):
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পদ ও কার্যসম্পর্কে চাকুরি প্রার্থীর মনোভাব জানা যায়। প্রতিষ্ঠানের পদ ও কার্যসম্পর্কে চাকুরি প্রার্থীর উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং ইতিবাচক মনোভাব থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তুলনামূলক মূল্যায়ন (Comparative evaluation):
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের তুলনামূলক মূল্যায়ন করে সর্বোত্তম প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। এই পদ্ধতিতে একই ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রার্থীর তুলনামূলক মূল্যায়ন করা যায় এবং সর্বোত্তম প্রার্থী নির্বাচন করা যায়।
প্রশিক্ষণ ব্যয় হ্রাস (Reduce training expense) :
মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর বিভিন্ন বিষয়ে ঘাটতির সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ব্যয় হ্রাস পায়। কারণ নির্দিষ্ট পদের জন্য কার্য সম্পাদনের অনুপযুক্ত প্রার্থীকে নির্বাচনের সময়ই অযোগ্য প্রার্থীকে বাতিল করা হয়।

শ্ৰম ঘুর্ণায়মানতা হ্রাস (Reduce Labor Turnver):
মনস্তাত্ত্বিক অভীক্ষার মাধ্যমে পদ ও কাজের প্রতি প্রার্থীর আগ্রহ, ঝোঁক,দক্ষতা ও জ্ঞান সঠিক পরিমাপ করে যোগ্য প্রার্থীকে সঠিক পদের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। প্রার্থীকে পদ ও কাজের প্রতি উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে নিয়োগ দেওয়ার ফলে কর্মীর কার্যসন্তুষ্টি তৈরি হয় এবং শ্রম ঘুর্ণায়মানতা হ্রাস পায়।
