পরীক্ষা বা অভীক্ষার আবশ্যিক উপাদান

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরীক্ষা বা অভীক্ষার আবশ্যিক উপাদান

পরীক্ষা বা অভীক্ষার আবশ্যিক উপাদান

 

পরীক্ষা বা অভীক্ষার আবশ্যিক উপাদান

 

পরীক্ষা বা অভীক্ষার আবশ্যিক উপাদান

নিম্নে পরীক্ষা বা অভীক্ষার আবশ্যক উপাদানসমূহ আলোচনা করা হলো:

যথার্থতা (Validity):

প্রতিষ্ঠানের পদ ও কার্যের প্রকৃতি অনুযায়ী পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণ করা উচিত যাতে পরীক্ষার যথার্থতা বিদ্যমান থাকে। প্রার্থীদের সাফল্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জনের জন্য পরীক্ষার যথার্থতা থাকা জরুরি। অর্থাৎ পরীক্ষার যথার্থতা বা বৈধতা নিশ্চিত করা গেলে প্রার্থীর ভবিষ্যৎ কার্যসম্পাদনের সাফল্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন করা যাবে। যথার্থতা বা বৈধতা তিন প্রকারের হতে পারে। যথা:

(ক) বিষয়বস্তুর যথার্থতা

(খ) গঠনমূলক যথার্থতা

(গ) বিচারমান সম্পকৃত যথার্থতা ।

বিষয়বস্তুর যথার্থতা (Content Validity):

Decenzo ও Robbins এর ভাষায়, “Content validity is the degree to which the content of the test on questions about job tasks, as a sample, represents the situations on the jobs. “বিষয়বস্তুর যথার্থতা হচ্ছে এরূপ একটি মাত্রা যাতে পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত বিষয় বা পদসম্পর্কিত প্রশ্ন নমুনা আকারে পদের অবস্থা বা পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে। এই জন্য আবেদনকারীদের সঠিকভাবে তুলনা করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট পদের সকল প্রার্থীকে একই পরীক্ষা বা প্রশ্ন প্রদান করা আবশ্যক।

গঠনমূলক যথার্থতা (Construct Validity):

Decenzo ও Robbins এর ভাষায়, “Construct Validity is the degree to which a test measures a particular trait related to successful performance on the job.” “অর্থাৎ, গঠনমূলক যথার্থতা হচ্ছে সেই মাত্রা যাতে পদের সকল কার্যসম্পাদনসম্পর্কিত বিশেষ গুণাবলি পরীক্ষার সাহায্যে পরিমাপ করা যায়।”

বিচারমানসম্পর্কিত যথার্থতা (Criterion related validity ) :

Decenzo ও Robbins এর ভাষায়, “Criterion related validity is the degree to which a particular selection device accurately predicts the level of performance on important elements of work behavior. “অর্থাৎ বিচারমানসম্পর্কিত যথার্থতা এরূপ মাত্রা যাতে নির্বাচন কৌশল সঠিকভাবে কার্যসম্পাদনের পর্যায় বা কার্য আচরণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পরিমাপের ভবিষ্যদ্‌বাণী করতে পারে।

 

বিশ্বাসযোগ্যতা (Reliability):

পরীক্ষার ফলাফল অবশ্যই নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। Deconzo ও Robbins, “Reliability means that the applicant’s performance on any given selection device should produce consisttent scores each time the device is used.” অর্থাৎ, আবেদনকারীর সফলতা বিষয়ে গৃহীত নির্বাচন কৌশলের ফলাফল প্রত্যেকবারের পরীক্ষায় সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এরূপ গৃহীত পরীক্ষা নির্ভরযোগ্য বলে ধরে নেওয়া যায়।

একাধিকবার পরীক্ষা গ্রহণের পর নির্দিষ্টপদের প্রার্থীর ফলাফল যদি একই হয় তাহলে ধরে নেওয়া যায় যে পরীক্ষা ফলাফল নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। তাই এরূপ পরীক্ষা বা অভীক্ষা গ্রহণ করতে হবে যেখানে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল পাওয়া যায়।

Gary Dessler, “Reliability is the consistency of scores obtained by the same person when retested with the identical or equivalent tests.” অর্থাৎ নির্ভর যোগ্যতা হচ্ছে কোনো পরীক্ষার একই ব্যক্তির এরূপ স্কোর লাভ যা একই ধরনের পুন:পরীক্ষার ফলাফলের সাথে সংগতিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কোনো আবেদনকারীর বুদ্ধিমত্ত্বা পরীক্ষার জন্য পরপর দুই দিন পরীক্ষা গ্রহণ করা হলো।

প্রথম দিন বুদ্ধিমত্ত্বা পরীক্ষায় আবেদনকারী ১০০ নম্বর এর মধ্যে ৫০ নম্বর পেল এবং দ্বিতীয় দিন একই ধরনের বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় ঐ আবেদনকারী ১০০ নম্বর এর মধ্যে ৯০ নম্বর পেল। এরূপ হলে পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না কারণ ফলাফল সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

বাস্তবতা (Practicality ) :

পরীক্ষায় বাস্তবতা গুণ থাকা প্রয়োজন। কাজের প্রকৃতি ও ধরন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা কৌশল ব্যবহার করা আবশ্যক। অর্থাৎ পদ বা কাজের প্রকৃতি ও ধরন উপযোগী বাস্তবভিত্তিক পরীক্ষা গ্রহণের কৌশল ব্যবহার করা আবশ্যক।

 

পরীক্ষা বা অভীক্ষার আবশ্যিক উপাদান

 

মিতব্যয়িতা (Economy) :

পরীক্ষা গ্রহণে যেন ব্যয়ের আধিক্য না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পরীক্ষা গ্রহণের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংগতি বিবেচনা করে নিতে হবে। পরীক্ষা গ্রহনের ব্যয় যেন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত সুফলের বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

Leave a Comment