আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বেতন ও পারিশ্রমিক আইন প্রণয়নের ঐতিহাসিক পটভূমি। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।
বেতন ও পারিশ্রমিক আইন প্রণয়নের ঐতিহাসিক পটভূমি

বেতন ও পারিশ্রমিক সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের অনেক ইতিহাস রয়েছে। প্রাচীনযুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কর্মীদের বেতন পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো বিরোধ হয়নি। যাই হোক, নিচে পারিশ্রমিক ও বেতন সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও উন্নয়নের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হলো:
১. ১৪শ’ শতাব্দী (14th Century) : ১৪’শ শতাব্দীতে ইউরোপে বাণিজ্য বিপ্লব শুরু হয়। এতে পারিশ্রমিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তবে ইউরোপে কর্মরত শ্রমিকগণ নিয়োগকর্তার সাথে পারিশ্রমিক বিষয়ক আলোচনার ব্যবস্থা করে।
২. ১৫শ’ শতাব্দী (15th Century) : এ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকরা পারিশ্রমিক হার নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়। শুধু তাই নয় এই আলোচনার প্রেক্ষিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ‘Just Price Rate’ নির্ধারণ করে। এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট হারে পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে।
৩. ১৬শ’ শতাব্দী (16th Century) :
ক. ১৬শ’ শতাব্দী থেকে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়।
খ. সরবরাহ শ্রমিকের কারণে শ্রমের চাহিদা হ্রাস পেতে থাকে ।
গ. এই শতাব্দীতে গ্রামে অবস্থিত কুটিরশিল্প ব্যাপক আকারে সম্প্রসারিত হয় ।
ঘ. শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের হার হ্রাস পায় এবং জীবনযাত্রার মান কমে যায় ।
ঙ. উৎপাদন কাজে পরিবর্তনশীলতা আসে।
চ. এমন সময় ১৫৬২ সালে English Parliament ন্যূনতম পারিশ্রমিক আইন পাস করে।
৪. ১৭শ’ শতাব্দী (17th Century) :
ক. ১৭শ’ শতাব্দীতে ১৬শ’ শতাব্দীর কুটিরশিল্প গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরিত হয় ।
খ. এই পরিবেশে সাধারণত পারিশ্রমিকের হার অত্যন্ত কম ছিল ।
গ. উৎপাদনের জন্য একক প্রতি (piece rate) পারিশ্রমিকের হার নির্ধারিত হয়।
৫. ১৮শ’ শতাব্দী (18th Century) :
ক. ১৮শ’ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে শিল্পে বিপ্লব শুরু হয়।
খ. এ সময় বাষ্প ইঞ্জিন ও অন্যান্য প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয় ।
গ. শিল্প বিপ্লবের পউপরই বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
ঘ. এই শতাব্দীতে বেতন কম ছিল কিন্তু কর্মীদের কাজের চাপ ছিল অনেক বেশি।
ঙ. শ্রমিকদের চাহিদা বেশি ছিল তবে তাদের কাজ ছিল অসহনীয় ।
৬. ১৯শ’ শতাব্দী (19th Century) :
ক. ১৯শ’ শতাব্দী হলো উন্নয়ন এর শতাব্দী। এই সময় থেকে আইন প্রণয়নের কার্য পরিচালিত হয়।
খ. কারখানায় কত সময় পর্যন্ত কাজ করতে হবে তার একটি নির্দিষ্ট ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয় ।
গ. শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হয় ।
ঘ. ১৯৩০ সালে ক্ষুধার্থ শ্রমিকদের জন্য আইন প্রণয়ন চালু করা হয় ।
চ. এই শতাব্দীকে শ্রমিকদের উন্নয়ন বা অধিকারের শতাব্দী নামে অভিহিত করা হয়, কারণ এই শতাব্দী থেকেই শ্রমিকদের উন্নয়নের কার্য বৃদ্ধি শুরু হয়।
ছ. ১৯৭০ সাল থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। এ সময় তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরিশোধের নিমিত্তে আইন পাস করা হয়। যেমন: বেকারবিমা, পেনশন, স্বাস্থ্যরক্ষা বিমা ইত্যাদি। এর মাধ্যমে মালিকদেরকে এ তথ্য প্রচার করা হয় যে, শ্রমিকেরাও “মানুষ” (Human being) । তাদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
এ সময় থেকেই তাদের জন্য মুনাফার অংশীদারিত্ব, পুরস্কার, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যবস্থা করা হয় এবং যখন-তখন তাদেরকে বরখাস্ত করা যাবে না মর্মে আইন পাস করা হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, বেতন ও পারিশ্রমিকের আইন প্রনয়ন ও ক্ষতিপূরণের ঐতিহাসিক উন্নয়ন অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ।

