পারিশ্রমিক ও শ্রমঘণ্টার প্রধান আইনসমূহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পারিশ্রমিক ও শ্রমঘণ্টার প্রধান আইনসমূহ। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৮ এর অন্তর্গত।

পারিশ্রমিক ও শ্রমঘণ্টার প্রধান আইনসমূহ

 

পারিশ্রমিক ও শ্রমঘণ্টার প্রধান আইনসমূহ

 

শ্রমঘণ্টা ও পারিশ্রমিকের আইনসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তা দেওয়া হলো :

১. রেলওয়ে শ্রম আইন-১৯২৬ (Railway labour Act-1926) : ১৯২৬ সালে রেলওয়ে আইন পাস করা হয় এবং এই আইনে সর্বপ্রথম কর্মীদের দরকষাকষির অধিকার দেওয়া হয়, যেন তারা তাদের শ্রমঘণ্টা হ্রাস, পারিশ্রমিক বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করতে পারে।

২ . ডেভিস-বেকন আইন-১৯৩১ (The Davis Bacon Act-1931) : ডেভিস-বেকন আইন আমেরিকার প্রথম
পারিশ্রমিক আইন যা ১৯৩১ সালে পাস করা হয়। এই আইন ঠিকাদার ও উপ-ঠিকাদারদের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এ
আইনে বলা হয়েছে যে, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ন্যূনতম হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট থেকে সহযোগিতা
হিসেবে ২০০০ ডলার পাবে। শ্রমসূচির ন্যূনতম পারিশ্রমিক ঠিক করে দেবেন। পরে সংশোধিত হওয়ার পর আরও সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।

৩ . জাতীয় শ্রম সম্পর্ক আইন-১৯৩৫ (National labour relations Act-1935) : ১৯৩৫ সালের এই আইনে শ্রমিক কর্মীরা তাদের ন্যায্য অধিকার পেয়ে থাকে। অর্থাৎ তারা তাদের শ্রমঘণ্টা হ্রাস, পারিশ্রমিক বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য দাবি করতে পারে ।

৪ . ওয়ালস-হিলি সরকারি চুক্তি আইন-১৯৩৬ (Walsh-Healy public contracts Act-1936) : প্রতিষ্ঠানে ১০,০০oto a টাকার অধিক চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য সরকার একটি আইন জারি করেছে। তাহলে যারা দৈনিক ইত্যাদির জন্য দাবি ও সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বেশি কাজ করে তাদের দেড় গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিতে হবে।

৫. যৌক্তিক শ্রমমান আইন-১৯৩৮ (Fair labour standards Act-1938 ) : এটি এমন একটি আইন যেখানে সকল শ্রেণির বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মীদের জন্য ন্যূনতম পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, এটি ওভারটাইম নিয়েও নিয়ম করে দিয়েছে।

পরিশেষে বলা যায় যে, পারিশ্রমিক ও শ্রমঘণ্টার উপর্যুক্ত সকল আইন অপরিহার্য।

 

শ্রমিক-কর্মীদের পেনশন ও শ্রম কল্যাণসংক্রান্ত আইন (Employee pension and welfare legislation) :প্রত্যেক দেশেরই নিজ নিজ নিয়মনীতি, আইনকানুন রয়েছে। সে অনুসারে ১৯৬০ ও ১৯৭০ সালে U.S.A-তে শ্রমিক কর্মীদের পেনশন ও কল্যাণ এর জন্য বিশেষ কিছু আইন জারি করা হয়। বিগত বিশ শতকে আমেরিকাতে বহুসংখ্যক শ্রমিক কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণে কাজ করে উপার্জন করতে অক্ষম এমন বহু শ্রমিককে আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। কাজের সাথে সম্পর্কিত কোনো কারণে অসুস্থ হয়েছে বা অক্ষম হয়েছে এমন শ্রমিকদেরকে উপার্জনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ১৯৩৫ সালে ‘সামাজিক নিরাপত্তা আইন’ (Social Security Act-1935) পাস করা হয় যাতে শ্রমিক কর্মীদেরকে অবসর সময়ে আয়ের সুবিধা দেওয়া হয়।

বিশেষ করে যারা নিজেদের ভুলে বা কারণে নয় বরং প্রতিষ্ঠানের ভুলে বা কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়েছে বা কাজহীন হয়েছে তাদেরকে আর্থিক নিরাপত্তা বা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যাই হোক নিচে এ রকম কিছু আইন সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে :

১. আয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত (Income medical facilities without gap) : শ্রমিক ও কর্মীর কল্যাণ ও পেনশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে আইন প্রথা চাল হয় তাহলো তাদের আয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি হবে না। এতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

২. নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা (Employers security) : প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তার নিরাপত্তার জন্য এই আইন পাস করা হয়। কারণ নিয়োগকর্তার কল্যাণসাধন হলে শ্রমিক-কর্মীদেরও উন্নতি সাধন হবে।

৩. কল্যাণ এবং পেনশন পরিকল্পনা প্রকাশ আইন (Welfare and pension plan disclosure Act) : যেখানে ২৫ জনের বেশি কর্মী কর্মরত সেখানে এ আইনটি প্রযোজ্য। এ আইনের অধীনে মেডিকেল, সার্জারি ও হাসপাতালের যে কোনো প্রয়োজনে শ্রমিক-কর্মীদেরকে সুবিধা প্রদান করতে হবে। আর পেনশন পরিকল্পনা হলো মুনাফার অংশীদারিত্ব ও অবসরে যাওয়া পর্যন্ত প্রদান করতে হবে ।

৪. বাণিজ্য আইন (Trade Act) : শ্রমিকদের পেনশন ও কল্যাণের বিশেষ একটি আইন হলো বাণিজ্য আইন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানেরও মুনাফা অর্জিত হয়। ফলে শ্রমিক কর্মীদের কল্যাণে মুনাফার অংশ ব্যয় করা যায় ।

৫. কল্যাণ বিনিয়োগ আইন (Welfare investment Act) : কল্যাণ বিনিয়োগ আইন শ্রমিক কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য অন্যতম একটি ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক-কর্মীদের কল্যাণার্থে প্রদেয় অর্থ বিনিয়োগ করে যে মুনাফা অর্জিত হবে তা উভয়ের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে। এর ফলে সকলে প্রতিযোগী বিশ্বে টিকে থাকতে সক্ষম হয়।

সুতরাং বলা যায় যে, কর্মীর পেনশন ও কল্যাণের জন্য উপর্যুক্ত আইনসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোটকথা শ্রমিক-কর্মীদের পেনশন সুবিধা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বহু আইন পাস করে তা কার্যকর করা হয়েছে।

আয়কর সংক্রান্ত আইন (Tax treatment legislation) : আয়কর সংক্রান্ত আইন পাস করা হয় ১৮৭২ সালে। এর জন্য মার্কিন কংগ্রেসকে বলা হয় যে আর যাই হোক আয়কর অবশ্যই আদায় করা আবশ্যক। এটির প্রচলন হয় আমেরিকাতে। কিন্তু যদি শ্রমিকদের আয় কোথাও বিনিয়োগ করা হয় তবে তা রেয়াতযোগ্য। তবে প্রধান কিছু কর আইন আছে যা বাধ্যতামূলক। যেমন:
i. Tax Revenue Act.
ii. Economic Recovery Tax Act.
iii. Tax Reform Act.
iv. Income Tax Law.
v. Tax Payer Relief Act.
vi. The Worker Economic Opportunity Act etc.

নিয়োগ বৈষম্য নিরোধ সম্পর্কিত আইন (Anti-Discrimination in employment legislation) :১৯৩০ সালের আগে শ্রমিকদের নিয়োগ বৈষম্য রোধে কোনো আইন ছিল না। পরবর্তীতে এই আইন পাস হয়। এর ফলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার পায়। এই আইনে কর্মীদের কীভাবে বেতন দেওয়া হবে, কী পরিমাণ দেওয়া হবে তার সব বর্ণনা আছে।
কিছু বৈষম্য নিরোধ আইন নিম্নরূপ :
i. Equal Pay Act : 1963.
ii. Rehabilitation Act: 1973.

iii. Executive Order : 1964.
iv. Older Workers Benefit Protection Act : 1990.
v. Civil Rights Act : 1991.
vi. Family and Medical League Act : 1993.
vii. Uniformed Services Employment and Re-employment Rights Act : 1994.

 

পারিশ্রমিক ও শ্রমঘণ্টার প্রধান আইনসমূহ

 

পারিশ্রমিক ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ আইন

যখন কমমাত্রায় বেকার ছিল তখন পারিশ্রমিক ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করা হয়। কারণ বেকারত্বের সময় যোগান কম, দাম বেশি হয় ফলে এই সকল কিছু রোধের জন্য এই আইন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান পারিশ্রমিক ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের আইন হলো :
i. Wages Stabilization Act.
ii. Defense Production Act. etc.

iii. Economic Stabilization Act- 1970

Leave a Comment