ক্ষতিপূরণ প্রশাসন অথবা মজুরি ও বেতন প্রশাসনের উদ্দেশ্য

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ক্ষতিপূরণ প্রশাসন অথবা মজুরি ও বেতন প্রশাসনের উদ্দেশ্য

ক্ষতিপূরণ প্রশাসন অথবা মজুরি ও বেতন প্রশাসনের উদ্দেশ্য

 

ক্ষতিপূরণ প্রশাসন অথবা মজুরি ও বেতন প্রশাসনের উদ্দেশ্য

 

ক্ষতিপূরণ প্রশাসন অথবা মজুরি ও বেতন প্রশাসনের উদ্দেশ্য

প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা এবং শ্রমিক-মালিক উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ন্যায্য ও যথোপযুক্ত বেতন ও মজুরি নির্ধারণ করা আবশ্যক। বেতন ও মজুরি প্রশাসনের এই রকম বহু উদ্দেশ্য রয়েছে। নিম্নে মজুরি ও বেতন প্রশাসনের উদ্দেশ্য আলোচনা করা হলো:

ন্যায্য মজুরি ও বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা (Establish a good wage and salary structure):

ন্যায্য মজুরি ও বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা মজুরি ও বেতন প্রশাসনের অন্যতম উদ্দেশ্য। মজুরি ও বেতন কাঠামো ন্যায্য ও যথোপযুক্ত হলে শ্রমিক ও কর্মীদের প্রেষণা, কর্মস্পৃহা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি পায় ।

দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী আকর্ষণ (Attract skilled and experienced employees ) :

দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে শ্রমিক ও কর্মীদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ করে গড়ে তোলা। দক্ষ কর্মী বাহিনী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সহজ করে দেয়। তাই এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদেরকে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করাতে গেলে বা প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখতে গেলে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় বেতন ও মজুরি প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

উৎপাদন বৃদ্ধি (Increase production) :

প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মীদের ন্যায্য ও উপযুক্ত মজুরি ও বেতন প্রদান করলে তাদের প্রেষণা, কর্মোৎসাহ এবং কর্মউদ্দীপনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পায়। অন্যভাবে বলা যায় যে, প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ন্যায্য ও উপযুক্ত বেতন ও মজুরি প্রদান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে । প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন অনেক সহজ হয়ে যায়।

শ্রমিক ও কর্মীদের অসন্তোষ দূরীকরণ (Removing dissatisfaction from workers ) :

শ্রমিক ও কর্মীদের ন্যায্য, সঠিক এবং যথোপযুক্ত বেতন ও মজুরি প্রদান করলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ, নেতিবাচক মনোভাব এবং হতাশা দূর হয়ে যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মীরা অধিক আগ্রহ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে।

 

শ্রম ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস (Reduce labor turnover):

ন্যায্য, সঠিক এবং যথোপযুক্ত মজুরি ও বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মীদের শ্রম ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস করে। ন্যায্য, সঠিক এবং যথাপোযুক্ত মজুরি ও বেতন নির্ধারণ করলে শ্রমিক ও কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলেই শ্রমিক ও কর্মীদের শ্রম ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস পায় ।

সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা (Maintaining good relatinoship):

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে। ন্যায্য ও সঠিক বেতন প্রদানের মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। বৈষম্যমূলক বেতন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে যা কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে ।

শিল্প বিরোধ হ্রাস (Reduce industrical dispute):

প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মীদের যদি কাজ অনুপাতে সঠিক মজুরি ও বেতন না দেওয়া হয় তাহলে শিল্প বিরোধ সৃষ্টি হয়। তাই ন্যায্য, সঠিক ও উপযুক্ত মজুরিও বেতন প্রদানের মাধ্যমে শিল্প বিরোধ হ্রাস করা যায়।

মনোবল বৃদ্ধি (Increase morale):

প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মীদের সঠিক ও উপযুক্ত মজুরি ও বেতন প্রদান করলে তাদের মধ্যে হতাশা দূর হয় এবং মনোবল বৃদ্ধি পায়। আর মনোবল বৃদ্ধি পেলেই শ্রমিক ও কর্মীরা আরো উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করে।

প্রেষণাদান (Motivation) :

প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মীদের যদি কাজের অনুপাতে মজুরি ও বেতন প্রদান করা হয় তবে এটা তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রেষণা হিসেবে কাজ করে। এর ফলে শ্রমিক ও কর্মীরা আরো বেশি উৎসাহ ও আগ্রহ নিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করে এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

 

ক্ষতিপূরণ প্রশাসন অথবা মজুরি ও বেতন প্রশাসনের উদ্দেশ্য

 

মজুরি ও বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন ( Implementing wage & salary structure ) :

বেতন ও মজুরি প্রশাসনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বেতন ও মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন। এই কাঠামো বাস্তবায়ন হলে শ্রমিক কর্মীদের মধ্যে কাজের প্রতি আগ্রহ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

Leave a Comment