আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য
Table of Contents
প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য

প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন কর্মীদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং পুরনো কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য গড়ে তোলা। প্রশিক্ষণ শুধু কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না বরং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণসাধণ ও সামাজিক সম্পর্ক স্থাপণেও গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখে। নিম্নে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হলো:
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পরিচিতি (Acquaintance with the organization):
প্রতিষ্ঠানের নতুন কর্মী নিয়োগের পর তাদেরকে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সার্বিক ধারনা দেওয়া প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্যের মধ্যে পড়ে। প্রশিক্ষণের ফলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের রীতি-নীতি, কার্যসম্পাদনের কৌশল এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা গড়ে ওঠে। প্রশিক্ষণের ফলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের সাথে পরিচিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহিত হয়।
কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি (Increase efficiency) :
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। নিত্য নতুন প্রযুক্তি ও কর্ম পদ্ধতির সম্পর্কে জ্ঞানদান করে কর্মীকে আধুনিকায়ন এবং দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সঠিক এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারে। আর এর ফলে কর্মীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় ।
পরিবর্তিত অবস্থার সাথে খাপ খাওয়া (Adjust with the changing environment):
প্রশিক্ষণ কর্মীদের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলে। প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার সময় পরিবর্তনের সাথে নির্ভরশীল। প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে কর্মীগণ যে কোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা (Organizational benefits) :
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা এমনভাবে বৃদ্ধি করা হয়। যাতে তারা প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়।
অপচয় ও ক্ষয়-ক্ষতি রোধ (Prevent wastage and loss) :
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কম সময়ে, কম শ্রম ও কম কাঁচামাল খরচ করে অধিক পরিমাণ উৎপাদন করতে কর্মীরা সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনা রোধ (Prevent accident):
কারিগরি জ্ঞান বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্মীদের যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা রোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যকীয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের উৎপাদনকার্যে বিভিন্ন প্রকার দূর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করা হয় ও দূর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
সম্পদের কাম্য ব্যবহার (Optimum utilization of resources ) :
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদকে আধুনিক কর্মকৌশল ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞানদান করা হয়। এরূপ জ্ঞানপ্রাপ্ত ও দক্ষ মানব সম্পদ দ্বারা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের কাম্য ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
মনোবল বৃদ্ধি (Enhancement of morale ) :
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। প্রশিক্ষণ কর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নত কর্মকৌশল অবলম্বনের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলে যা কর্মীদের কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি (En hancement of self confidence & morale ) :
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি পায়। প্রশিক্ষণ কর্মীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত কর্মকৌশল সম্পর্কে জ্ঞানদানের মাধ্যমে তাদের কাজের প্রতি অধিক পারদর্শী করে তোলে। এর ফলে কর্মীদের কাজরে প্রতি আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি পায়।
শ্রম ঘূর্নায়মানতা হ্রাস (Reduce employee turnover):
যথার্থ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীরা কাজের প্রতি আনন্দ খুঁজে পায়। এর ফলে তারা অধিক পরিমাণ কাজে আগ্রহী হয় এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার প্রবণতা হ্রাস পায়।
সামাজিক উন্নয়ন (Social development):
প্রশিক্ষণ দ্বারা কর্মীদের তাত্ত্বিক ও কারিগরিভাবে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হয়। এর ফলে তারা প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সহজে অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে অবদান রাখে যার ইতিবাচক প্রভাব সমাজের ওপর পড়ে।

পদোন্নতির যোগ্য করে গড়ে তোলা:
পদোন্নতির যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ কর্মীদের অধিক দায়িত্ব গ্রহাণের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন পদে কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তোলে।
