আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় প্রশিক্ষণের নীতিমালাসমূহ
Table of Contents
প্রশিক্ষণের নীতিমালাসমূহ

প্রশিক্ষণের নীতিমালাসমূহ
সহজ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি (Easy training method):
শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ নীতি সহজ হওয়া উচিত যাতে কর্মীরা অতি সহজে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে। আর যদি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কঠিন হয় তবে অধিকাংশ কর্মীরা তা সহজে বুঝতে পরে না এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতারও উন্নয়ন সাধন হয় না।
সমন্বিত প্রশিক্ষণ (Integrated training) :
প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে অবশ্যই শিক্ষণ ও ব্যবহারিক এই দুই বিষয়ের সমন্বয় থাকতে হবে। তত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি যদি ব্যবহারিক বিষয়গুলো সমন্বয় করা হয় সে ক্ষেত্রে কর্মীরা প্রশিক্ষণ থেকে বেশি উপকৃত হয় এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়। তাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়নের সময় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিকেই প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন ।
অনুশীলনভিত্তিক প্রশিক্ষণ (Study oriented training):
কর্মী প্রশিক্ষণের অন্যতম নীতি হচ্ছে অনুশীলনভিত্তিক প্রশিক্ষণ। এই নীতি অনুসারে কর্মীরা জটিল শিক্ষাগুলো অনুশীলন করে আয়ত্ব করতে পারে।
প্রেষণা ও অগ্রগতিভিত্তিক প্রশিক্ষণ (Motivation and inclined based training):
প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া অবশ্যই প্রেষণা ও অগ্রগতিভিত্তিক হওয়া উচিত। এটি হলে প্রশিক্ষণার্থীরা দ্রুত উৎসাহের সাথে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে এবং তাদের কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারে। সুতরাং প্রশিক্ষণ যেন কর্মীদের মনে প্রেষণা ও আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে সেই দিকে লক্ষ্য রেখে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণ (Progress based training):
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতার উন্নয়ন সাধিত হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর যদি কর্মীদের দক্ষতার উন্নতি সাধিত না হয় সে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যর্থ বলে গণ্য হবে। সুতরাং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যাতে করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতার উন্নয়ন সাধিত হয়।
বাস্তব কর্মভিত্তিক প্রশিক্ষণ (Real job based training):
প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা ও পদ্ধতি বাস্তব ভিত্তিক হওয়া আবশ্যক । এতে কর্মীগণ বাস্তব কর্মভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যাতে বাস্তব অবস্থার সাথে যোগসূত্র থাকে। ফলে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর কর্মীগণ দ্রুত তাদের কর্মদক্ষতা প্রয়োগ করতে পারে। এছাড়াও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের ফলে কার্যক্ষেত্রে কর্মীরা সহজে খাপ খাওয়াতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থীও সমর্থতা ( Ability of trainee ) :
প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার মতো শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা আছে কিনা তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীর শিক্ষা, বয়স, কাজের প্রকৃতি ইত্যাদি বিবেচনা করে তাকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার কতটুকু সামর্থ্য আছে তা যাচাই করতে হয় এবং যাচাই করার পর সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।
সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু (Selective subject matter):
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত ও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন সেগুলো পূর্ব নির্ধারিত উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও চাহিদা পূরণ করতে পারে।
নীতিবদ্ধ ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ (Systematic & continuous training):
বিশ্বায়নের এই যুগে উন্নত প্রযুক্তি এবং নিত্যনতুন কার্য পদ্ধতির আবির্ভাবের কারণে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তাই যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে প্রশিক্ষণ পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।
সুষ্ঠু পরিবেশ (Sound environemnt):
প্রশিক্ষণের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল হওয়া আবশ্যক। অর্থ্যাৎ প্রশিক্ষণের পরিবেশ এমন হওয়া প্রয়োজন যাতে প্রশিক্ষার্থীরা সুষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল ভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে ।
সহযোগিতামূলক মানসিকতা ( Cooperative mentality ) :
প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক মানসিকতা থাকা অত্যাবশক। অর্থাৎ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এমনভাবে প্রণয়ন করা প্রয়োজন যেন প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সহযোগিতামূলক মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি হয়।
প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যক্তিগত ভিন্নতা (Individual differences of trainees):
প্রশিক্ষণার্থীরা যে সবাই একই প্রকৃতির হবে সেটা প্রত্যাশা করা যায় না। এক একজন প্রশিক্ষণার্থী এক এক প্রকৃতির হতে পারে। আর এই কারণেই ভিন্ন প্রশিক্ষণার্থীর ভিন্ন প্রয়োজনীয়তার আলোক প্রশিক্ষণ নীতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন যেন প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়।
দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক (Expert & experienced trainer):
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকই কোনো বিষয়কে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে সুন্দরভাবে এবং সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করতে পারে।
অনুবর্তন (Evaluation or followup):
নিয়মিত ও নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এর ফলে প্রশিক্ষণের অগ্রগতির পরিমাপ করা যায় এবং বিচ্যুতি গুলো চিহ্নিত করে তার জন্য সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

চিত্র : প্রশিক্ষণের নীতিমালা
