আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ মডেল
Table of Contents
প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ মডেল
প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ মডেল
কর্মীর জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির কৌশলই হচ্ছে প্রশিক্ষণ। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কাজের প্রকৃতি, কর্মীর যোগ্যতা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের-প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের-প্রয়োজন নির্ধারণ করতে পারলে এবং যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের জন্য নিম্নের মডেলটি উপস্থাপন করা হলো :

চিত্র : প্রশিক্ষণ প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ মডেল।
কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ:
প্রশিক্ষণ অবশ্যই কর্মীর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। অর্থাৎ কর্মীর কাজের প্রকৃতি বা ধরন কি, প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের লক্ষ্য-অর্জন করতে চায়, কর্মীর কোনো আচরণগুলোর প্রতি অধিক যত্নবান হতে হবে, তা বিশ্লেষণ করে প্রশিক্ষণের-প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠাণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিবেচনা:
এটি প্রশিক্ষণের-প্রয়োজন নির্ধারণের দ্বিতীয় পর্যায়। প্রতিষ্ঠাণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী কোন কোন কাজ সম্পাদন করতে হবে তা চিহ্নিত করতে হবে। কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠাণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কৌশল বা কর্মপন্থা নির্ধারণ:
প্রতিষ্ঠান তার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য-অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের নীতি, কৌশল বা কার্যপন্থা অবলম্বন করে থাকে। কোনো ধরনের কর্মপন্থা বা কৌশল অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠান তা লক্ষ্য-অর্জন করতে চায় সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণের-প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদের কার্যসম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রয়োজনীয় কার্য আচরণ চিহ্নিতকরণ:
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদ বা কার্যের প্রকৃতি বা ধরন অনুযায়ী কর্মীর আচরণের ভিন্নতা দেখা দেয় বা কর্মীর আচরণের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন: একজন উৎপাদন ব্যবস্থাপক এবং একজন হিসাব ব্যবস্থাপকের কাজের প্রকৃতি ও আচরণ এক হয়না। তেমনি একজন আর্থিক ব্যবস্থাপক এবং একজন বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপকের আচরণের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। ভিন্ন ভিন্ন আচরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন গুনাবলি রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কার্য আচরনের জন্য কর্মীর জ্ঞান, দক্ষতা ও সামর্থ্যের ঘাটতি নিরূপণ করা:
প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের শক্তি, সামর্থ্য, দুর্বলতা ও সম্ভাবনাগুলো নিরূপণ করতে হবে। দুর্বলতা বা ঘাটতি গুলো দূর করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন তা হলো- প্রশিক্ষণের ব্যয় কত হতে পারে?

প্রয়োজনীয় সম্পদ আছে কি নেই ? কে প্রশিক্ষক হবেন? প্রশিক্ষক কী প্রশিক্ষণ দিবেন? প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের কোনো ধরনের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে? প্রশিক্ষণ কতটুকু বাস্তবসম্মত হবে প্রভৃতি।
