প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলপ্রদতা মূল্যায়ন

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলপ্রদতা মূল্যায়ন

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলপ্রদতা মূল্যায়ন

 

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব

 

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলপ্রদতা মূল্যায়ন

প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন অপরিহার্য। প্রশিক্ষণের ফলাফল পরিমাপের জন্য প্রধানত চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা যায়। সেগুলো হলো:

প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন (Re-action) :

প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীর প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্রের মাধ্যেমে লিখিত ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে মৌখিক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে তা জানা যায়।

শিক্ষণ (Learning):

মানুষের আচরণের স্থায়ী পরিবর্তন ও সংশোধনের প্রক্রিয়াই হচ্ছে শিক্ষণ। শিক্ষণের ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আচরণে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী পরিবর্তন সাধিত হয়।

আচরণ (Behavior) :

কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীর আচরণের পরিবর্তন সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রশিক্ষণার্থীদের আচরণের পরিবর্তন জানার জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষন করা প্রয়োজন।

ফলাফল ( Results):

প্রশিক্ষণের অর্জন সম্পর্কে জানা আবশ্যক। প্রতিটি প্রশিক্ষণেরই নির্ধারিত উদ্দেশ্য থাকে। আর এই প্রশিক্ষনের নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সাথে এর অর্জন কতটুকু তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এইজন্য প্রশিক্ষণার্থীদের মন্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন ।
প্রশিক্ষণের ফলপ্রদতা মূল্যায়নের জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে:

 

পরীক্ষা ও পুন:

পরীক্ষার পদ্ধতি (Test-retest method): প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার পূর্বে এবং অংশগ্রহণ করার পরে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে পরীক্ষা গ্রহণ করার মাধ্যমে এই পদ্ধতি সম্পন্ন হয়। এইরূপ পরীক্ষা লিখিত বা মৌখিক এই দুই প্রকারেই হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণের ফলপ্রদতা মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার পূর্বের প্রাপ্ত স্কোরের তুলনায় যদি প্রশিক্ষণের পর প্রাপ্ত স্কোর বেশি হয় তাহলে প্রশিক্ষণ সুফলপ্রদ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ পূর্ব উত্তর কার্যসম্পাদন পদ্ধতি (Pre-post training performance method):

এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ পূর্ব কার্যসম্পাদনের মান ও পরিমাণের রেটিং এর সাথে প্রশিক্ষণ পরবর্তী কার্যসম্পাদনের মান ও পরিমাণের রেটিং এর তুলনামূলক মূল্যায়ণ করা হয়। প্রশিক্ষণের পূর্ববর্তীর তুলনায় প্রশিক্ষণের পরবর্তী রেটিং বৃদ্ধি পেলে প্রশিক্ষণ সুফলপ্রদ হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।

প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নিয়ন্ত্রিত দল পদ্ধতি (Experimental control group method):

এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণবিহীন কর্মীদলের কার্যদক্ষতার সাথে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদলের কার্যদক্ষতার তুলনা করা হয় । এই তুলনার মাধ্যমে যদি এটি প্রতীয়মান হয় যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে তা হলে প্রশিক্ষণ ফলপ্রসু হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। এই পদ্ধতিতে দক্ষতা, বুদ্ধিমত্ত্বা, শিক্ষণ ক্ষমতা এবং প্রকৃত কার্য সম্পাদন মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মীদের দুটি দলে বিভক্ত করা যায়।

একটি হলো নিয়ন্ত্রিত দল (Control Group) এবং অন্যটি হচ্ছে পরীক্ষণ বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দল (Experimental group)। প্রশিক্ষণ শেষে উভয় দলের কার্য সম্পাদনে পূনঃমূল্যায়ন করা হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলের কার্যসম্পাদনের উন্নতি হলে এবং এ দলের কার্য সম্পাদন নিয়ন্ত্রিত দলের কার্যসম্পাদনের তুলনায় উন্নততর হলে বুঝা যাবে যে প্রশিক্ষণ ফলপ্রসু হয়েছে।

উপরে আলোচিত পদ্ধতিসমূহ ছাড়াও কতিপয় বিষয় লক্ষ্য ও বিবেচনা করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর কার্যক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যেতে পারে ।

(ক) প্রশিক্ষণের ফলে প্রতিষ্ঠানে কর্মীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদিত পন্যের মান উন্নত হবে।

(খ) প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, কাঁচামালসহ অন্যান্য সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অপচয় কম হবে।

(গ) কর্মীর কাজে অনুপস্থিতি এবং কর্ম পরিত্যাগের হার কমে আসবে।

(ঘ) উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং উৎপাদনের সময়ের অপচয় কম হবে।

(ঙ) কর্মীর মনোবল উন্নত হবে।

 

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলপ্রদতা মূল্যায়ন

 

(চ) প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে।

(ছ) প্রতিষ্ঠানে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment