বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের স্তর

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের স্তর। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১৩ এর অন্তর্গত।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের স্তর

 

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের স্তর

 

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদের অনুসরণকৃত সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তবে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একজন কর্মকর্তা হিসেবে তাদেরকে কিছু সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ লালন করতেই হয়। যাই হোক, নিচে বিভিন্ন স্তরের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :

১। সংস্কৃতি (Culture) :

বাংলাদেশের সংস্কৃতি অনেক পুরনো। এ দেশের মানুষ ধর্মপরায়ন। এ দেশের মানুষ যৌথ পরিবারে বসবাস করে অভ্যস্ত। এ দেশে সকলেই বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করে এবং ছোটদেরকে যথেষ্ট স্নেহ করে। সুতরাং কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদেরকে সমাজের মানুষের এই সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বুঝতে হবে, জানতে হবে। তা হলে তার পক্ষে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সহজ হবে ।

২। সমসংস্কৃতি (Indifferent in Culture) :

একজন কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের নির্দিষ্ট সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ থাকতে হবে। তিনি যদি প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মীদের সমপর্যায়ের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ধারণ করেন, তা হলে প্রতিষ্ঠান কার্যকারিতা অর্জন করতে পারবে না। তাকে একটু আলাদা হতেই হবে।

৩। কর্মীদেরকে আকৃষ্টকরণ ও প্রণোদনা দান (Attract & Motivate Employees) :

একজন কৌশলগত ব্যবস্থাপক যদি কর্মীদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে, তা হলে তার পক্ষে কর্মীদেরকে কাজের প্রতি আকৃষ্ট করা ও সেই সাথে প্রণোদিত করা খুব সহজ হয়।

৪। সংস্কৃতিগত পরিবেশ (Cultural Environment) :

একজন ব্যবস্থাপক হলো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের নেতা। তিনি যদি কর্মীদের মধ্যে ভালো সংস্কৃতি সৃষ্টি করেন, তা হলে তারা প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে এবং তারা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।

 

৫৷ সৃষ্টি করতে পরিবেশের নিরবিচ্ছিন্নতা (Spontaneity of Environment) :

প্রতিষ্ঠানে নিরবিচ্ছিন্ন কার্য পরিবেশ। wit windon sotto Settings to activa হলে কর্মীদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে মুল্যায়ন করতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে। এতে কর্মীগণ সন্তুষ্ট থাকবে এবং তারা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে নিজেকে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত রাখবে ।

৬। সংস্কৃতির ধরন (Types of Culture) :

তিন ধরনের সংস্কৃতি রয়েছে, যা একটি প্রতিষ্ঠান অনুসরণ করতে পারে, যেমন: (i) ভূ-কেন্দ্রিক সংস্কৃতি (Geocentric Culture), (ii) নির্দিষ্ট সংস্থতি বা নৃতাত্ত্বিক সংস্কৃতি (Ethroeentric Culture) এবং (iii) বহুবিধ সংস্কৃতি (Polycentric Culture) ।
(i) ভূ-কেন্দ্রিক সংস্কৃতিতে মধ্যম পর্যায়ের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে এবং সংরক্ষণ করে ।
(ii) সুনির্দিষ্ট সংস্কৃতিতে মানুষ বিশ্বাস করে যে, তাদের সংস্কৃতিই সবচেয়ে ভালো ।
(iii) বহুবিধ সংস্কৃতি মনে করে যে, প্রতিটি সংস্কৃতিতেই ভালোমন্দ দিক রয়েছে। তাই তারা মধ্যম পর্যায়ের সংস্কৃতি অনুসরণ করে ।

৭। ভূ-কেন্দ্রিক সংস্কৃতি (Geo-centric Culture) :

এ পর্যায়ে অধিকাংশ মানুষ সাধারণ সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে সুতরাং বাংলাদেশে কৌশলগত ব্যবস্থাপকগণ ভূ-কেন্দ্রিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করলেই সফল হবে। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ এটিতে বিশ্বাস করে ।

৮। সাংগঠনিক লক্ষ্যার্জন (Attain Organizational Goal) :

সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ কর্মীদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই একটি ভালো সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ফলপ্রসূ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

৯। ধর্মীয় সংস্কৃতি (Religious Culture) :

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। এখানে ঈদ উৎসব, শবে বরাত, শবে কদর প্রভৃতি দিনগুলি বিশেষ ধর্মীয় দিন হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিষ্ঠান যদি কর্মীদের এ ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে খাপখেয়ে পলিসি তৈরি করে, তা হলে কর্মীরা সন্তুষ্ট হবে এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে ব্রতী হবে ।

 

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের স্তর

Leave a Comment