আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব মূলধন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৫ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
মানব মূলধন ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য
মানব মূলধন ব্যবস্থাপনার চারটি উদ্দেশ্য রয়েছে :
১। ব্যবসায়ে কর্মীদের (মানুষের) প্রভাব এবং মূল্য সংযোজনে তাদের অবদান নির্ধারণ করা ।
২। এটি বলে দেয় যে, মানব সম্পদ প্রয়োগে অর্থের আকারে মূল্য সৃষ্টি হয়। যেমন বিনিয়োগের উপর মুনাফার হার ।
৩। ভবিষ্যৎ মানব সম্পদ ও ব্যবসায় কৌশল সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেওয়া ।
৪ । প্রতিষ্ঠানে মানব ব্যবস্থাপনা যেন সফল হয় তার জন্য কৌশল ও এর প্রয়োগ নকশা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় উপাত্ত সরবরাহ করা।
মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল উন্নয়ন:
প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য নির্ধারিত কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজন হয়। মানুষ হলো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ যা যথাযথভাবে কাজে প্রয়োগ করতে পারলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন হবেই। তাই মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল কীভাবে উন্নয়ন করা যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে।
কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি প্রণয়ন করা যায়। যেমন: প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের আলোকে, ব্যবসায় কৌশল ও ব্যবসায় পরিচালনাকারী উপাদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে এবং মানব মূলধন ব্যবস্থাপনার জন্য গৃহীত ব্যবস্থাসমূহ ও তাদের ব্যবহার পর্যালোচনা করে। যাই হোক, মানব-মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল উন্নয়নের পদক্ষেপসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো :

চিত্র : মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল উন্নয়ন ।
১। মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা লক্ষ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decide HCM Goals) :
মানব-মূলধন ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণের পূর্বে এর লক্ষ্য কী হবে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। কারণ, লক্ষ্যহীনভাবে কৌশল নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভ হবে না। সুতরাং মানব-মূলধন ব্যবস্থাপনার নিকট প্রতিষ্ঠান কী প্রত্যাশা করে তা নির্ধারণপূর্বকnd তাদেরকে পরিচালনার জন্য কৌশল নির্ধারণ করা আবশ্যক।
২। প্রয়োজনীয় ও সহজলভ্যতা পরিমাপন চিহ্নিতকরণ (Identify Measurs a Requried and Availabity) :
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজের পরিমাপ করা আবশ্যক। কার্যক্রম পরিমাপনের বিভিন্ন কৌশল বা পদ্ধতি আছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনটি প্রয়োজন ও সহজলভ্য তা চিহ্নিত করতে হবে।
৩। মানব প্রক্রিয়াকরণ (People Process) :
মানব প্রক্রিয়াকরণের অর্থ হলো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনানুযায়ী লোকবল নিয়োগ করা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে প্রতিষ্ঠানের যোগ্য কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যানুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা গ্রহণ করা যায় এমন দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে হবে এবং তাদেরকে ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪। মানব সম্পদ কার্যের কার্যকারিতা স্কোরবোর্ড (HR Function Effectiveness Scorecard) :
প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের কার্যক্রম লক্ষ্যার্জনে কতটুকু অবদান রাখতে পারছে এবং তাদের কার্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিয়মিত রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা করতে হবে। এতে তাদের দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
৫। কর্মীদের মতামত সম্পর্কিত উপাত্ত (Employee Opinion Data) :
প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে কর্মীদের মতামত গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। সেই মতামত সংরক্ষণ করতে হবে এবং উপাত্ত আকারে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট সরবরাহ করতে হবে।
৬। ব্যবসায়িক কার্যসম্পাদনের স্কোর কার্ড (Business Performance Score Card) :
একটি প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যার্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যসম্পাদন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সম্পাদিত কার্যক্রমের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে যথাযথভাবে। এতে যে কোনো সময় এ কার্যক্রমের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হবে।
৭। কর্মীদের কার্যসম্পাদনের উপাত্ত (Employee Performance Data) 1:
কর্মীগণ কে কোন ধরনের কার্যসম্পাদন করছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে প্রদত্ত কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারছে কিনা, সে সম্পর্কে উপাত্ত সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে। এটি প্রতিষ্ঠানের বহুবিধ কাজে লাগবে ।
৮। মানব মূলধন মূল্যায়ন (Human Capital Evaluation) :
প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি মানুষ প্রতিষ্ঠানের মূলধন, তা বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে তা মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু তাত্ত্বিকভাবে তাদেরকে মূলধন হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না, বাস্তবে তারা প্রতিষ্ঠানে কতটুকু অবদান রাখছে তা মূল্যায়ন করে সে মোতাবেক তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের উৎসাহজনক বোনাস বা ভাতা প্রদান করতে হবে। তবেই তারা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হবে।
৯। মানব মূলধন ও ব্যবসায় কার্যসম্পাদনের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক (Causal Links Between Human Capital And Business Performance) :
প্রতিষ্ঠানের কর্মীগণ বা প্রতিটি মানুষ আন্তরিকতার সাথে কার্যসম্পাদন করলেই কেবল ব্যবসায়িক কার্যসম্পাদিত হবে। অন্যথায়, ব্যবসায়িক কার্য আপনা-আপনিই সম্পাদিত হতে পারে না। সুতরাং এটি সহজেই অনুমান করা যায় যে, এ দুয়ের মধ্যে অনুকূল কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান। এটি মাথায় রেখেই ব্যবস্থাপনাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তথা যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১০। মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন (Develop and Implement HCM Strategy) :
এ পর্যায়ে উপর্যুক্ত ধাপসমূহ পার হয়ে এসে মানব-মূলধন ব্যবস্থাপনা কীভাবে চলবে সে সম্পর্কে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ পরিচালনার লক্ষ্যে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।

