কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভিত্তি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভিত্তি । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১ এর অন্তর্গত।

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভিত্তি

 

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভিত্তি

 

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা তিনটি করণীয় বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কাজ করে :

প্রথমত:

একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতায় মানব সম্পদ বা মানব মূলধন কৌশলগত ভূমিকা পালন করে এবং এটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের প্রধান উৎস।

 

দ্বিতীয়ত:

মানব সম্পদ কৌশলকে ব্যবসায় পরিকল্পনার সাথে উল্লম্ব সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এ ব্যাপারে এ্যালেন ও হোয়াইট (Allen and White) বলেন,

“কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের প্রধান দিক হলো- সফল প্রাতিষ্ঠানিক Set কার্যসম্পদ নির্ভর করে নিবিড় উপযুক্ততা বা সমন্বয়ের উপর অথবা ব্যবসায় ও মানব সম্পদ কৌশলের মধ্যে সম্পৃক্ততা বা সংমিশ্রণের উপর।”

Baxall ও তাঁর সহযোগীরা বিশ্বাস করেন যে,

“কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মানব সম্পদের সাথে প্রতিষ্ঠানের কৌশলের মিশে যাওয়ার উপর আলোকপাত করে।”

 

তৃতীয়ত:

প্রতিটি মানব সম্পদ কৌশল একে অপরের সাথে যুক্ত থাকবে যেন পরস্পরকে সমর্থন করতে পারে। এটাকে অনুভূমিক সমন্বয় বা সংযুক্তকরণ বলে।

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা নির্ধারিত কতকগুলো কৌশলের (Techniques) চেয়ে কতকগুলো ধারণাগত যুক্তির উপর ভিত্তি করে কর্মপন্থা ঠিক করে। এটি কৌশলগত পর্যালোচনার ভিত্তি প্রদান করে যেন প্রাতিষ্ঠানিক দিকের বিশ্লেষণ চলমান মানব সম্পদ চর্চা এবং সার্বিক বা নির্দিষ্ট মানব সম্পদ কৌশল উন্নয়নের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায়।

 

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শুধুই কৌশলগত পরিকল্পনা নয়, এটি বাস্তবায়নের সাথেও সম্পৃক্ত। এটি প্রতিযোগীদের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান, পরিবর্তনশীল এবং অধিকতর মেধাবী কর্মী নিয়োগ দেয় যাতে প্রতিষ্ঠানের কাজে তাদের দক্ষতাকে প্রয়োগ করা যায়। Schuler উল্লেখ করেন যে, কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিচের কয়েকটি বিষয়কে নিশ্চিত করে:

(i) মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কৌশল ও কৌশলগত প্রয়োজনের সাথে সম্পূর্ণরূপে সংযুক্ত;

(ii) মানব সম্পদ পলিসি, পলিসির স্থান ও একইসাথে পদসোপানের মধ্যে অবস্থান করে এবং

(iii) মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ বা চর্চা সরলরৈখিক ব্যবস্থাপকগণ ও কর্মীদের দ্বারা সমন্বিতভাবে গ্রহণ ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাঁদের প্রতিদিনের কাজের অংশ হিসেবে।

Dyer and Holder বলেন,

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা সমরূপ কাঠামো প্রদান করে যা বৃহৎ, পরিস্থিতিভিত্তিক এবং পারস্পরিক সমন্বয়যোগ্য। কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার যৌক্তিকতা হলো: এটি কর্মীব্যবস্থাপনার সহজ qiv বোধগম্য পদ্ধতি উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুবিধা অর্জন করে।

এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় উদ্দেশ্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চিন্তা করতে ১ হবে যে, মানব সম্পদ কৌশল কতটুকু নৈতিকতা বিবেচনা করে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী (Stakeholders), কৰ্মী, মালিক ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থ কতটক বিবেচনা করা হয়। এবং বহৎ জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত সম্পর্কে কতটুকু বিবেচনা করা হয়-এ সবই কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়ে।

Story বলেন,

কোমল কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মানব সম্পর্ককে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটি উন্নয়ন, যোগাযোগ, সম্পৃক্ততা, কর্মীদের নিরাপত্তা, কর্মজীবনের মান এবং কর্মজীবনের বিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে থাকে। অন্যদিকে, কঠোর কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ের স্বার্থে নিয়োজিত মানব সম্পদ কতটুকু মুনাফা অর্জন করতে পারলো তার উপর জোর দেয়।

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোমল ও কঠোর উপাদানসমূহের মধ্যে সমতা বিধান করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানকে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে এই মর্মে যে, এটি সমাজ থেকে সম্পদ আহরণ করছে। তাই সমাজকে তা ফিরিয়ে দিতে হবে।

 

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভিত্তি

 

এ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের চর্চা সম্পর্কে Mcwilliams ও তাঁর সহযোগীরা বলেন, কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব হলো প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের বাইরে সমাজের জন্য কল্যাণকর কিছু কাজ, যা আইন দ্বারা প্রযোজ্য। এ কাজগুলো মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজ না হতে পারে কিন্তু যেহেতু এগুলো জনগণের স্বার্থে নৈতিক কাজের সাথে সম্পর্কিত, সেহেতু এগুলো কৌশলগত মানব সম্পদ কার্যবিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করাই উত্তম।

Leave a Comment