মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মডেল সমূহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মডেল সমূহ

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মডেল সমূহ

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মডেল সমূহ

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মডেল সমূহ

যে সকল উপাদানের সমন্বয়ে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্র তৈরি হয় তার সমষ্টিকেই মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মডেল
বলে। অতি সাম্প্রতিককালে American Society for Training & Development (ASTD) একটি সমীক্ষার মাধ্যমে মানব সম্পদের নয়টি বিশেষ ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন। এই ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে নিম্নরুপ:

(১) প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন (২) সাংগঠনিক উন্নয়ন (৩) সংগঠনের রুপরেখা প্রণয়ন (৪) মানব সম্পদ পরিকল্পনা (৫) কর্মী নির্বাচন ও কর্মীসংস্থাণ (৬) কর্মী গবেষণা ও তথ্য পদ্ধতি (৭) ক্ষতিপূরণ ও সুবিধাদি প্রদান (৮) কর্মী সহায়তা (৯) শ্রমসম্পর্ক।

উপরিউক্ত এই ৯টি ক্ষেত্র চক্রাকারে অবর্তিত হয়। American Society for Training & Development (ASTD) উপরে উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে একটি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মডেল এর উদ্ভাবন করেন। (ASTD) কর্তৃক উদ্ভাবিত মানবসম্পদ মডেলটি নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ-

প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন (Training & Development) :

কর্মীদের কাজের মান, দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিসহ যে কোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। একটি প্রতিষ্ঠানে কর্ম নির্বাচন/নিয়োগ যতটা না চ্যালেঞ্জিং তার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে নিয়োগকৃত কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের কার্য সম্পাদনের জন্য সক্ষম ও পারদর্শী করে গড়ে তোলা।

প্রতিষ্ঠান দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য পরিকল্পিতভাবে শিক্ষণ প্রক্রিয়া চিহ্নিতকরণ, উপযোগী বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণদান ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি।

সাংগঠনিক উন্নয়ন (Organizational Development):

সাংগঠনিক উন্নয়নের পুর্বশর্ত হচ্ছে আন্তঃব্যক্তিক ও আন্তঃদলীয় সম্পর্কের উন্নয়ন। সাংগঠনিক উন্নয়ন হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি যা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের যে কোনো পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে কাজ করতে শেখায়।

 

সংগঠন ও কর্মী ডিজাইন (Organization and Employee design):

সংগঠনের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সংগঠনে কর্তব্যরত সকলকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব, কর্তব্য যথাযথভাবে বন্টন করাই হলো সংগঠনের রুপরেখা প্রণয়ন। সংগঠনে কর্মীদের কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন এবং কাজের সফলতা অর্জনের জন্য সংগঠনের রূপরেখা প্রণয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মানব সম্পদ পরিকল্পনা (Human Resource Planning) :

প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ পরিকল্পনা বলতে বোঝায় মানব সম্পদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিরূপন করা। অন্যভাবে বলা যায় যে, মানব সম্পদ পরিকল্পনা বলতে বোঝায় ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন লোকবল প্রয়োজন হবে এবং কী পদ্ধতিতে সেই প্রয়োজন পুরণ করা হবে তারই আগাম চিন্তা ভাবনা করা।

কর্মী নির্বাচন ও কর্মীসংস্থান (Employee Selection and Placement):

চাকরির জন্য আবেদনকৃত প্রার্থীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীদেরকে বাছাই করে নেওয়ার নামই হচ্ছে কর্মী নির্বাচন। কর্মী নির্বাচন ও কর্মীসংস্থান হচ্ছে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

কর্মী গবেষণা ও তথ্য পদ্ধতি (Employee Research and Information System):

বিশ্বায়নের এই যুগে মানব সম্পদের ব্যবহার ও এর উন্নয়নের ওপর গবেষণা ও তথ্য পদ্ধতির প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গতানুগতিক ধারায় কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। শিল্প বাণিজ্যে আজ তথ্যভিত্তিক কর্মী সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কার্যকরি গবেষণা ও আধুনিক তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা মানব সম্পদের ব্যবস্থাপনা এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও সুবিধাদি প্রদান (Providing Compensation and benefits):

সংগঠনের কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎপাদনে নিয়োজিত থাকার লক্ষ্যে তাদের পারিশ্রমিক বা কাজের বিনিময়ে ন্যায্য বা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ তথা বেতন-ভাতা, মজুরি ও বিভিন্ন প্রকার সুবিধাদি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ক্ষতিপূরণ ও সুবিধাদি প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা বজায় রাখাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে হলো কাজের মান, দায়িত্ব-কর্তব্যের পরিধি, কাজের ঝুঁকি, কাজের সময় ইত্যাদি বিবেচনা করে ন্যায়সঙ্গত ও যৌক্তিক মজুরি প্রদান নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

কর্মী সহায়তা (Employee support ) :

কর্মী সহায়তার মূল কাজ হচ্ছে কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানে সহায়তা প্রদান করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা। কর্মীরা যেন বিভিন্ন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যার কারণে কর্মস্পৃহা ও কার্যসন্তুষ্টি হারিয়ে না ফেলে সেটার জন্যই এই কর্মী সহায়তার ব্যবস্থা

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মডেল সমূহ

 

শ্রম সম্পর্ক (Labor Relations):

উৎপাদনের চাকাকে গতিশীল রাখতে হলে সুস্থ ও উত্তম শিল্পকর্ম তথা শ্রম- ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের সাথে ব্যবস্থাপনার দূরত্বকে কমিয়ে আনা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে শ্রম-ব্যবস্থপানা সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।

Leave a Comment