কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা অকৃতকার্য

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা অকৃতকার্য। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১০ এর অন্তর্গত।

কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা অকৃতকার্য

 

কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা অকৃতকার্য

কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা হলো ব্যবস্থাপনা জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি প্রত্যাশিতভাবে কাজ করলে প্রতিষ্ঠানের জন্য মঙ্গলজনক আর সঠিকভাবে কাজ না করলে সাংঘাতিক অসুবিধাজনক। কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অকৃতকার্য হয়, কেন অকৃতকার্য হয় নিচে তার কতগুলো কারণ উল্লেখ করা হলো :

১। শ্ৰম ঘূর্ণন বৃদ্ধি (Increase Turnover) : কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তা হলে প্রতিষ্ঠানে শ্রম ঘূর্ণনের হার বেড়ে যাবে। এতে দক্ষ কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারে যা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর। আবার, নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হলে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপার আছে। সবমিলিয়ে প্রতিষ্ঠানকে ঝামেলা পোহাতে হয়।

২। ভুল তথ্যের ব্যবহার (Use Misleading Information) : কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনায় যদি সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার করা না হয়, তা হলে কর্মীর সম্পাদিত-কার্যের পরিমাণ ও মান ঠিক থাকবে না। এতে তাদের দ্বারা সম্পাদিত কার্যের পরিমাণ ও মান সম্পর্কে ভুল তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে, কেবল প্রচারের জন্য । এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর।

৩। প্রত্যাশা কমিয়ে দেয় (Lowered Self-Esteam) : কর্মীদের প্রত্যাশা কমে যেতে পারে যদি সম্পাদিত কার্য সম্পর্কে তাদেরকে যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া বা প্রতিফলন জানানো না হয়। এতে কর্মীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি ছড়িয়ে যেতে পারে ।

8. অর্থ ও সময়ের অপচয় (Wasted Money and Time) : কোনো প্রতিষ্ঠানে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম কার্যকর করতে হলে দীর্ঘ সময় ও অর্থের প্রয়োজন হয়। এই সময় ও অর্থ উভয়ই অর্থহীন হয়ে পড়ে যদি কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম দুর্বলভাবে নকশাকরণ ও বাস্তবায়ন করা হয়।

৫। সম্পর্ক বিনষ্ট করে (Damage Relationship) : প্রয়োগকৃত কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম যদি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনে ব্যর্থ হয় এবং এটি সত্যিই যদি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণেই ঘটে, তা হলে কর্মীদের নিজেদের মধ্যে এবং কর্মী ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক বিনষ্ট হয়।

৬। প্রেষণা কমে যাওয়া (Decreased Motivation) : বিভিন্ন কারণে কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা কমে যেতে পারে। যেমন: কর্মীরা মনে করতে পারে যে, তাদের দ্বারা সম্পাদিত ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয় না সুপারভাইজর কর্তৃক, না বেতন বাড়ানো হয়, না ব্যক্তিগত স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে তাঁরা কাজে আগ্রহ পায় না ।

৭। কর্মী দহন ও কার্য অসন্তুষ্টি (Employee Burnout and Job Disatisfaction) : যখন দেখা যাবে যে, কর্মীদের সম্পাদিত কার্য সঠিকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিও সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত নয়, তখন কর্মীরা কাজের প্রতি মনোবল হারিয়ে ফেলে, মনে এক ধরনের অবসাদ ও ক্লান্তি বোধ করে, যা কার্য অসন্তুষ্টি বাড়িয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে কর্মীরা বিরক্তিবোধ করতে শুরু করে।

৮। মামলা করার ঝুঁকি বৃদ্ধি (Increased Risk of Litigation) : কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত কার্য যদি সঠিকভাবে মূল্যায়িত না হয় তা হলে তারা মামলা করতে পারে। তবে মামলা করা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। ফলে কর্মীদের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

৯। বিভিন্ন ইউনিটের জন্য অযৌক্তিক মান ও মূল্য (Varying and Unfair Standards and Ratings) : নিয়মানুযায়ী প্রতিটি ইউনিটের জন্যই একই ধরন ও মানের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ ও মূল্য নিরূপন করা প্রয়োজন । যদি বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণ ও মূল্য নিরূপনে অযৌক্তিক পন্থা অবলম্বন করা হয়, তা হলে কর্মীদের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হবেই ।

১০। অস্পষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি (Unclear Rating System) : কর্মীদের সাথে নিয়মিতভাবে যোগাযোগের অভাবে তারা মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে নাও জানতে পারে। তারা এও জানে না যে, তাঁদের কার্য মূল্যায়নের ফলাফল থেকে কীভাবে পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়। ফলে তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি বিরাজ করতে পারে ।

উপর্যুক্ত কারণ ছাড়াও নিম্নোক্ত কারণেও একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যসম্পাদনের পরিমাণ কম হতে পারে এবং কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম অকার্যকর হতে পারে :

সাংগঠনিক সমস্যা

  • প্রত্যাশিত কার্যসম্পাদন সম্পর্কে যোগাযোগ ব্যর্থতা
  • অবাস্তব প্রত্যাশা
  • কার্যসম্পাদন প্রতিফলনের অভাব
  • সম্পদের অভাব
  • অন্যান্য কর্মীদের অসহযোগিতা
  • সিস্টেম ও প্রক্রিয়ার অভাব
  • প্ৰশিক্ষণ প্রদানে ব্যর্থতা
  • স্থান সংকুলানে সমস্যা
  • বৈরী কার্য পরিবেশ
  • হয়রানি

কর্মীদের সমস্যা

  • জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার অভাব
  • প্রচেষ্টার অভাব
  • দূর্বল বিচার ব্যবস্থা
  • ব্যক্তিগত সমস্যা
  • খারাপ মনোভাব

 

কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা অকৃতকার্য

 

সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উল্লিখিত কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ বা অকার্যকর হতে পারে ।

Leave a Comment