মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১ এর অন্তর্গত।

Table of Contents

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা

 

বিশ্বায়নের ফলে ব্যবসায় পরিবেশ গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে এবং এ কারণে ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে যে, মানব সম্পদ কীভাবে সংগঠিত ও পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। মানব সম্পদ কার্যাবলিকে তাই অধিক কৌশলগত ভূমিকা পালন করতে হয়।

১৯৮০ এর শুরুতে মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত ভূমিকার ব্যবহার শুরু হয় এবং বৃদ্ধি পায়। ১৯৮০ এর শেষ থেকে ১৯৯০ এর শুরুতে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় কৌশলের মধ্যে সমকেন্দ্রিক প্রবণতা দেখা দেয়। একুশ শতকে এ ধরনের সমকেন্দ্রিকতা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে এবং এর সাথে কিছু নতুন শব্দ যোগ হয়েছে:

যেমন- জ্ঞান, নেটওয়ার্ক, জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং ভার্চুয়াল সংগঠন প্রভৃতি। আর যখন মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনার সাথে কৌশলগত বিশ্লেষণ যুক্ত হয়, তখন এটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতায় কীভাবে অবদান রাখা যায়, সেদিকে জোর দেয়।

কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠানের মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সম্পর্কের উপর আলোকপাত করে। এটি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যকর ভূমিকাকেই ছাড়িয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কৌশলগত দিক যেন পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে, তার উপর গুরুত্বারোপ করে।

কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যসম্পাদন ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদনশীলতার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং আরও কতকগুলো বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত; যেমন- এটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও সংস্কৃতি পরিবর্তন করে, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে, সক্ষমতা উন্নয়ন করে, চাকরির সম্পর্ক তৈরি করে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করে।

যেহেতু মানুষ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় এবং মানব সম্পদ প্রতিষ্ঠানকে তুলনামূলক সুবিধা প্রদান করে, তাই মানব সম্পদ কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যবসায় পরিকল্পনার সাথে সমন্বিত করা প্রয়োজন ।

Fombrun, Tichy and Devana প্রথম ১৯৮৪ সালে কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনার ধারণা প্রদান করেন। এই গবেষকগণ মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের কৌশলের মধ্যে কৌশলগত উপযুক্ততার (Strategic fit) উপর জোর দেন।

 

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার নীতি:

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা এমনভাবে বিভিন্ন দিক বা উদ্দেশ্যে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যেন সংকটময় বা জটিল ইস্যুগুলো (ঘটনাসমূহ) বা লোকবল সম্পর্কিত সফলতার উপাদানগুলো চিহ্নিত করা যায় এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় যা প্রতিষ্ঠানের সফলতা ও আচরণের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এটি শুধু বর্তমান বা অতীত অবস্থা প্রদর্শনের দর্পণ নয় (Smith 1982)। এটি সমন্বিত কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

Ondrack and Nininger ৭টি নীতির কথা বলেছেন, যা নিম্নরূপ :

 

(১) সার্বিক উদ্দেশ্য (Overall Purpose) :

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সার্বিক উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং সেই উদ্দেশ্যে মানবসম্পদের দিকগুলো স্পষ্ট হতে হবে।

 

(২) কৌশল উন্নয়ন প্রক্রিয়া (Process of Developing Strategy) :

প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কৌশল উন্নয়নের প্রক্রিয়া থাকবে এবং সেখানে মানবসম্পদের দিকগুলোর স্পষ্ট বিবরণ থাকতে হবে ।

 

(৩) ফলপ্রসূ সংযোগ (Effective Linkages) :

প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সাথে মানবসম্পদের চিন্তা-চেতনার মিলকরণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত সংযোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

 

(৪) চ্যালেঞ্জ গ্রহণ (Provide the Challange) :

প্রধান নির্বাহীর কার্যালয় কর্তৃক ব্যবসায়ের প্রয়োজন মেটাবার জন্য মানব সম্পদের বিবেচ্য বিষয়গুলো সংযোগের জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে থাকে । Acti

 

(৫) দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা (Responsibility & Accountability) :

কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা স্থাপন করে থাকে ।

 

(৬) ব্যবসায়ের প্রয়োজনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা (HRM for Need of the Business) :

ব্যবসায়ের প্রয়োজনে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার যৌক্তিক উদ্যোগ নিয়ে থাকে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা।

 

(৭) পরিবেশ বিবেচনা (Environmental Consideration) :

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন পরিবেশের মধ্যে যেমন- সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ব্যয় চিহ্নিতকরণ ও সেই সাথে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের দায়িত্ব নিয়ে থাকে, যেখানে প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় করছে এবং করতে থাকবে।

 

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য:

কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানে টেকসই তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করা। এজন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ, নিবেদিত ও ভালোভাবে প্রণোদিত কর্মী বাহিনীর পর্যাপ্ততা সুনিশ্চিত করে কৌশলগত সক্ষমতা সৃষ্টি করা ।

আমরা যদি সম্পদভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করি তা হলে দেখা যাবে যে, অধিক মেধাসম্পন্ন কর্মী নিয়োগ দৃষ্টিভঙ্গি ও উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা প্রসারণের মধ্য দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অধিক সুবিধাসম্পন্ন ও পরিবর্তনশীল হতে পারে।

 

শোলার (Schuler) বলেন,

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মূলত ব্যাপকভাবে সমন্বিতকরণ ও খাপ খাওয়ানোর জন্য কাজ করে। এটি নিশ্চিত করে যে,

(i) মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠানের কৌশল ও কৌশলগত প্রয়োজনের সাথে সামগ্রিকভাবে গ্রথিত বা সমন্বিত । (ii) মানব সম্পদ পলিসি, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পলিসি ও পদ সোপানের কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব উভয়ের সাথে সংযুক্ত থাকে। (iii) মানব সম্পদের অনুশীলন বা সমন্বিত কাজ সকল কর্মকর্তা ও কর্মীর প্রতিদিনের কাজকর্মের মধ্যে নিহিত থাকে।

 

ডাইয়ার ও হোল্ডার (Dyer and Holder) বলেন,

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা একই রকম কাঠামো নিয়ে গঠিত, যা একই সাথে বৃহৎ, পরিস্থিতিভিত্তিক এবং সমন্বিত। কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার যৌক্তিকতা হলো- প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে কাজ করতে মানব সম্পদকে কৌশলে পরিচালনা করে, যেন উক্ত কৌশল বা কর্মপন্থা সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হয় ।

 

লেগনিক-হল (Lengnick-Hall) বলেন,

কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনার যৌক্তিকতা হলো- মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করা যায়। কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য বিবেচনা করার ক্ষেত্রে এটি অতি প্রয়োজনীয় যে, মানব সম্পদ কৌশল নৈতিকতার দিক থেকে কতটুকু বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী পক্ষ, কর্মী সাধারণ, সেই সাথে মালিক ও ব্যবস্থাপনা এবং বৃহৎ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কতটুকু তা নির্ধারণ করা।

 

স্টোরি (Storey) বলেন,

মসৃণ ও কোমল (Soft) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ব্যবস্থাপনারo Set মধ্যে মানবীয় সম্পর্কের উপর অধিক গুরুত্বারোপ করে থাকে। তাই এটি প্রতিনিয়ত কর্মীদের উন্নয়ন, যোগাযোগ, সংশ্লিষ্টতা, নিরাপত্তা, কর্মজীবনের গুণগত মান প্রভৃতি দিকে নজর দিয়ে থাকে।

অন্যদিকে, কঠোর (Hard) কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ের স্বার্থে মানবসম্পদে বিনিয়োগের বিপরীতে কতটুকু অর্জন করা যায় বা করা গেল তার উপর জোর দেয়। কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনার কোমল ও কঠোর উপাদানের মধ্যে সমতা বিধানের চেষ্টা করা হয়।

সকল প্রতিষ্ঠানই একটি উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য টিকে থাকে এবং তাদেরকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে যাতে তারা সেগুলো ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগাতে পারে। তবে তাদেরকে কর্মীদের মানবীয় উপাদানগুলো বিবেচনায় নিতে হয়।

প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কারণ, তারা সমাজ থেকে সম্পদ আহরণ করে এবং তা সমাজকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। সে জন্য McWilliams, Siegel ও Wright কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের কথা বলেছেন।

 

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য:

কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা হলো সেই বিষয় যেখানে মানব সম্পদকে পরিচালনার জন্য কৌশলগত এ্যাপ্রোচ প্রয়োগ করা হয়। কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কতিপয় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। নিচে এগুলো তুলে ধরা হলো:

 

(১) বাহ্যিক পরিবেশের স্বীকৃতি (Recognition of the External Environment) :

প্রতিষ্ঠানের বাইরে যে পরিবেশ রয়েছে তা কখনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সুযোগ বয়ে আনে, আবার কখনো হুমকি হয়ে দেখা দেয়। এ পরিবেশের উপাদানগুলো হলো-

i. আইন,

ii. অর্থনৈতিক পরিস্থিতি,

iii. সামাজিক ও জনসংখ্যার পরিবর্তন,

iv. দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিকivate শক্তি,

v. প্রযুক্তি ইত্যাদি।

কৌশলগত মানব সম্পদ কৌশলসমূহ প্রতিটি ক্ষেত্রের হুমকি ও সুযোগসমূহ বিশদভাবে বিবেচনা করে এবং হুমকিসমূহের প্রভাব কমিয়ে সুযোগকে কাজে লাগাবার প্রয়াস চালায় ।

 

(২) প্রতিযোগিতার প্রভাব (Impact of Competition) :

প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ কৌশলের উপর প্রতিযোগিতার শক্তিসমূহ কর্মীদের আকৃষ্টকরণ, পুরষ্কৃতকরণ ও কর্মীদের ব্যবহারে প্রভাব ফেলে। এ শক্তিসমূহ স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় শ্রম বাজারে প্রভাব বিস্তার করে। শ্রম বাজারের প্রভাব নির্ভর করে মজুরির হার, বেকারত্বের হার, কর্ম পরিবেশ, সুবিধা স্তর, ন্যূনতম মজুরি আইন, প্রতিযোগিতার সুনাম প্রভৃতি বিষয়ের উপর।

 

(৩) দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি (Long-range Focus) :

দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি দিক- নির্দেশনা, স্টাইল ও মৌলিক এ্যাপ্রোচ নির্ধারণে সাহায্য করে। কৌশল পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু তা সবসময় সহজ নয়। এটি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ, পরিবর্তনশীলতা এবং ব্যবস্থাপনা দর্শনের উপর নির্ভর করে ।

 

(৪) পছন্দ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ দৃষ্টিভঙ্গি (Choice and Decision making focus) :

প্রতিষ্ঠানে মানব সম্পদের বিভিন্ন প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশল প্রয়োগ করা হয়, যেন কর্মীরা উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। অন্যভাবে বলা ‘, যায়, প্রয়োগকৃত কৌশলের সমস্যা সমাধানের বা সমস্যা রোধকল্পে দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে। কৌশল সবসময়ই প্রশ্ন রাখে যে, প্রতিষ্ঠান কী করতে চায় এবং কেন করতে চায়? এ প্রশ্ন সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং তা চালিয়ে যাওয়া হয়।

 

(৫) সকল কর্মীদেরকে বিবেচনায় নেয়া হয় (Consideration of all Personnel) :

মানব সম্পদ কৌশলগত এ্যাপ্রোচ প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীদের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যেখানে প্রথাগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শুধু রৈখিক কর্মীদের প্রতি মনোযোগ দিয়ে থাকে।

 

(৬) কর্পোরেট স্ট্র্যাটেজির সাথে সমন্বিতকরণ (Integration with Corporate Strategy) :

মানব সম্পদ কৌশলসমূহ প্রতিষ্ঠানের সমগ্র আইনকানুনের সাথে সমন্বিত হতে হবে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের আইন-কানুন দ্বারা মানব সম্পদ কৌশলকে পরিচালিত হতে হবে।

 

(৭) মানব সম্পদ পলিসি ও প্রয়োগ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লক্ষ্য ও পরিবেশের সাথে সংযোগ স্থাপন (Establish Linkage Between HR Policy and Practices with Overall Organizational Aims and Environment ) :

মানব সম্পদ পলিসি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক লক্ষ্য ও পরিবেশের সাথে মিল রেখেই প্রণয়ন করা হয়। মানব সম্পদ পলিসি আলাদা বা প্রতিষ্ঠানের বাইরের কোনো বিষয় নয়। কারণ, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনের জন্যই সব ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয় ।

 

মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা

 

(৮) যোগ্যতাভিত্তিক কার্যসম্পাদন পরিমাপ (Competency Based Performance Measure) :

কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমনভাবে পলিসি নির্ধারণ করা হয়, যাতে কর্মীদের যোগ্যতানুযায়ী কর্ম নির্ধারণ এবং পরবর্তীকালে তা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করা যায়। অর্থাৎ কৌশলগত মানব-সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের যোগ্যতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় ।

Leave a Comment