জ্ঞান ব্যবস্থাপনা প্ৰক্ৰিয়া

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় জ্ঞান ব্যবস্থাপনা প্ৰক্ৰিয়া। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৭ এর অন্তর্গত।

জ্ঞান ব্যবস্থাপনা প্ৰক্ৰিয়া

 

জ্ঞান ব্যবস্থাপনা প্ৰক্ৰিয়া

 

Scarborugh ও তার সহযোগীরা বলেন, “জ্ঞান ব্যবস্থাপনা হলো জ্ঞান সৃষ্টি, অর্জন, আয়ত্তকরণ, হস্তান্তর ও জ্ঞানের ব্যবহার করার একটি প্রক্রিয়া বা প্রয়োগ। এটি যেখানেই হোক না কেন, এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও কার্যসম্পাদন বৃদ্ধি পায়।” তাঁরা বলেন যে, যদি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতার উন্নয়নে আলোকপাত করা হয়, তা হলে এটি হবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা প্রক্রিয়ার ফলাফল ।

জ্ঞান-ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের মজুত ও প্রবাহের সাথে সম্পর্কিত। মজুত বিশেষজ্ঞ অবস্থার সৃষ্টি করে এবং জ্ঞানকে কম্পিউটার সিস্টেমে যুক্ত করে। জ্ঞান প্রবাহ জ্ঞানের বিস্তার পথকে উপস্থাপন করে, যেখানে জ্ঞান এক কর্মীর নিকট থেকে আরেক কর্মীর নিকট স্থানান্তরিত হয় এবং এতে জ্ঞানের তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয় ।

জ্ঞান ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য জ্ঞান যাদের নিকট রয়েছে তাদের নিকট থেকে যাদের নেই তাদের নিকট স্থানান্তর করা। এটি জ্ঞানকে জমাকরণ ও অন্যকে প্রদান করার কাজে সম্পৃক্ত, এটি প্রতিষ্ঠানের প্রক্রিয়া, কৌশল এবং কার্যক্রম সম্পর্কে বোঝাপড়া বা মতামতকে একত্র করে।

এটি জ্ঞানকে প্রধান সম্পদ হিসেবে গণ্য করে বলা যায় যে, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে জ্ঞানই হলো কোনো স্থায়ী সম্পদ বা আর্থিক সম্পদের চেয়ে প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। এ প্রসঙ্গে Mecklenberg বলেন, “জ্ঞান-ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে তার কর্মা দেindows সৃজনশীল মূল্য ও বিশেষ জ্ঞান আহরণ, প্রয়োগ ও মূল্য সৃষ্টির কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেয়।”

 

তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানকে বিভিন্নভাগে ভাগ করে কর্মীদের নিকট উপস্থাপন করে; এটি কীভাবে অর্জন করতে হয়, বিনিময় করতে হয়- এসবই জ্ঞান ব্যবস্থাপনায় বলা হয়ে থাকে। আর এ কারণেই এটি কৌশলগত মানব ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Scarborugh বিশ্বাস করেন যে, মানব সম্পদ বিশেষজ্ঞগণের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রয়োগকৃত বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানকে বিশ্লেষণের সক্ষমতা থাকতে হবে এবং তা প্রতিষ্ঠানের নকশা প্রণয়ন, পেশার ধরন নির্ধারণ ও চাকরির নিশ্চয়তা বিধানে কাজে লাগাতে হবে।

জ্ঞান-ব্যবস্থাপনা বুদ্ধিবৃত্তিক মূলধন তত্ত্ব-এর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। কারণ এটি মানবীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক বা কাঠামোগত মূলধনকে চিহ্নিত করে। এটি সাংগঠনিক শিক্ষা বা শিক্ষা সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত।
জ্ঞান-ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক তথ্য চিহ্নিত করে জ্ঞানকে সম্পদে পরিণত করে এবং তা বিভিন্নভাবে বণ্টন করে, যেন শিক্ষা কার্যক্রম চলতে থাকে।

জ্ঞান-ব্যবস্থাপনা জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল উন্নয়ন করে, যেন এক কর্মী থেকে অন্য কর্মীর মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তি তাদেরকে সংযুক্ত করে, যেন তারা প্রামাণিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে ।

 

জ্ঞান ব্যবস্থাপনা প্ৰক্ৰিয়া

Leave a Comment