আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত মানব সম্পদে ভারত। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১৩ এর অন্তর্গত।
কৌশলগত মানব সম্পদে ভারত

কৌশলগত মানব সম্পদে ভারত
চীনের মতোই ভারতের অবস্থা। সেখানে লোকসংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটি। তাদের রয়েছে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। তারা বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়নে একজন অন্যতম খেলোয়াড় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের অর্থনীতিতে রয়েছে বহুসংখ্যক বহুজাতিক সংস্থা যারা ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে। তথাপি ভারতে প্রতিষ্ঠান মালিকদের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে এটিকে আলাদা করেছে ।
চীনের সাথে ভারতের তুলনা করলে দেখা যায় যে, ভারতে শিক্ষিত শ্রেণি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য যোগ্য ও ভালোভাবে প্রস্তুত। সেখানে প্রতি বছর ২২ মিলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি নিয়ে বের হয় যার এক তৃতীয়াংশের ব্যাকগ্রাউন্ড হলো বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং। সে কারণে ভারতের আইসিটি ও ব্যবসায় এর ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং এর গুরু বা নেতা তৈরি হয়।
তারা এ ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভারতের কারিগরী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বৃহৎ কার্যশক্তি থাকা সত্ত্বেও দক্ষ শ্রমের চাহিদা বেশি। অর্থাৎ দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে দক্ষ লোক নিয়োগের জন্য সবসময় প্রতিযোগীতা লেগেই থাকে ।
ভারতে ব্যবসায় করার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঝামেলা সৃষ্টি করা আইন ও পদ্ধতি; যেখানে একশ এর বেশি আইন রয়েছে যার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। সেখানে রয়েছে ফেডারেল ও স্টেট সরকারদ যারা চাকরিসংক্রান্ত ও শ্রমসংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখে থাকে। এ আইনগুলোতে বলা আছে প্রতিবছর নিয়োগ ও শ্রমসংক্রান্ত বিষয়গুলো সরকারকে অবহিত করতে হয় এবং রীতিমতো অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়।
প্রত্যেক মালিককে একরাশ নির্দেশিকাসহ আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র সরকারের নিকট থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা সহজ কাজ নয় এবং এ জন্য বহুবিধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় সেখানে যথাযথ কারণ উল্লেখ করতে হয়। দুর্ব্যবহারকে বৈধ কারণ হিসেবে গণ্য করা হলেও নিম্ন কার্যসম্পাদনকে ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় না।
ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মালিককে মোট বেতনের ৩৫% এককালীন অর্থ পরিশোধি করতে হয়। এছাড়াও রয়েছে “Contributory Providend Fund”- যেখানে ১২% মালিক ও ১২% কর্মীর বেতন বা মজুরি থেকে দেওয়া হয়। বাৎসরিক ছুটিও মঞ্জুর করতে হয়। ভারতে সংবিধানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে চাকরিতে বৈষম্য রহিত করা হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে। লিঙ্গভিত্তিক পরিশোধ বৈষম্যকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
Equal Remuneration Act of 48 দ্বারা। তবে Maternity Benefit Act of 1961 দ্বারা ১২ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। তবে বহুবিধ সংস্কৃতির দ্বারা আবৃত পুরুষ প্রধান সমাজে নারীদের পেশা উন্নয়ন সাধারণ চাকরি সংক্রান্ত সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। চীনের মতো ভারতেও দক্ষ কর্মী ধরে রাখা কঠিন। কারণ, সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেশি।
ভারতেও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মধ্যম পর্যায়ের ম্যানেজারের অভাব রয়েছে। তাই তারাও বিদেশি কর্মীদের উপর নির্ভরশীল। কারণ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই মানব সম্পদ কাজের জন্য প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়, বিশেষ করে কর্মী সংগ্রহ, নির্বাচন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাজ যেখানে কৌশলগত ইস্যু খুব কমই আছে।

