কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় মানব মূলধন ও মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব মূলধন ও মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৫ এর অন্তর্গত।

মানব মূলধন ও মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল

 

মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল

 

শিরোনাম থেকেই বোঝা যায় যে, প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদেরকে সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ‘মূলধন’ হিসেবেও গণ্য করা হয়। কারণ তাঁরা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত মূল্য সংযোজন করে থাকে। মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা মূল্য সংযোজনকারী কর্মীদের ব্যবস্থাপনা কৌশলের নির্দেশনা প্রদানের জন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত ।

মানব মূলধন ব্যবস্থাপনার বর্ণিত বৈশিষ্ট্য হলো, সেই পন্থায় কর্মীদেরকে পরিচালনা করা যা তাদেরকে সম্পদে পরিণত করে এবং যেন তারা সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত হয়। পক্ষসমূহ হলো কর্মীদেরকে কাজে নিয়োজিতকরণ, সংরক্ষণ, মেধা ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও কর্মসূচি উন্নয়ন প্রভৃতি ।

সম্পদ সৃষ্টির কাজে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের জন্য মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা ব্যবসায় কৌশল ও মানব সম্পদের মধ্যে সেতু তৈরি করে দেয়। এটি সহজেই প্রমাণভিত্তিক (Evidence Based) মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভিত্তি তৈরি করে।

মানুষের জন্য হিসাববিজ্ঞান টাস্ক ফোর্স প্রতিবেদন (The Accounting for People Task Force Report) এ বলা হয়েছে যে, “মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কীভাবে মানব পলিসি ও প্রয়োগ মূল্য সৃষ্টি করে তা নিয়ে পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ, পরিমাপ ও মূল্যায়ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত।

এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে, মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা হলো এমন একটি পদ্ধতি, যা কর্মী ব্যবস্থাপনাকে রৈখিক বিষয় হিসেবে না দেখে উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এ প্রতিবেদনে প্রাপ্ত মন্তব্য হলো কর্মীদেরকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যেন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার সবটুকুই অর্জন করা যায়।
John Sunderland বলেন, “কর্মীদের যোগ্যতাই হলো একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতার কারণ। এটি কর্মী ও কাজের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। ”

Nalbantain ও সহযোগীরা বলেন, মানব মূলধন হলো একত্রীকৃত জ্ঞানের ভান্ডার, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং অন্যান্য যৌক্তিক কার্যশক্তির গুণ।” তাঁরা বলেন, মানব মূলধনের এ সকল গুণাবলির মূল্য পরিমাপ করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে ফলপ্রসূভাবে পরিচালনার জন্য এগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা (HCM) কে অনেকে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি ব্যতিক্রমী ও তুলনাহীন একটিt a পন্থা হিসেবে বর্ণনা করেন । Chatzkel বলেন, “মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা হলো অবশ্যম্ভাবী একটি উচ্চতর কার্যসম্পাদন স্তর যা অর্জনের জন্য কর্মীদের সক্ষমতার উন্নয়ন ও ব্যবহারের একটি সমন্বিত প্রয়াস থাকে।”

সুতরাং বলা যায় যে, মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষের কর্মশক্তিকে এমনভাবে ব্যবহার করা যায়, যেন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত ভ্যালু (মূল্য) যোগ হয়, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যেন মানুষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায় ।

 

মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা কৌশল

Leave a Comment