কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের অপরিহার্য উপাদান

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের অপরিহার্য উপাদান

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের অপরিহার্য উপাদান

 

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের অপরিহার্য উপাদান

 

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের অপরিহার্য উপাদান

কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের সাথে কতগুলো উপাদান নিবিড়ভাবে জড়িত এবং সফল কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন এর ক্ষেত্রে সেই উপাদানগুলো বিবেচনা করা আবশ্যক। নিয়ে কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের কতিপয় অপরিহার্য উপাদান সমূহ আলোচনা করা হলো:

সরলতা ও বোধগম্যতা (Simplicity & understan ability):

কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন হওয়া উচিত সহজ ও সরল যাতে করে কর্মীরা সহজেতা বুঝতে পারে। বুঝতে কষ্ট হয় বা কর্মীদের মনে সন্দেহ তৈরি করে এমন পদ্ধতি প্রয়োগ যথাসম্ভব বর্জন করা উচিত। সহজ-সরল মূল্যায়ন পদ্ধতি কর্মীদের মনে আস্থা তৈরি করে এবং তাদের মনোবল বাড়িয়ে দেয় ।

গ্রহণযোগ্যতা (Aceeptability) :

কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হওয়া অত্যাবশ্যক। কারণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন সম্ভব। যদি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও তার ফলাফল কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তবে তারা সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং কোনো সহযোগীতা করতে চায় না।

উদ্দীপনা মূলক (Stimulative ) :

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নে কর্মীর গুণাবলি এবং কর্মীর কাজের উত্তম দিক সমূহ তুলে ধরা উচিত এবং সেই অনুযায়ী যথাযথ পুরষ্কারের ব্যবস্থা করা উচিত। আর এটা করলে কর্মীদের কর্ম উদ্দীপনা ও কর্মস্থহা বৃদ্ধি পাবে।

সহযোগিতামূলক মনোভাব (Cooperative attitude):

কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন কার্যকর ও সফল করার জন্য কর্মী ও মূল্যায়নকারী এর পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা থাকা খুবই প্রয়োজন। কর্মী ও মূল্যায়ন কারীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগতিা ও আস্থা না থাকলে কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে পারে।

 

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা (Arrange training for appraiser) :

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকারীদের দক্ষ নিরপেক্ষ ও পেশাদার হওয়া আবশ্যক। তা না হলে কার্যসম্পাদন মূল্যায়নে মূল্যায়নকারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের প্রভাব পড়তে পারে। তাই কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন কারীদের পক্ষপাতহীনভাবে এবং প্রভাবমুক্ত থেকে মূল্যায়নের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

সাংগঠনিক কাঠামো (Organizational Structure):

প্রতিষ্ঠানের কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের জন্য একটি সুবিন্যস্ত সংগঠন কাঠামো থাকা আবশ্যক। আর এটা থাকলে কর্মীর কাজ পদমর্যাদা ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

উপযুক্ততা (Suitability):

কাজের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রেখে যথাপোযুক্ত মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্বাচন ও প্রয়োগ করা আবশ্যক। কারণ কাজের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন কার্যপ্রকৃতিতে মূল্যায়ন পদ্ধতিও ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

আদর্শমান নির্ধারণ (Determining standard) :

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের একটি আদর্শ মান থাকা আবশ্যক। কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের একটি আদর্শমান থাকলে সেই আদর্শমানের সাথে কর্মীর অর্জিত মূল্যায়নের তুলনা করা যায় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এছাড়াও আদর্শ মান মূল্যায়িত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়।

 

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের অপরিহার্য উপাদান

 

অনুগমণ (Follow-up):

কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনুগমণের ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মূল্যায়ন কাজ সঠিকভাবে সম্পাদিত হচ্ছে কিনা না তা নির্ণয় করা যায়। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যদি যথাযথ না হয় অর্থাৎ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে তবে অনুগমণের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করা যায় ও প্রয়োজনীয় সংশোধনীমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

Leave a Comment