কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ভ্রান্তি বা সমস্যা বা বিকৃতির উপাদানসমূহ

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ভ্রান্তি বা সমস্যা বা বিকৃতির উপাদানসমূহ

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ভ্রান্তি বা সমস্যা বা বিকৃতির উপাদানসমূহ

 

কার্যকর পেশা উন্নয়নের পরামর্শসকার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ভ্রান্তি বা সমস্যা বা বিকৃতির উপাদানসমূহমূহ

 

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ভ্রান্তি বা সমস্যা বা বিকৃতির উপাদানসমূহ

প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তাই এই কাজটি সঠিক বা ত্রুটিমুক্ত হওয়া খুবই জরুরি। কিন্তু অনেক সময় কার্যসম্পাদন মূল্যায়নকারীর কারণে অথবা পারিপার্শ্বিক অন্য কোনো সমস্যার কারণে কর্মীদের কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের কাজ যথাযথভাবে করা সম্ভব হয় না এবং এটি বিকৃত ও ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়। যে সব কারণে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন যথাযথভাবে করা সম্ভব হয় না তা নিম্নে তুলে ধরা হলো।

মূল্যায়নকারীর দক্ষতার ঘাটতি (Deficiency of efficiency for appraiser):

সঠিক ও যথাযথ মূল্যায়নের বাধা হচ্ছে মূল্যায়নকারীর দক্ষতা ঘাটতি। এই দক্ষতার ঘাটতি মূলত তৈরি হয় মূল্যায়ন কারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে। তাই মূল্যায়নকারীর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। অপ্রশিক্ষিত মূল্যায়নকারী দ্বারা কর্মীদের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন করলে মূল্যায়ন কার্যে অনেক ভুল থেকে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে ।

কার্যসম্পাদন মানের অস্পষ্টতা (Unclear/ Vague standard):

কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে কর্মীদের কার্যসম্পাদনের একটি আদর্শমান নির্ধারণ করা। কিন্তু কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত মানের অস্পষ্টতার কারণে কোনো কোনো বিষয় বিভিন্ন মূল্যায়নকারীদের নিকট ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মূল্যায়িত হয়। কারণ কিছু কিছু গুণাবলি বা কৃতিত্বের মাত্রা দ্ব্যর্থবোধক হয়ে থাকে।

যেমন: ভালো বা মোটামুটি এ ধরনের স্কেল অথবা কাজের মান বা সৃজনশীলতা এসব বিষয়গুলো এক একজন মূল্যায়নকারী একেকভাবে বিশ্লেষণ করেন যার ফলে কর্মীর কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এই ধরনের সমস্যা এড়ানোর জন্য গুণাবলির সুস্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন।

হ্যালো প্রভাব (Halo effect):

কোনো কর্মীর একটি নির্দিষ্ট গুণের মুল্যায়ন সেই কর্মীর অন্য গুণাবলির মূল্যায়নকে প্রভাবিত করার প্রবণতাকে হ্যালো প্রভাব বলে। যেমন: কর্মীর নির্দিষ্ট একটি গুণ যদি মূল্যায়নকারীর নিকট ভালো মনে হয় তবে সেই কর্মীর অন্যান্য খারাপ গুণাবলি থাকলেও তার খারাপ গুণাবলীগুলি ঢাকা পড়ে যায় তার ঐ একটি ভালো গুণের কারণে।

আবার এর অপরটিও ঘটতে পারে। কর্মীর কোন একটি গুণ বিষয় যদি মূল্যায়নকারীর কাছে খারাপ মনে হয় তাহলে উক্ত কর্মীর অন্যান্য ভালো গুণাবলি থাকলেও তার ভালো গুণাবলীগুলো মূল্যায়নকারীর কাছে ঢাকা পড়ে যায় শুধু তার ঐ খারাপ গুণের কারণে ।

 

উদারতা বা কঠোরতা (Leniecy or strictness):

সব মূল্যায়নকারী একই ধরনের মানবিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয় না। কেউ কেউ উদার মানসিকতার আবার কোনো কোনো মূল্যায়নকারী খুবই কঠোর। মূল্যায়নকারীদের এইরূপ বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন কার্যকে যথেষ্ট প্রভাবিত করে। যেমন: উদার প্রকৃতির মূল্যায়নকারী তার কর্মীদের মূল্যায়নের সময় উচ্চহারে রেটিং করে থাকেন।

অপরদিকে কঠোর প্রকৃতির মূল্যায়নকারী তার কর্মীদের মূল্যায়নের সময় নিম্নহারে রেটিং করে থাকেন । এর ফলে প্রকৃত কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের সমস্যার সৃষ্টি হয়ে যায়।

কেন্দ্রীয় প্রবণতা (Central tendency):

কেন্দ্রীয় প্রবণতা হচ্ছে সকল কর্মীদেরকে গড়ভিত্তিক রেটিং বা নম্বর প্রদান করার প্রবণতা। যেমন: স্কেল যদি ১ থেকে ১০ এর মধ্যে হয়ে থাকে তাহলে দেখা যায় মূল্যায়নকারী কর্মীদের গড় নম্বর ৪ থেকে ৬ এর মধ্যে সীমাদ্ধ রাখছেন। আর এর ফলে কর্মীদের কার্যসম্পাদন ফলাফল একই ধরনের মনে হয় এবং যথার্থ মূল্যায়ন বিঘ্নিত হয়। এর ফলস্বরূপ বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতির বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

পক্ষপাতিত্ব (Biasness):

মূল্যায়নকারীর সাথে কর্মীর ঘনিষ্ঠতা বা স্বজনপ্রীতির কারণে পক্ষপাতদুষ্ট উচ্চ রেটিং করে মূল্যায়নকারী মূল্যায়ন কার্যকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আবার এর অপর ঘটনাটিও ঘটতে পারে। অর্থাৎ মূল্যায়নকারীর সাথে কর্মীর তিক্ত বা সংঘর্ষিত সম্পর্কের কারণে নিম্নরেটিং করে মূল্যায়নকারী মূল্যায়ন কার্যকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

আবার অনেক ক্ষেত্রে কর্মীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যবলি যেমন: লিঙ্গ, বয়স, ধর্ম, অঞ্চল, গোত্র বা আদর্শ ইত্যাদির কারণে কর্মীর কার্য সম্পাদন মূল্যায়ন নিম্ন বা উচ্চ রেটিং দ্বারা প্রভাবিত হয়। নৈতিকতা উন্নয়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন কারীর এরূপ পক্ষপাতিত্ব সমস্যা কিছুটা হলেও দূর করা সম্ভব ।

মূল্যায়নকারীর নিম্ন প্রেষণা (Low motivation for appraiser):

মূল্যায়নকারী যদি জানে যে কর্মীর যথার্থ মূল্যায়নের ফলে তার বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি বা অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তি ঘটবে সেক্ষেত্রে মূল্যায়নকারী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করেন না। এসব ক্ষেত্রে প্রায়ই মূল্যায়ন নিম্ন বা উচ্চ রেটিং দ্বারা প্রভাবিত হয়।

সাদৃশ্যের ত্রুটি (Similarity error) :

মূল্যায়নকারী যদি তার নিজের মধ্যে ধারণকৃত চিন্তা-চেতনা বা বৈশিষ্ট্যকে অনুরূপভাবে অন্য কর্মীদের মধ্যে দেখতে চায় এবং সেই অনুযায়ী মূল্যায়ন করতে যায় তখনই সাদৃশ্য ত্রুটি দেখা যায়। এতে দেখা যায় যে মূল্যায়নকারীর বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায় এমন কর্মীদের উচ্চহারে রেটিং করা হয় আর যাদের সাথে বৈশিষ্ট্য মিলে না তাদের নিম্নহারে রেটিং করা হয়। এর ফলে মূল্যায়ন কার্যে ত্রুটি থেকে যায়।

 

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ভ্রান্তি বা সমস্যা বা বিকৃতির উপাদানসমূহ

চিত্র : কার্য সম্পাদন মূল্যায়ন বিকৃতির উপাদান

Leave a Comment