আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা
Table of Contents
কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা

কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা
কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও কর্মী উভয়পক্ষই উপকৃত হয়। কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন দ্বারা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্মীদের দক্ষতা, জ্ঞান ও যোগ্যতা যাচাই করে কর্মীদের দুর্বল দিকসমূহ চিহ্নিত করতে পারে এবং তা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও তাদের কার্যদক্ষতা ও ত্রুটি সমূহ সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং ত্রুটিসমূহ নিরসনে ও কার্যদক্ষতা উন্নয়নে সচেষ্ট হতে পারে। নিম্নে কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের সুবিধা ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো :
কার্যসম্পাদন উন্নয়ন (Performance improvement) :
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কার্যসম্পাদন যাচাই, পর্যালোচনা এবং এর ফলাবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ব্যবস্থাপক এবং কর্মীবিশেষজ্ঞ সকলেই কার্যসম্পাদন উন্নয়নে সঠিক কার্যপন্থা গ্রহণ করতে পারে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ করণীয় সম্পর্কে সচেষ্ট হয় এবং প্রতিষ্ঠানে সার্বিক উন্নয়নের জন্য অবদান রাখতে পারে।
প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ (Training and development needs assessment) :
কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে কার্যক্ষেত্রে কর্মীদের দুর্বলতা ও ঘাটতিগুলো নিরূপণ করা যায় এবং এর থেকে কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের চাহিদা নিরূপণ করা সম্ভব হয়। সুতরাং কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন চাহিদা নিরুপণে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পদোন্নতি, বদলি ও গুরুত্বপূর্ণপদে পদায়নের সিদ্ধান্ত (Dceision of promotion, transfer & placement):
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পদোন্নতি, বদলি ও গুরুত্বপূর্ণপদে পদায়নের ক্ষেত্রে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মীদের কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন করেই পদোন্নতি, বদলি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
তথ্য সরবরাহ (Supply of information) :
সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখার জন্য কার্যসম্বন্ধে প্রতিনিয়ত নানা সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয়। কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তথ্য সরবরাহ করে থাকে ।
আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি (Enchance Self Awareness):
কর্মীর আত্মসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন করলে কর্মীরা তাদের কর্মদক্ষতা ও ঘাটতিসমূহ জানতে পারে এবং তা নিরসনে সচেষ্ট হয়। এর ফলে কর্মীদের আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সচেষ্ট হয়।
কার্যসন্তুষ্টি ও মনোবল উন্নয়ন ( Improve job satisfaction and morale ) :
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন দ্বারা কর্মীরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু দক্ষতা ও যোগ্যতা সাথে সম্পাদন করছে তা নিরূপণ করা যায় এবং সে অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি বৃদ্ধি, পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ইত্যাদির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এর ফলস্বরূপ কর্মীদের মনোবলের উন্নয়ন হয় এবং কার্যসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়।
দক্ষতা ও দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ (Identification of efficiency and weakness ) :
কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা যায়। এর ফলে কর্মীরা তাদের দুর্বল দিকগুলোর ব্যাপারে জানতে পারে এবং তা দূরীকরণে সচেষ্ট হতে পারে।
পেশা উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ (Planning for career development) :
কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মীর সবল ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে পেশা উন্নয়ন পরিকল্পনা করা যায়। সুতরাং পেশা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলা (Developing positive competitive attitude among employees):
কার্যসম্পাদন মুল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মীদের বেতন-ভাতাদি বৃদ্ধি, পদোন্নতি প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও অন্যান্য সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এইগুলো কর্মীদের প্রেষণাদান করে এবং একই সাথে কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলে। এর ফলে কর্মীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট হয় যা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কাজের মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
