আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া
Table of Contents
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া

কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর এই জন্য কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া হওয়া উচিত খুবই পদ্ধতিগত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। আর এইগুলো বিবেচনা করে কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যেসব পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে তা নিম্নরূপ :
১। কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন মান প্রতিষ্ঠাকরণ (Establishment of performance standards)
২। প্রত্যাশিত-কার্যসম্পাদন সম্পর্কে কর্মীদের অবহিতকরণ (Communicate performance expectation to employees)
৩। প্রকৃত কার্যসম্পাদন পরিমাপ (Measuring actual performance)
৪ । প্রকৃত কার্যসম্পাদনের সাথে প্রত্যাশিত মানের তুলনাকরণ (Comparison of actual performance with standards)
৫। কর্মীর সাথে মুল্যায়ন সম্পর্কিত আলোচনাকরণ (Discuss the appraisals with the employees)
৬। প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ (Taking corrective measures, where necessary)
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন মান প্রতিষ্ঠাকরণ (Establishment of performance standards):
প্রতিষ্ঠানের কৌশগত লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে একটি আদর্শ কার্যসম্পাদনের মান নির্ধারণ ও প্রতিষ্ঠাকরণ কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ। কার্যসম্পাদনের মান অবশ্যই সুস্পষ্ট, সহজবোধ, উদ্দেশ্যমূলক এবং পরিমাণ যোগ্য হতে হবে। কার্যসম্পাদনের মান প্রতিটি পদ বা কাজের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের সাথে সম্পর্কিত হওয়া উচিত।
প্রত্যাশিত কার্যসম্পাদন সম্পর্কে কর্মীদের অবহিতকরণ (Communicate performance expectation to employees):
কার্যসম্পাদন মান প্রতিষ্ঠার পর দ্বিতীয় পদক্ষেপ হবে উক্ত কার্যসম্পাদনের মান প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সামনে উপস্থাপন করা এবং তাদের জানানো। এই কাজটি মুলত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাজ। কর্মীদের সম্পৃক্ত না করে কার্যসম্পাদনের মান স্থির করলে কখনও কখনও তা কর্মীদের কাছে স্পষ্ট বা বোধগম্য হয় না এবং সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই কর্মী ও ব্যবস্থাপনা মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগের মাধ্যমে যৌথভাবে এ কাজ সম্পাদন করা উচিত।
প্রকৃত কার্যসম্পাদন পরিমাপ (Measureing actual performance):
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে এসে কর্মীদের দিয়ে প্রকৃতপক্ষে কাজ কতটুকু হলো তা সঠিকভাবে পরিমাপ করতে হবে। এই পরিমাপের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, পরিসংখ্যানিক রিপোর্ট, লিখিত ও মৌখিক রিপোর্ট ইত্যাদি উৎস ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রকৃত কার্যসম্পাদনের সাথে প্রতিষ্ঠিত মানের তুলনা (Comparing actual performancewith the standards):
কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে এসে কর্মীর প্রকৃত কার্য সম্পাদনের সাথে পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠিত মান বা আদর্শমানের সাথে তুলনা করা হয়। এই তুলনার ফলে যে বিচ্যুতি বেরিয়ে আসে তা জানা যায়। অর্থাৎ, পূর্বনির্ধারিত মানের সাথে প্রকৃত কার্যসম্পাদন মানের যে পার্থক্য তৈরি হয় তা জানা যায়।
কর্মীর সাথে মূল্যায়ন সম্পর্কিত আলোচনাকরণ (Discuss the appraisal with the employees) :
কর্মীদের সাথে কার্যসম্পাদনের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা জরুরি। কারণ কর্মীরা তাদের কাজের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চায়। এছাড়াও কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন কর্মীদের কাছে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হতে হবে। আবার কার্যসম্পাদন মূল্যায়নের সাথে অনেক প্রত্যাশিত ও আবেগপূর্ণ ঘটনা জড়িত থাকে যা কর্মীর পরবর্তী কার্যসম্পাদনকে প্রভাবিত করে ।
প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ (Taking corrective measures wherenecessary ) :
এটি কার্যসম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ পদক্ষেপ। এই পর্যায়ে এসে কর্মীদের দ্বারা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যসম্পাদন না হলে অথবা কোনো ধরনের অসংগতি দেখা দিলে দুইভাবে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে । যথা:
(ক) বিচ্যুতির লক্ষণ দেখার সাথে সাথেই সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা
(খ) বিচ্যুতি ও ভ্রান্তিক উৎসসমূহকে চিহ্নিত করা এবং স্থায়ীভাবে অভিযোজনের বা সমন্বয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

চিত্র : কার্য সম্পাদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া
