আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও মেধা ব্যবস্থাপনার মধ্যে পার্থক্য। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৭ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও মেধা ব্যবস্থাপনার মধ্যে পার্থক্য

যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা একটি আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। কারণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে উদ্দেশ্যার্জন তো দূরের বিষয়, প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই থাকবে না। মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা একটি ব্যাপক বিষয়। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে মেধা-ব্যবস্থাপনা (talent management)। মেধা ব্যবস্থাপনার কাজ হলো কর্মীদেরকে যথাযথভাবে তৈরি করা। যাই হোক, নিচে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও মেধা-ব্যবস্থাপনার মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
পার্থক্যের বিষয়বস্তু
১। সংজ্ঞাগত
২। আওতা
৩। মূল প্রতিপাদ্য বিষয়
৪ । মূল কাজ
৫ । প্রক্রিয়া
৬। বিনিয়োগ
৭। তুলনামূলক সুবিধা অর্জন
৮। শ্রম ঘুর্ণায়মানতা হ্রাস
৯ । অনুকূল কার্য মনোভাব
১০। গুরুত্ব
মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা
১। যে ব্যবস্থাপনার কর্মকান্ড মানব সম্পদকে নিয়ে কেন্দ্রীভূত ও পরিচালিত হয়, তাকে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বলে।
২। এর আওতা ব্যাপক । কারণ মেধা-ব্যবস্থাপনা এর-ই অন্তর্ভুক্ত বিষয়।
৩। এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘মানুষ’। কারণ মানুষ জন্ম দেয় সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের।
৪। এর মূল কাজ হলো মানব সম্পদ পরিকল্পনা প্রণয়ন, মানব সম্পদ সংগ্রহ ও নির্বাচন অতঃপর পদায়ন ৷
৫। এ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার উপাদান আটটি। এর শুরু মানব সম্পদ পরিকল্পনা দিয়ে।
৬। এ ব্যবস্থাপনার বিনিয়োগ হলো কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচনে নিয়োজিত ।
৭। এ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারে না ৷
৮। এ ব্যবস্থাপনা শ্রম ঘুর্ণন হ্রাস করতে পারে না ।
৯। এটি কর্মীদের মধ্যে অনুকূল কার্য মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে না ।
১০। এ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের নির্বাচন ও সংস্থাপন করেই ক্ষান্ত ৷
মেধা ব্যবস্থাপনা
১। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য সম্ভাবনাময় কর্মী চিহ্নিতকরণ ও উন্নয়ন করাকে মেধা-ব্যবস্থাপনা বলে ।
২। এর আওতা ক্ষুদ্র। কারণ এটি মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত।
৩। এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো নির্বাচিত কর্মীদেরকে উন্নয়ন করা, যেন প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যার্জনে কাজ করতে পারে।
৪। এর মূল কাজ হলো নির্বাচিত কর্মীদের মধ্য হতে অধিক সম্ভাবনাময় কর্মীদেরকে পছন্দ করে মেধার উন্নয়ন সাধন। এ কাজের মধ্যে রয়েছে, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন, মূল্যায়ন, বেতন ও মজুরি নির্ধারণ, পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা ইত্যাদি
৫। এ ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়ার উপাদান সাতটি । উপাদানগুলোর মধ্যে একটু ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এর শুরু প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন দিয়ে।
৬। এ ব্যবস্থাপনার বিনিয়োগ হলো মেধাবী মানব সম্পদ তৈরি ও কাজে লাগানো ।
৭। এ ব্যবস্থাপনা প্রতিযোগীদেরকে মোকাবিলা করে তুলনামূলক সুবিধা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
৮। এ ব্যবস্থাপনা শ্রম ঘুর্ণন হ্রাস করতে পারে এবং কর্মীদেরকে ধরে রাখতে সক্ষম।
৯। এটি কর্মীদের মধ্যে অনুকূল কার্য মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে ।

১০। এ ব্যবস্থাপনার কাজ অনেক সুদূরপ্রসারী। এর কাজের উপরই প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নির্ভর করে।
