আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় যৌন হয়রানি ব্যবস্থাপনা কৌশল । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৪ এর অন্তর্গত।
যৌন হয়রানি ব্যবস্থাপনা কৌশল

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কিছু কৌশল গ্রহণ করা আবশ্যক যেন কৌশলগতভাবে যৌন হয়রানির ঘটনার প্রভাব মোকাবিলা করা যায়। নিচে কতিপয় কৌশল উল্লেখ করা হলো:
১। প্রতিষ্ঠানকে সকল যৌন উৎপীড়ন বা হয়রানির ঘটনা তদন্ত করতে হবে। এ সকল ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞানহীনতা বা অজ্ঞতা আদালতে কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না ।
২। সকল অভিযোগের দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত করতে হবে। সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করা জটিল, তবে সময় বুঝে কাটছাঁট করে শেষ করতে হবে।।
৩। নিয়োগকৃত তদন্তকারীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অপ্রভাবিত ও সুনির্দিষ্ট হতে হবে। কোম্পানিতে রাজনীতি ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে এটি হলো একটি জটিল বিষয়। অযথার্থ ও দুর্বল তদন্ত কোম্পানির সময় ও সম্পদই শুধু নষ্ট করবে না, ভবিষ্যতে কর্মীদের বিশ্বাস ও মনোবলও নষ্ট করবে।
৪। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পাল্টা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে। Title-VII এ এই সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের আচরণকে প্রতিহত করা হয়েছে, তা ঘটনা প্রমাণিত হোক বা না হোক। “Title-VII” এর বিধান কোনোভাবেই অমান্য করা যাবে না ।
৫। অভিযুক্ত কর্মীর সাথেও ভালো ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি ঘটনারই দুটি দিক রয়েছে। শুধু মালিক কর্তৃক চাকরি থেকে ছাঁটাই করলেই ন্যায় বিচার হয়না। অভিযুক্তের নিকট থেকেও ঘটনা জানতে হবে যথাযথভাবে। অনেক সময় অভিযুক্তকে ছাঁটাই করা হয়ে থাকে। সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ।
৬। উভয় পক্ষকে লিখিত বক্তব্যে সই করতে হবে এবং সমস্ত ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দিতে হবে। কর্তৃপক্ষকে বুঝাতে হবে যে, তারা কোথায় দাড়িয়ে আছে। এটি তদন্তকারীর জন্য সহায়ক হবে এবং তারা (অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত) ঘটনার পরিবর্তন করতে পারবে না।
৭। যেখানেই ঘটনা ঘটবে, মালিককে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে পরিস্থিতি পরিবর্তন বা নিয়ন্ত্রনের জন্য ivযে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে দ্রুত, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে ।
৮। চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠানকে একটি স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে বর্ণিত তদন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এ প্রক্রিয়াটি সমভাবে এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রতিটি পদক্ষেপের দলিল তৈরি ও সংরক্ষণ করতে হবে। সংগৃহীত তথ্য গোপনীয়তার সাথে ব্যবহার করতে হবে, যেহেতু বিষয়টি খুব সংবেদনশীল ।

