আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় মানব সম্পদ সংগ্রহের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূ
Table of Contents
মানব সম্পদ সংগ্রহের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূ

মানব সম্পদ সংগ্রহের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূ
মানব সম্পদ সংগ্রহ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ বা সৃষ্ট পদ পূরণের জন্য অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে আকৃষ্ট করার প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ সংগ্রহের মূল লক্ষ্য হলো যথাযথ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীকে চাকরির আবেদন করতে আকৃষ্ট করা। কিন্তু সম্ভাব্য প্রার্থীরা আবেদন করতে আগ্রহী হবে কিনা তা নির্ভর করে কিছু উপাদানের ওপর।
কর্মী সংগ্রহে সফলতা অর্জন করতে হলে এই উপাদানগুলো অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। মানব সম্পদ সংগ্রহের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:-
(ক) অভ্যন্তরীণ উপাদান
(খ) বাহ্যিক উপাদান।
অভ্যন্তরীণ উপাদান (Internal factors) :
প্রতিষ্ঠানের ভেতরের যে উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাকে অভ্যন্তরীণ উপাদান বলে। নিম্নের প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উপাদানসমূহ আলোচনা করা হলো: কর্মী সংগ্রহের যে উপাদানের ওপর প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ থাকে তাকে কর্মী সংগ্রহের অভ্যন্তরীণ উপাদান বলে। নিম্নে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উপাদানসমূহ আলোচনা করা হলো :
মানবসম্পদ পরিকল্পনা (Human resource planning):
মানবসম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদের ঘাটতি শনাক্ত করা যায় এবং ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
প্রতিষ্ঠানের আয়তন (Size of the organization):
প্রতিষ্ঠানের আয়তন যত বড় হবে কর্মী সংগ্রহ কার্যক্রম ততবেশি আকারে পরিলক্ষিত হবে। বড় প্রতিষ্ঠানে অধিকসংখ্যক ব্যক্তি কর্মরত থাকায় কর্মীর চাকরির নিরাপত্তা বেশি থাকে। তাই ছোট প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতি কর্মীদের আগ্রহ বেশী থাকে।
প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ( Location of the Organization) :
প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কর্মী সংগ্রহের কাজে প্রভাব বিস্তার করে। অনেক ব্যক্তি শহর এলাকায় চাকরি করতে চায় কারণ শহর এলাকায় নাগরিক সুযোগ সুবিধা বেশি। আর এই কারণেই শহর এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানে, গ্রাম এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি মানুষ আকৃষ্ট হয়।
প্রতিষ্ঠানের ভাব-মূর্তি (Image of the organization) :
প্রতিষ্ঠানের ভাব-মূর্তি কর্মী সংগ্রহে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যে সব প্রতিষ্ঠানের সুনাম আছে সেই সব প্রতিষ্ঠানে সবাই কাজ করতে চায়। প্রতিষ্ঠানের সুনাম মূলত নির্ভর করে তার উৎপাদিত পণ্যের মান, শ্রম ঘূর্ণায়মানতা, শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক, কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর । তাই বলা হয় যে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ভালো না হলে মেধাবী ও প্রতিভাবান প্রার্থীদের আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা (Scope of growth and expansion of the organization) :
প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা কর্মী সংগ্রহে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ যদি দ্রুত হয় বা ভবিষ্যতে যদি দ্রুত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা থাকে তাহলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীরা অধিক আগ্রহ প্রকাশ করে। আর এই জন্য দ্রুত সম্প্রসারণশীল ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য যোগ্য মানবসম্পদ সংগ্রহ অনেক সহজ হয়ে যায় ।
বেতন-ভাতা, কার্যপরিবেশ ও অন্যান্য সুবিধাদি (Salary, allowance, environment and other benefits):
প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা, কার্যপরিবেশ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানসংক্রান্ত নীতি কর্মী সংগ্রহ কাজে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে । যে সব প্রতিষ্ঠানে উচ্চহারে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ উন্নত কার্যপরিবেশ নিশ্চিত করা হয়, সে সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী আকৃষ্ট হয়। অপর দিকে স্বল্প বেতন-ভাতা, কম সুযোগ সুবিধা এবং কর্ম পরিবেশের ঘাটতিযুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী সংগ্রহ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
বাহ্যিক উপাদান (External factors):
কর্মী সংগ্রহসংক্রান্ত যেসব উপাদানের ওপর প্রতিষ্ঠানের ও কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তাকে কর্মী সংগ্রহের বাহ্যিক উপাদান বলে। নিম্নে প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক উপাদান সমূহ আলোচনা করা হলো:
শ্রমবাজার (Labor market):
প্রতিষ্ঠান যে এলাকায় অবস্থিত সে এলাকার মানুষের বেকারত্ব অথবা কর্মসংস্থানের হার প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংগ্রহে প্রভাব বিস্তার করে। প্রতিষ্ঠান যে এলাকায় অবস্থিত সে এলাকার আশেপাশের এলাকাতেও যদি বেকারত্বের হার বেশি হয় তাহলেও অনানুষ্ঠানিক কর্মী সংগ্রহের ক্ষেত্রে চাকরি প্রত্যাশীদের আধিক্য দেখা যায় ।
চাহিদা ও জোগান (Demand and supply):
কর্মী সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে কর্মীদের সহজলভ্যতা বা প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের জন্য যদি যোগ্যতা সম্পন্ন যথাসংখ্যক কর্মী বাহ্যিক উৎস থেকে পাওয়া না যায় তাহলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভর ও করতে হয় এবং সে ক্ষেত্রে কর্মরত কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে যোগ্য করে পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদ বা সৃষ্টপদ পূরণ করতে হয়।
প্রচলিত আইন-কানুন ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ (Public policy and Goverment control):
দেশের প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি-নিষেধ মানব সম্পদ সংগ্রহের কাজে প্রভাব বিস্তার করে। জেলা কোটা, মহিলা ও উপজাতি কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ইত্যাদি স্বাভাবিক কর্মী সংগ্রহ কার্যে প্রভাব ফেলে। শিশু ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত আইন- কানুন বিবেচনা করে কর্মী সংগ্রহের কার্য সম্পাদন করতে হয়। এই সব আইন-কানুন কর্মী সংগ্রহ কার্যে প্রভাব বিস্তার করে।

প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংগ্রহের নীতিমালা ( Recruitment Policy of competitive organization) :
প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংগ্রহ নীতিমালা প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংগ্রহকে প্রভাবিত করে। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংগ্রহ নীতিমালা যদি অধিক আকর্ষণীয় হয় তাহলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হবে।
