আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় নির্দিষ্ট মানব সম্পদ কৌশলসমূহ । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৩ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
নির্দিষ্ট মানব সম্পদ কৌশলসমূহ

কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কী করতে চায় তা নির্ধারণপূর্বক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো হতে পারে নিম্নরূপ :
১। মানব মূলধন ব্যবস্থাপনা (Human Capital Management) :
এক্ষেত্রে কর্মীদেরকে মূলধন হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁদের সম্পর্কে উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে, যেন মূল্য সংযোজনকারী কর্মীদেরকে ভালোভাবে পরিচালনা করা যায় এবং কৌশলগত বিনিয়োগ কার্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় ।
২। উচ্চ-কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা (High-Performance Management) :
উচ্চমাত্রার কার্যসম্পাদন নিশ্চিত করতে হলে উচ্চতর কার্যপদ্ধতির উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে ।
৩। ব্যবসায়ের সামাজিক দায়িত্ব (Corporate Social Responsibility) :
ব্যবসায়কে নৈতিকতার সাথে পরিচালনায় অঙ্গীকার করতে হবে, যেন সমাজ ও পরিবেশের উপর এর অনুকূল প্রভাব পড়ে।
8। সাংগঠনিক উন্নয়ন (Organizational Development) :
প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের জন্য এমন কর্মসূচি হাতে নিতে হবে, যেন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং যে কেউ পরিবর্তনে সাড়া দিতে সক্ষম হয়।
৫৷ কার্যসংশ্লিষ্টতা (Work Engagement) :
কার্য পলিসি এমনভাবে উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে, যেন কাজের সাথে কর্মীরা বেশি করে সংশ্লিষ্ট থাকে ।
৬। জ্ঞান ব্যবস্থাপনা (Knowledge Management ) :
শিক্ষা ও কার্যসম্পাদন বৃদ্ধি করার জন্য। জ্ঞান সৃষ্টি, অর্জন, আয়ত্তকরণ, অন্যের সাথে বিনিময় ও ব্যবহার করতে হবে
৭। মানব সম্পদ (HR) :
প্রতিষ্ঠানের জন্য উচ্চ গুণ সম্পন্ন বা উচ্চ মানের কর্মীদেরকে আকৃষ্টকরণ ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পলিসি গ্রহণ করতে হবে।
৮। মেধা ব্যবস্থাপনা (Talent Management) :
প্রতিষ্ঠানের সফলতার জন্য পর্যাপ্ত মেধাসম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠানকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, তার পর্যাপ্ত সংখ্যক মেধাসম্পন্ন লোকবল রয়েছে।
৯। শিক্ষা ও উন্নয়ন (Learning & Development) :
কর্মীদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন ও উন্নয়ন করতে পারে।
১০। পুরস্কার (Rewarding) :
প্রতিষ্ঠানের একটি সুন্দর পুরস্কার নীতি থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানকে বলতে হবে যে, ভবিষ্যতে কীভাবে এই নীতির উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করতে চায় ।
১১। শ্রমিক-কর্মী সম্পর্ক (Employee Relations) :
প্রতিষ্ঠানকে শ্রমিক-কর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং তা ধরে রাখতে হবে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ বা মনোভাব কী তা স্পষ্ট করতে হবে এবং এ জন্য যা যা করণীয় তা ব্যবস্থাপকদেরকে করতে হবে ।

