আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মানব সম্পদ সংগ্রহের সুবিধা
Table of Contents
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মানব সম্পদ সংগ্রহের সুবিধা

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মানব সম্পদ সংগ্রহের সুবিধা
প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে সৃষ্ট বা শূন্য পদে মানব সম্পদ সংগ্রহের সুবিধা নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
কর্মীদের মনোবল উন্নয়ন (Enhancement of worker’s morale ) :
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পায়। কর্মী যখন দেখে যে, পদোন্নতির জন্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ করা হচ্ছে তখন তার মনোবল অনেকাংশে বেড়ে যায়। পদোন্নতি হচ্ছে কর্মীর কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি। আর প্রতিষ্ঠানের এই স্বীকৃতিদানই কর্মীর মনোবল ও কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয় ।
আনুগত্য বৃদ্ধি (Enhance loyalty of employees towards organization):
অভ্যন্তরীণ উৎস হতে কর্মী সংগ্রহ করলে কর্মীদের আনুগত্য বৃদ্ধি পায়। কর্মী যখন দেখে পদোন্নতির জন্য কর্মী সংগ্রহ করে তাদের কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে তখন তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি পায় ।
উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহদান (Encouragement for high ambitious employees) :
অভ্যন্তরীণ উৎস হতে কর্মী সংগ্রহ প্রতিষ্ঠানের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মীদের মনে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। কর্মী যখন দেখে পদোন্নতির জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করা হচ্ছে তখন দ্রুত পদোন্নতির আশায় কাজের প্রতি তাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
উত্তম ও যোগ্যতাসম্পন্ন মানব সম্পদ নিয়োগে সহায়ক (Helpful for appointing better and qualified human resources):
যেহেতু প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কর্মরত কর্মীদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সার্বিক বিষয়াদি আগে থেকে জানা যায় এবং মূল্যায়ন করা যায় সেহেতু প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে শূন্য পদে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মী সংগ্রহ সহজ হয় এবং সংগৃহীত কর্মীর মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়াও সহজ হয়ে যায়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি (Establishing cooperative relationship):
প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে কর্মী সংগ্রহ বিভিন্ন শাখার কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক ও শ্রমিক সংঘের মধ্যে উত্তম সম্পর্কের জন্ম দেয় যা শিল্প-সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক ও শ্রমিক সংঘের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন হলে কাজের উত্তম পরিবেশ তৈরি হয় যা কর্মীদের কাজের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দেয়।
খরচ কম হয় (Reduce cost) :
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে কাগজে বা ইন্টারনেটে কোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের জন্য অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন হয়না। তাই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ বাড়তি ব্যয় থেকে বাঁচায়।
সময় বাঁচায় (Save time):
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহরে মাধ্যমে সময় বাঁচানো সম্ভব। কারণ বিজ্ঞাপন দিয়ে বাহ্যিক উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করতে গেলে এবং সংগৃহীত কর্মীদের নির্বাচন ও নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা ধরনের পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।
শ্রম ঘূর্ণায়মানতা হ্রাস (Reduce labor turnover):
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে কর্মরত কর্মীদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীরা যখন দেখে যে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে পদোন্নতির জন্য কর্মী সংগ্রহ করা হয় এবং পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিয়ে তাদের পদবী ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয় তখন শ্রম ঘুর্ণায়মানতা হ্রাস পায় এবং কাজের প্রতি কর্মীদের অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি পায়।
সৎ ও নির্ভরশীল কর্মী নিয়োগে সহায়ক (Helpful for appointing honest and relaible employee):
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে সৎ এবং নির্ভরশীল কর্মী নিয়োগ দেয়া যায়। কারণ অভ্যন্তরীণ কর্মী প্রতিষ্ঠানে পূর্ব থেকে কর্মরত থাকায় তার সততা এবং দায়িত্ববোধ আগেই মূল্যায়ন করা হয়ে যায়। তাই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে তা সৎ ও নির্ভরশীল কর্মী নিয়োগে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

প্রতিভা মূল্যায়ন (Evaluating talent):
পদোন্নতির জন্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তর থেকে কর্মী সংগ্রহ করলে এবং সংগ্রহকৃত কর্মীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে উচ্চতর পদে নিয়োগ করলে কর্মরত কর্মীদের প্রতিভা, যোগ্যতা ও দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়।
