আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ফলপ্রসূ কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগের জন্য সরকারের ভূমিকা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১৩ এর অন্তর্গত।
Table of Contents
ফলপ্রসূ কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগের জন্য সরকারের ভূমিকা

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের কৌশলগত মানব সম্পদ বিভাগ স্থাপনে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো :
১। পলিসি গঠন (Policy Formulation) :
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা যেন সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পাদন করতে পারে, সে দিকে লক্ষ্য রেখে পলিসি তৈরি করতে হবে।
২। সুষ্ঠু কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন (Fair Recruitment & Selection) :
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সরকার কর্মীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি প্রভৃতি বিষয়ে ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক পন্থা নির্দেশ করতে পারে।
৩। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন (Training & Development) :
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও তাদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে পারে ।
৪। কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (SHRM Department) :
সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানেই কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা উচিত।
৫। পরিবীক্ষণ (Monitoring) :
সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের কার্যক্রম নিয়মিত পরিবীক্ষণ করতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মীদের কার্যক্রম শুদ্ধভাবে সম্পন্ন করা যাবে।
৬। আইনের প্রয়োগ (Enforcement of Law) :
যে সকল প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিভাগ রয়েছে, সে সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মিসংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ সুষ্ঠুভাবে করতে হবে।
৭। শান্তি ভঙ্গের জন্য শাস্তি (Punishment for Violation) :
প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মধ্যে যারা সরকারি আইন অমান্য করবে বা শান্তি ভঙ্গ করবে তাদের জন্য শাস্তির বিধান থাকতে হবে।
৮। সংস্কৃতি তৈরি (Creation of Culture) :
প্রতিষ্ঠানে এমন সংস্কৃতি চালু করতে হবে যা সকলে মেনে চলে এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়। সরকারকে এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে হবে।
৯। প্রচার (Publicity) :
‘প্রচারেই প্রসার’। তবে সে প্রচার হতে হবে অনুকূল। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা-বিভাগ প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার হতে হবে ।
১০। শ্রম-ব্যবস্থাপনা ভালো সম্পর্ক (Good Labour Management Relations) :
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যেন শ্রমিকদের সাথে ব্যবস্থাপনার ভালো সম্পর্ক বজায় থাকে সরকারকে এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিতে হবে।

পরিশেষে বলা যায় যে, সরকার হলো সকল প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। সুতরাং সরকার যদি ইচ্ছা পোষণ করে যে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই আলাদা করে কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ চালু করতে হবে এবং এ জন্য যদি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করে, তা হলে খুব সহজেই এটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ।
