কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বোৎকৃষ্ট কার্য পদ্ধতি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় “সর্বোৎকৃষ্ট কার্য পদ্ধতি” । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১ এর অন্তর্গত।

সর্বোৎকৃষ্ট কার্য পদ্ধতি

 

সর্বোৎকৃষ্ট কার্য পদ্ধতি

 

এ পদ্ধতিটি এ ধারণার উপর ভিত্তি করে গঠিত যে, প্রতিষ্ঠানে একটি উৎকৃষ্ট মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম রয়েছে যা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে ভালো কার্যের জন্য অবশ্যম্ভাবীভাবে পরিচালিত হবে। এগুলো হলো সর্বজনীন। কারণ এগুলো যে কোনো পরিস্থিতির জন্য উৎকৃষ্ট পন্থা।

সর্বোৎকৃষ্ট কার্যপদ্ধতির তালিকা :

প্রিফার (Preffer) কর্তৃক উদ্ভাবিত সর্বোৎকৃষ্ট-কার্যপদ্ধতির তালিকা নিম্নরূপ:
১। চাকরির নিরাপত্তা;
২। সুনির্দিষ্ট সংখ্যক নিয়োগ;
৩। স্ব-পরিচালিত দল;
৪ । কার্যসম্পাদনের উপর উচ্চ বেতন ও পারিশ্রমিক ব্যবস্থা;
৫। দক্ষ ও প্রণোদিত কার্যশক্তির জন্য প্রশিক্ষণ;

৬। মর্যাদাগত পার্থক্য কমিয়ে আনা এবং
৭। তথ্যের আদান-প্রদান ।

 

সর্বোৎকৃষ্ট কার্যপদ্ধতি মডেল এর সমস্যাসমূহ:

সর্বোৎকৃষ্ট-কার্যপদ্ধতি মডেল বিভিন্ন সমলোচক কর্তৃক সমালোচিত হয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:

 

১। কেপেলি ও ক্রোকার-হাফটার (Cappelli and Crocker-Hafter) মন্তব্য করেছেন এভাবে-

সর্বোৎকৃষ্ট কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অতিরঞ্জিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত শিল্পসমূহ আলাদা আলাদা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। ব্যতিক্রমী এ পদ্ধতির কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।

২। পার্সেলও (Purcell) সর্বোৎকৃষ্ট পন্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,

সর্বোৎকৃষ্ট-কার্যে বিশ্বাস ও সম্পদভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে যা অকল্পনীয় সম্পদের উপর আলোকপাত করে । পরিস্থিতিমূলক তত্ত্বানুযায়ী, প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশের সম্পর্কের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠান কী করবে তা নির্ভর করে কর্মীরা কি করে। তাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থার সর্বজনীনতা গ্রহণ করা কঠিন। একটি প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করলে অন্য প্রতিষ্ঠানও যে ভালো কাজ করবে তা বলা যায় না। কারণ, হয়ত এটি কৌশল, সংস্কৃতি, ব্যবস্থাপনা স্টাইল, প্রযুক্তি বা কার্যপদ্ধতির সাথে খাপ খাওয়াতে পারেনি।

৩। বেকার ও সহযোগীগণ (Becker etal) মন্তব্য করেন যে,

প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ কার্যসম্পাদন সিস্টেম হলো একটি উচ্চতর আদর্শিক পদ্ধতি এবং এটি অতি যত্ন সহকারে ব্যবহার করতে হবে, যেন প্রতিটি পরিস্থিতিতে এটি কাম্য ফলাফল অর্জন করতে পারে।

যাই হোক, সর্বোৎকৃষ্ট পন্থাটির জ্ঞান সকলের নিকট জ্ঞাত করানো যায়, যেটিকে প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত বলে মনে হবে। যতদূর বোঝা যায়, কেন এটি সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হিসেবে গন্য হয় এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য যে এটি ভালো তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কী করা উচিত, তা জানতে হবে।

বেকার ও গারহার্ট (Becker and Gerhart) যুক্তি দেন যে,

সর্বোৎকৃষ্ট পন্থার ধারণাটি কার্যপন্থা নির্ধারণের নীতিসমূহ চিহ্নিতকরণের জন্য অধিক যথোপযুক্ত। তবে এটিকে সর্বোৎকৃষ্ট-কার্যপন্থা’ বলে চিন্তা না করে ভালো কার্যপন্থা’ বলে আখ্যায়িত করা উচিত।

 

সর্বোৎকৃষ্ট কার্য পদ্ধতি

Leave a Comment