আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব ও কৌশলগত সি,এস,আর সংজ্ঞা। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১২ এর অন্তর্গত।
কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব ও কৌশলগত সি,এস,আর সংজ্ঞা

কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব
মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজে সকলেই একত্রে বসবাস করে। সমাজের বিভিন্ন পক্ষ প্রত্যেকের উপর কোনো না কোনোভাবে নির্ভরশীল। যেমন: উৎপাদনকারী, ক্রেতা-বিক্রেতা, প্রতিষ্ঠান, এজেন্সি, মালিক প্রভৃতি। এরা সকলেই সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন করা। তথাপি সমাজের কল্যাণসাধন করাও এর অঙ্গীকার।
সুতরাং সমাজের কল্যাণসাধনের প্রতি প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারকে প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়িত্ব বলে। অন্যভাবে বলা যায়, প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সিএসআর পালন করা হয় যখন তারা নৈতিক উপায়ে তাদের ব্যবসায়কে পরিচালনা করে। সামাজিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় রেখে ।
Mc Williams ও তার সহযোগীরা বলেন, “সিএসআর হলো ব্যবসায় কর্তৃক গৃহীত এমন কার্যক্রম যা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের বাইরে সমাজের জন্য কিছু ভালো কাজ।” Porter and Kramar বলেন, “ব্যবসায় ও সমাজকে একত্রে গ্রথিত করার প্রক্রিয়া হলো সিএসআর।” Bartol & Martin বলেন, “সিএসআর হলো প্রতিষ্ঠানের সেইসকল কার্যক্রমের প্রতি দায়বদ্ধতা যেন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি সমাজের কল্যাণ ও অগ্রগতি সাধিত হয়।”
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে সিএসআর এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়-
(i) এটি সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করে;
(ii) এটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত লক্ষ্যসমূহ অর্জনের চেষ্টা করে;
(iii) এটি সামাজিক উপাদানসমূহের প্রতি সাড়া দেয়;
(iv) এটি শ্রমিক-কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করে;
(v) এটি নৈতিকভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করতে উৎসাহিত করে।
সুতরাং বলা যায় যে, যখন প্রতিষ্ঠান নিজের কল্যাণের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন পক্ষের কল্যাণের জন্য কাজ করে এবং নৈতিকভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে, তাকে সিএসআর বলে ।
Porter and Kramer বলেন, কৌশল হলো সবসময় পছন্দের বিষয় অর্থাৎ বহু বিকল্প থেকে যুৎসই বিকল্প বেছে নেওয়া। তারা আরও বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পছন্দ করতে পারে এবং দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে সমাজের সমন্বিত উদ্যোগসমূহ, তারাই সফল প্রতিষ্ঠান। তারা বিশ্বাস করেন যে, এটি হলো সিএসআর যেন কোম্পানি সমাজের প্রতি বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এবং এভাবে বড় ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণ করতে পারে ।
সিএসআর কৌশল ব্যবসায় কৌশলের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু এটি মানব সম্পদের সাথেও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। কারণ এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ও বাইরে নৈতিক আচরণ দ্বারা সম্পৃক্ত। এর অর্থ হলো এমনভাবে কার্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেন ব্যক্তিগত ও চাকরিগত অধিকারসমূহ সংরক্ষিত হয় এবং মানব সম্পদ পলিসি যেন কর্মীদেরকে ন্যায়সংগতভাবে ব্যবহার করে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, কৌশলগত সিএসআর হলো এমন বিষয় যা প্রতিষ্ঠান, সমাজ, পরিবেশ, কর্মীদের পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনমান প্রভৃতি বিবেচনায় রেখে সমাজের সার্বিক কল্যাণ সামনে রেখে ব্যবসায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ।

