আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কর্মিসংশ্লিষ্টতা ও কর্ম সংশ্লিষ্ট কর্মী কাকে বলে । যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৬ এর অন্তর্গত।
কর্মিসংশ্লিষ্টতা ও কর্ম সংশ্লিষ্ট কর্মী কাকে বলে

কর্মসংশ্লিষ্ট কর্মী কাজের ক্ষেত্রে সবসময় অনুকূল থাকে। তারা কাজের প্রতি আগ্রহী, এমনকি তাদের কাজ নিয়ে তারা উত্তেজিত থাকে এবং কাজ সম্পাদনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতেও প্রস্তুতি নেয় তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে।
Towers Perrin বলেন, ‘ ,“কর্মিসংশ্লিষ্টতা বলতে বুঝায় একটি পরিসর যার মাধ্যমে কর্মীরা তাদের কার্যসম্পাদনে ব্যতিক্রমী বা একচ্ছত্র প্রচেষ্টা প্রয়োগ করে। এটি নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত সময়, মেধাশক্তি বা শক্তি বহির্ভূত প্রচেষ্টাকে বুঝায়।” প্রতিষ্ঠানের একটি কর্মিসংশ্লিষ্টতা কৌশল থাকতে হবে, যেখানে কার্যসম্পাদনের সবরকম প্রচেষ্টাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রতি যখন কোনো কর্মী একাগ্রচিত্তে আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে উদ্যত হয় এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কার্যসম্পাদন করে, তাকে কর্মিসংশ্লিষ্টতা বলে ।
কর্মসংশ্লিষ্ট কর্মী কাকে বলে
Bevan, Barber and Robinson বলেন, “একজন কর্মসংশ্লিষ্ট-কর্মী তাকেই বলে যিনি ব্যবসায় সম্পর্কে সতর্ক থেকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সহকর্মীদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে কার্যসম্পাদন উন্নয়ন করে।”
এ সম্পর্কে Robinson ও সহযোগীদের গবেষণায় আরো বিস্তারিত বলা হয়েছে। তারা বলেন, একজন কর্মসংশ্লিষ্ট-কর্মী হলো, যিনি-
(i) কাজের প্রতি অনুকূল;
(ii) প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বাস করেন এবং প্রতিষ্ঠানেই নিজেকে চিহ্নিত করেন;
(iii) ভালো জিনিসের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেন;
(iv) অন্যকে সম্মানের সাথে দেখুন, ফলপ্রসূভাবে কার্যসম্পাদনে সহকর্মীদেরকে সহায়তা করেন;
(v) তাকে বিশ্বাস করা যায় এবং তিনি কাজের প্রয়োজনের বাইরেও কাজ করেন;
(vi) তার কার্যক্ষেত্রের উন্নয়ন সম্পর্কে নিজেকে সদা প্রস্তুত রাখেন;
(vii) প্রাতিষ্ঠানিক কার্যসম্পাদন উন্নয়নের জন্য সুযোগ সন্ধান করেন;
(viii) এমনকি নিজের খরচের বিনিময়ে হলেও প্রতিষ্ঠানকে বড় করে দেখেন ।
পরিশেষে বলা যায় যে, একজন কর্মী যখন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সবসময় নিজেকে কাজে নিয়োজিত রাখে, সহকর্মীদের কাজে সহযোগিতা করে, তার বরাদ্দকৃত কাজ সম্পাদনের বাইরেও কাজ করতে আগ্রহী থাকে, তাকে কর্মসংশ্লিষ্ট কর্মী বলে ।

