আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির কৌশল। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ৬ এর অন্তর্গত।
কার্যসংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির কৌশল

নিম্নবর্ণিত উপায়ে কর্মসংশ্লিষ্টতা কৌশলসমূহের উন্নয়ন সাধন করা যায় :
১। সংশ্লিষ্ট কাজ (The Work itself) : কাজের মাধ্যমে কর্মীদের অন্তঃপ্রণোদনা সৃষ্টি করা যায় এবং কার্যসংশ্লিষ্টতা নির্ভর করে মূলত কার্যনকশার উপর। Lawler তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন, যা অন্তঃ প্রণোদনার জন্য প্রয়োজন:
i) প্রত্যুত্তর (Feedback) : কর্মীদেরকে তাদের কার্যসম্পাদন সম্পর্কে অর্থপূর্ণ প্রত্যুত্তর অবশ্যই জানাতে হবে। তাদের সম্পাদিত কার্য মূল্যায়নপূর্বক তা জানাতে হবে। সেখানে বলতে হবে যে, তারা আদর্শগতভাবেই কাজ করেছে এবং তাদের প্রত্যেকের কাজই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা পূর্ণাঙ্গ হিসেবেই দেখা হচ্ছে ।
ii) সক্ষমতা ব্যবহার (Use of Abilities) : সংশ্লিষ্ট কাজটি কর্মীদের হৃদয়ঙ্গম করতে হবে এবং কাজটি ফলপ্রসূভাবে সম্পাদনের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।
iii) নিজেকে নিয়ন্ত্রণ (Self Control) : এখানে নিজেকে নিয়ন্ত্রন বলতে কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের স্বাধীনতাকে বুঝিয়েছে অর্থাৎ কর্মীকে অনুভব করতে হবে যে, কার্যলক্ষ্য নির্ধারণে তাদের উচ্চ মাত্রার স্বাধীনতা রয়েছে । নতুন কার্য সিস্টেম স্থাপনে এই পন্থাটি ব্যবহার করা যেতে পারে এবং কৌশলে তাদের জন্য দিক নির্দেশনা থাকতে হবে যারা কার্যপদ্ধতি উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত।
তবে লাইন ম্যানেজারগণ প্রতিদিনের জন্য যে কার্যনকশা প্রণয়ন করেন তার উপর কার্যসংশ্লিষ্টতা ব্যাপক নির্ভরশীল। সুতরাং কৌশল নির্ধারণের সময় লাইন ম্যানেজারদেরকে নেতৃত্বের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেন তারা ভালো কাজ ও কার্যনকশা প্রণয়নে কার্যসংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে ।
২। কার্যপরিবেশ (The Work Environment) : কার্যপরিবেশের মাধ্যমে কার্যসংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির কৌশল এমন হতে হবে যেন কাজের প্রতি কর্মীদের অনুকূল মনোভাবের সংস্কৃতি গড়ে উঠে এবং কাজে যেন তাদের আগ্রহ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক চাপ কমে যায়।
Laud End বিশ্বাস করেন যে, কর্মীদের মধ্যে যারা নিজেদেরকে আনন্দিত মনে করে, যারা সমর্থন পায়, এবং উন্নয়ন করে এবং যারা নিজেদেরকে পরিপূর্ণ ও সম্মানিত মনে করে, তারা ক্রেতাদেরকে উত্তম সেবা প্রদান করে। এটি চিন্তা করে দেখা যেতে পারে যে, কোম্পানি কেন কর্মীদেরকে সরাসরি উৎসাহিত করতে চায় কর্মীদের নিকট একটু হলেও আলাদা কিছু চায় কোম্পানি আর তা হলো- মান, সেবা ও মূল্য।
কৌশলীকে কার্যপরিবেশের বিশেষ দিকও বিবেচনা করতে হবে, বিশেষ করে- যোগাযোগ, সংশ্লিষ্টতা, কর্মজীবন সমতা এবং কার্যপরিবেশ। এটি মেধাসম্পর্ক ব্যবস্থাপনা (Talent Relationship Management) পলিসি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে বা কর্মীদের কার্যভূমিকার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, কর্মীদের প্রত্যেককে সুন্দরভাবে বিবেচনা করে। তাদের মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দেয়, তাদেরকে কথা বলার অধিকার দেয় এবং উন্নয়নের সুযোগ দেয় ।
৩। নেতৃত্ব (Leadership) : কর্মীদের কার্যসংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির জন্য কৌশল নির্ধারণী নেতৃত্বকে কৌশলকে সরলরৈখিক ম্যানেজারদের ভূমিকা কি হওয়া উচিত সে দিকে নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে যেন তারা বুঝতে পারে যে, তাদের নিকট থেকে কী ধরনের কাজ প্রত্যাশা করা হয় এবং তাদের দক্ষতার ব্যবহার কতটুক হওয়া উচিত।
সম্ভাবনাময় ম্যানেজারদের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে, যেমন- ই-শিক্ষা, কোচিং ও পরিচর্যা। এটিও বোঝা দরকার যে, কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া সরলরৈখিক ব্যবস্থাপকদেরকে একটি প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে যেখানে তারা কার্যসম্পাদন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কর্মীদের কার্যসংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের দক্ষতাকে প্ৰয়োগ করতে পারে।
৪। ব্যক্তিক উন্নয়নের সুযোগ (Opportunities for Personal Growth) : একটি কৌশলে শিক্ষাসংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ থাকা উচিত। এতে শিক্ষার উন্নয়ন হয় কারণ এটি উচ্চ ব্যবস্থাপনা, সরলরৈখিক ব্যবস্থাপক এবং কর্মীদের দ্বারা স্বীকৃত। এটি অবশ্যম্ভাবীভাবে একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া যার প্রতি তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং তারা এ প্রক্রিয়ায় সর্বক্ষণক কার্যরত থাকে ।
Reyrolds শিক্ষা সংস্কৃতি সম্পর্কে বলেন যে, “এটি প্রবৃদ্ধির একটি মাধ্যম যেখানে কর্মীদেরকে একটি সীমিত পরিসরে স্বাধীন আচরণ প্রদর্শনে অঙ্গীকার করতে বলা হয়, যেখানে শিক্ষার বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতায়ন, তত্ত্বাবধান নয়, স্বব্যবস্থাপনায় শিক্ষা, নির্দেশনা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতা নয় । ”
বিশেষ করে কৌশলে কর্মীদের বলে দিতে হবে যে, কর্মীদের তাদের কাজের শিক্ষা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে কতগুলো পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই পলিসি কর্মীদের মেধা ব্যবহারের সুযোগ দেয়, যেন তারা তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে পারে। এখানে বলা যায় যে, মেধা ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই যার উপর প্রতিষ্ঠান নির্ভর করে।
দর্শন এমন হওয়া দরকার যে, প্রত্যেকেরই সফল হওয়ার সক্ষমতা আছে এবং তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ লোকদেরকে দিয়ে অসাধারণ বা ব্যতিক্রমী কিছু করানো । নির্ধারিত কৌশলে পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ থাকতে হবে। কর্মীদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সফল পেশা কীভাবে উন্নয়ন করা যায় এবং মেধা ও প্রত্যাশার সাথে মিল করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা থাকতে হবে।
৫। অবদান রাখার সুযোগ (Opportunities to Contribute) : যে সকল মেধাসম্পন্ন কর্মী রয়েছে তারা যেন প্রতিষ্ঠানের কাজে তাদের মেধাকে নিয়োজিত করতে পারে সে সুযোগও নির্ধারিত কৌশলে থাকতে হবে। আবার, তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি যে অবদান রাখবে তার স্বীকৃতিও প্রদান করতে হবে।
কার্যসংশ্লিষ্টতা কৌশল উন্নয়নের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো বর্তমানে কী ঘটছে তা বিবেচনায় রেখে সে আলোকে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এর অর্থ হলো- কার্যসংশ্লিষ্টতার স্তর প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করতে হবে, যেন সফলতা ও ব্যর্থতা চিহ্নিত করা যায় এবং বিশ্লেষণ করতে হবে যে, প্রতিষ্ঠান কী চায় এবং বাস্তবে কী ঘটেছে। এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে। তবেই এ কর্মসূচি সফল হবে এবং কৌশলের যথার্থতা প্রমাণিত হবে।

